ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভবন ভাঙ্গতে ৩ বছর সময়  চাইলো বিজিএমইএ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীর হাতিরঝিলে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বহুতল ভবন ভাঙতে তিন বছর সময় চেয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে তৈরি পোশাক সংশ্লিষ্ট আমদানি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিজিএমইএ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করতে তিন বছর সময় লাগবে। গতকাল বুধবার বিজিএমইএর পক্ষে সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়েছে। বিজিএমইএ’র আইনজীবী ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত রোববার (৫ মার্চ) বিজিএমইএ ভবন ভাঙ্গার ব্যাপারে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদনটি খারিজ করেন সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়ের ফলে ভবনটি ভেঙে ফেলতেই হচ্ছে। তবে কত দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙতে হবে সেই বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের বেঞ্চ আদেশ দেবেন। তার আগে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করলো।

রিভিউ খারিজের পর বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন নতুন একটি ভবন তৈরি পর্যন্ত সময় চাওয়া হবে বলে জানান। তবে কোথায় এবং কবে এই ভবন তৈরি হবে সেটা নিশ্চিত নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ভবন করতে জমি খোঁজা হচ্ছে।

পরদিন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, ভবন তৈরির জন্য বিজিএমইএকে রাজধানীর উত্তরায় জমি দেয়া হবে। এখন জমি খোঁজা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, নিজস্ব ভবন না থাকলেও বিজিএমইএর কার্যক্রম চালাতে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তারা ভাড়া করা ভবনেই চলতে পারবে।

গত বছর ৮ নবেম্বর বিজিএমইএর আপিল খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে এতে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবন অবৈধ, অবিলম্বে এটি ভাঙ্গতে হবে। ভবন ভাঙ্গার যাবতীয় খরচ বিজিএমইএকেই বহন করতে হবে। বিজিএমইএ না ভাঙ্গলে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। এ জন্য যে অর্থ প্রয়োজন তা বিজিএমইএর কাছ থেকে নিতে বলা হয়েছে। বিজিএমইএর ‘লিভ টু আপিল খারিজের’পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ নির্দেশ দেয় আপিল বিভাগ। পরবর্তীতে একমাস পর ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন দায়ের করে বিজিএমইএ। রিভিউ আবেদনে আপিল বিভাগের রায় স্থগিত করে বহুতল ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য তিন বছরের সময় চাওয়া হয়।

হাইকোর্ট ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করায় বিজিএমইএর ভবন নির্মাণ অবৈধ ঘোষণা করে। রায়ে বলা হয়, বিজিএমইএ ভবনটি সৌন্দর্যমন্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ক্যান্সারের মতো। ২০১৩ সালের ১৯ মার্চ ৬৯ পৃষ্ঠার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে আপিল করে বিজিএমইএ। এরপর গত বছর ২ জুন আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিল। 

হাতিরঝিলের এ ভবনটি বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুকারক ও রফতানিকারক সমিতির প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ২০ বছর আগে বহুতলবিশিষ্ট বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়। 

রাজউকের অনুমোদন ছাড়া বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ বিষয়ে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের দৃষ্টিতে আনেন আইনজীবী ডি এইচ এম মুনিরউদ্দিন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ওই বছরের ৩ অক্টোবর হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ স্বঃপ্রণোদিত হয়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না এ প্রশ্নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে। ওই রুলের উপর চুড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ