ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নতুন হেল্প লাইন ‘১০৯’ -প্রতিমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা আনুষ্ঠানিকতায় গতকাল বুধবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে বাল্যবিয়ের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা হবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের সহায়তায় প্রচলিত হেল্প লাইন ‘১০৯২১’কে সংক্ষিপ্ত করে নতুন হেল্প লাইন ‘১০৯’ ঘোষণা করেন।

সকালে রাজধানীর শেরেবাংলানগরস্থ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নারী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাছিমা বেগম এনডিসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রেবেকা মমিন এমপি, মহিলা বিষয়ক আধিদফতরের মহাপরিচালক বেগম সাহিন আহমেদ চৌধুরী এবং ইউএন উইমেন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ক্রিস্টিন হান্টার বক্তব্য রাখেন।

মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন -২০১৭ কার্যকর হলে আাগামী দুই বছরের মধ্যে বাল্য বিবাহের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসবে। এজন্য যা করা দরকার সরকার তা করবে। আইনের বিশেষ বিধান মেয়েদের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষার্থে রাখা হয়েছে যা আদালত নিশ্চিত করবে এবং এ বিষয়ে শীঘ্রই বিধিমালা প্রণয়ন করা হবে। বিধিমালা প্রণয়নের সময় আইন প্রণেতা এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনোক্রমেই ১৮ বছরের নিচের কোনো মেয়েকে বিয়ে দেয়া যাবে না, যা বর্তমান আইনে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কতিপয় মহল এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। প্রতিটি আইনের কিছু ব্যতিক্রম থাকে, ব্যতিক্রম কখনই উদাহরণ হতে পারে না।

চুমকি বলেন, নারী উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি রোল মডেল। বিমানের পেরাস্যুটার থেকে শুরু করে পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহন, ট্রেন চালক, বিচারপতি, সচিব সবক্ষেত্রেই নারীর পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে। নারীকে তার যথাযথ মর্যাদা দেয়ার জন্য সরকার নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

এ অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ৫টি ক্যাটাগরিতে ৫ জন নারীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে শার্লী মেশৌপ্রু, শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী হোসনে আরা, সফল জননী নারী হিসেবে মিসেস ফিরোজা বেগম, নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরু করেছেন যে নারী এ ক্যাটাগরিতে মর্জিনা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী এ ক্যাটাগরিতে আরিফা ইয়াসমিন ময়ুরীকে জয়িতা পদক প্রদান করা হয়। স্বীকৃতি হিসেব তাদেরকে দেয়া হয় একটি সার্টিফিকেট, একটি ক্রেস্ট এবং পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক। 

এদিকে দুপুরে নয়াপল্টনস্থ যাদু মিয়া মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে’ বাংলাদেশ মহিলা ন্যাপ আয়োজিত আলোচনা সভায় নারীর প্রতি সকল প্রকার শোষণ-বৈষম্য রোধ করতে আধুনিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তির উত্থান প্রয়োজন বলে অভিমত প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের নারী সমাজ বর্তমানে আধনিকতার নামে অনেক বেশি শোষণ আর ভোগের শিকার হয়ে পড়েছে। তাদের জীবনের নিরাপত্তাহীনতাও বাড়ছে।

মহিলা ন্যাপ সমন্বয়কারী অধ্যাপিকা শিউলী সুলতানার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ন্যাপ যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ শাহজাহান সাজু, সম্পাদক কামাল ভূঁইয়া, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, নগর সদস্য সচিব মো. শহীদুন্নবী ডাবলু, জাতীয় ছাত্র কেন্দ্রের সমন্বয়কারী সোলায়মান সোহেল, মহিলা ন্যাপ সমন্বয় কমিটির সদস্য আমেনা খাতুন মনি প্রমুখ। 

‘নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব কর্মে নতুন মাত্রা’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এ উপলক্ষে সকালে বিশ্ববিদ্যালয় উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়।

র‌্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইমদাদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক সমাবেশে নারীদের সমসুযোগ ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সমতায়ন তথা নারী-পুরুষের সমঅংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজ এগিয়ে যাবে তখনই, যখন নারী-পুরুষ সমানভাবে এগিয়ে যাবে। সমাজ ও দেশের উন্নয়নে নারীদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারীদের শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রতি বছরের মতো এবারও আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ডিআরইউ’র কর্মসূচির মধ্যে ছিল নারী সদস্যদের নিয়ে শোভাযাত্রা ও আড্ডার আয়োজন। ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা ও সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানীর নেতৃত্বে র‌্যালিটি সকাল ১১টায় ডিআরইউ চত্বর থেকে শুরু হয়। পরে র‌্যালিটি মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সামনে দিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে পুনরায় ডিআরইউতে এসে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকল সদস্যকে গোলাপ ফুল দিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানান। নারী সদস্যদের আড্ডায় আজ ডিআরইউ চত্বর ও বাগান ছিল উৎসবমুখর। উল্লেখ্য, শোভাযাত্রা ও আড্ডায় উপস্থিত সকল নারী সদস্যের জন্য টিশার্ট ও গিফ্টের ব্যবস্থা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ