ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সাবেক এমপি ডা. ইকবালের স্ত্রী ছেলেমেয়েরা কারাগারে

স্টাফ রিপোর্টার: সম্পদের তথ্য গোপন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা এইচ বি এম ইকবালের স্ত্রী মমতাজ বেগম, তাদের দুই ছেলে ও মেয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পর তাদের জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। ঢাকার এক নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আতাউর রহমান গতকাল বুধবার শুনানি করে এই আদেশ দেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ইকবাল ও তার স্ত্রী, ছেলেমেয়েকে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুদকের মামলায় সাজা দিয়েছিল জজ আদালত। হাইকোর্ট পরে ইকবালকে খালাস দেয় এবং স্ত্রী-সন্তানদের রায় স্থগিত করে। কিন্তু আপিল বিভাগ গতবছর ইকবালের স্ত্রী-সন্তানদের আবেদন খারিজ করে দিলে ওই চারজনের সাজার বাধা কাটে।

এর চার মাস পর গতকাল বুধবার জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ইকবালের স্ত্রী মমতাজ বেগম ডলি, ছেলে মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল এবং মেয়ে নওরীন ইকবাল।

শুনানি শেষে বিচারক জামিন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে আসামীদের আইনজীবী প্রাণনাথ গণমাধ্যমকে জানান।

আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল এইচ বি এম ইকবাল প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান। তার ছেলে ইমরান ইকবাল ওই ব্যাংকের একজন পরিচালক। আরেক ছেলে মঈন ইকবাল ও মেয়ে নওরীন ইকবালও একসময় পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

বিগত সেনা নিয়ন্ত্রত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৭ মে ইকবাল, তার স্ত্রী ও সন্তানদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে এ মামলা করে দুদক। পরের বছর ১১ মার্চ বিশেষ জজ আদালত এ মামলার রায়ে ইকবালকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে। তার স্ত্রী ও সন্তানদের তিন বছর করে কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়। ওই বছর ১৭ সেপ্টেম্বর ইকবালের ভাইয়ের আবেদনে হাইকোর্ট এ মামলায় জজ আদালতের দেয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করে। ওই সাজা কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়।

জরুরি অবস্থার সময় জারি করা বহু মামলা ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বিবেচনায় বা অন্য কারণে বাতিল বা খারিজ হয়ে যায়। ইকবালের আবেদনে ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট তাকে এ মামলা থেকে খালাস দেয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ