ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

উত্তর কোরিয়ার ইটের জবাবে মালয়েশিয়ার পাটকেল!

৮ মার্চ, বিবিসি : কিম জং নামের হত্যা নিয়ে উত্তর কোরিয়া ও মালেশিয়ার সম্পর্কে চরম উত্তেজনা চলছে। দুই দেশই একে অপরের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। উত্তর কোরিয়া প্রথমে তারা দেশে থাকা সব মালয়েশিয়ান নাগরিককে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে মালয়েশিয়ানদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পিয়ংইয়ংয়ের এ পদক্ষেপের পর কুয়ালালামপুরও বসে নেই। একই কাজ কাজ তারাও করেছে। উত্তর কোরিয়ার ইটের জবাবে তারা পাটকেল দিতে ভোলেনি।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সৎ ভাই কিম নামের হত্যাকে কেন্দ্র কররে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। কিম নামকে গত মাসে নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে মালয়েশিয়ান বিমানবন্দরে হত্যা করা হয়। এজন্য এই হত্যাকাণ্ডের জন্য উত্তর কোরিয়াকেই দায়ী করা হচ্ছিল। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কিম নামের হত্যার ঘটনা তদন্তও শুরু করেছে মালয়েশিয়া। উত্তর কোরিয়া এ তদন্ত না করে তিম নামের মৃতদেহ ফেরত দিতে বলেছিল। কিন্তু তারা না করে তদন্ত শুরু করেই। সেখান থেকেই এই উত্তেজনা শুরু।
এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়া ও মালয়েশিয়া একে অপরের রাষ্ট্রদূতেদের বহিষ্কার করেছে। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সঙ্গে বিবাদ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের সব নাগরিকদের সাময়িকভাবে পিয়ংইয়ংয়ে আসতে নিষেধ করা হচ্ছে। এখানে যারা আছেন তাদেরও দ্রুত দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হচ্ছে।
পাল্টা জবাবে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক বলেছেন, এটা খুবই জঘন্য কাজ। আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিক সব নিয়ম লঙ্ঘন করে তারা এ কাজ করেছে। তাদের এ ঘোষণা শুনে মনে হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার আছে মালয়েশিয়ার কাছে জিম্মি। নিজ দেশে নাগরিকদের রক্ষা করার আমার প্রধান দায়িত্ব। নিজ দেশর স্বার্থে আমরা কোনো ধরনের পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা বোধ করবো না।
কিম নামের হত্যা নিয়ে মালয়েশিয়ার তদন্তেরও কড়া সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি কুয়ালামলামুপরে মৃতদেহটি যে কিম জং নামের সেটিও নিশ্চিত করেনি উত্তর কোরিয়া। তাকে শুধু একজন উত্তর কোরিয়ার নাগরিক হিসেবেই তারা স্বীকার করেছে।
যদিও মালয়েশিয়া ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেনি। তবে সন্দেহের তীর পিয়ংইয়ংয়ের দিকেই। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে অভিযোগে বেশ কয়েকজন উত্তর কোরিয়ার নাগরিককে খুঁজছে মালয়েশিয়ার পুলিশ। এরই মধ্যে একজন ইন্দোনেশীয় এবং একজন ভিয়েতনামের নারীকে ওই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সৎভাই কিম জং ন্যামের হত্যাকাণ্ড জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা সত্বেও দেশটির সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার কোনো পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার নেই। গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে এ কথা বলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ