ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুলনায় প্রতি মাসে গড়ে ২২ জন  নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার 

খুলনা অফিস : মহানগরীসহ খুলনা জেলার ৯ উপজেলায় খুলনায় প্রতি মাসে গড়ে ২২ জন নারী ও শিশু নির্যাতন, ছয়জন ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। সমাজে হেয়পতিপন্ন হওয়ার ভয়ে অনেকেই বিচার প্রার্থনা না করে নিরবেই চোখের পানি ফেলছে। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের হার বেশি। নবেম্বর-ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেলায় ২১টি ধর্ষণ এবং ৯০টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয় ২৭৯ জন।

খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নবেম্বর মাসে পাঁচটি, ডিসেম্বর মাসে দু’টি, জানুয়ারি মাসে চারটি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ১০টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এছাড়া নবেম্বর মাসে ২৭, ডিসেম্বর মাসে ১৬, জানুয়ারি মাসে ২০ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ২৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নারী পাচার হয়েছে একটি।

খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজান জেলার আইন-শৃঙ্খলা  পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে উল্লেখ করেন।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, এখানকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা ভালো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ সফলতা এসেছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) এসএম শফিউল্লাহ বলেন, গ্রাম পর্যায়ে বিচারের মাধ্যমে ছোট-খাট দাম্পত্য কলহ নিরসন হওয়ায় মামলার সংখ্যা কমেছে। পাশাপাশি ন্যায় বিচার নিশ্চিত হওয়ায় অপরাধ কার্যক্রমের সংখ্যাও কমেছে। কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলায় দারিদ্রতা ও অশিক্ষার কারণে অল্প বয়সী মেয়েরা শ্বশুর বাড়ি গিয়ে মানিয়ে নিতে পারছে না। ধর্ষণ মামলার ৯০ শতাংশ আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে।

খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস ফাতেমা জামিন বলেছেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে ১০টি পরিবারের দাম্পত্য কলহ নিরসন, ভরণ-পোষণ দিয়ে বিচ্ছেদের মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মীরা সক্রিয় রয়েছে। ভবঘুরে ও পতিতাদের জন্য কুষ্টিয়ায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। জেলায় নবেম্বর মাসে ২৭৫টি, ডিসেম্বরে ২৬৯টি, জানুয়ারি মাসে ২৯৫টি, ফেব্রুয়ারি মাসে দু’শতাধিক বিভিন্ন অপরাধে মামলা দায়ের করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ