ঢাকা, বৃহস্পতিবার 09 March 2017, ২৫ ফাল্গুন ১৪২৩, ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অ্যাথলেটিক ফেডারেশনে অনিয়মের অভিযোগ

মাহাথির মোহাম্মদ কৌশিক : বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা হয়েছে এখানে। এক সময়কার সম্ভাবনাময় খেলাটির ফেডারেশনকে নিয়মের মধ্যে আনা যাচ্ছেনা। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন অন্ত নেই। যার সর্বশেষটি হচ্ছে নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচিত কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও নতুন করে নির্বাচন না করার চেষ্টা হিসেবে স্থগিত করা হয়েছে নির্বাচন। এর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) থেকে পাওয়া অর্থের পরও তৃণমূলে খেলোয়াড় বাছাই করা হয়নি। তারও আগে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের অ্যাথলেটিক টার্ফের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করানো হয় বেনামী এক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে।
এছাড়া আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগও বেশ পুরনো। কিছুদিন পূর্বে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেও তা স্থগিত করেছে এনএসসি। চলতি মাসের শেষের দিকে এ ফেডারেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও আপাতত তা হচ্ছেনা। এ বিষয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব অশোক কুমার বলেছেন,‘অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ এসেছে আমাদের কাছে। এ অবস্থায় নির্বাচন করা সমীচীন হবে না। তাই নির্বাচন স্থগিত করেছি।’ নির্বাচন স্থগিত করে কি অ্যাডহক কমিটি গঠণ হবে অ্যাথলেটিক ফেডারেশনে, এমন প্রশ্নের জবাবে এনএসসি সচিবের উত্তর, ‘আসলে তা এখন আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। ফেডারেশনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে যে অভিযোগ পাল্টা-অভিযোগ আছে তা খতিয়ে দেখতে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক (অর্থ) মো. শহিদুল্লাহকে প্রধান করে গঠিত এ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের উপরই নির্ভর করছে আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ’। ফেডারেশনের সভাপতি এএসএম আলী কবীরও অভিযোগ করেছিলেন। সেখানে সভাপতির অনুমতি ছাড়া ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ এনেছিলেন সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। ফেডারেশনের বর্তমান সভাপতিই আর চাইছেন না বিতর্কিত কারো কাছে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ থাকুক। সবচেয়ে বড় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন খেলোয়াড় বাছাই করতে গিয়ে। তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ একটি বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করে গত বছর। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প বাস্তবায়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো ১৫ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ফুটবল ও অ্যাথলেটিকসে। নিজেদের জৌলুস ফেরাতে মরিয়া ফুটবল যখন তৃণমূলের কার্যক্রম শেষ করে চূড়ান্ত পর্বের সকল কার্যক্রম শেষ করেছে ঠিক তখন বেশি বরাদ্দ পেয়েও কোনো সাড়া নেই অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের। এনএসসি প্রতিভা অন্বেষা কার্যক্রমে সর্বোচ্চ ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছিলো অ্যাথলেটিক ও ফুটবল। তবে কোনো ফেডারেশনকেই এককালীন দেয়া হয়নি বরাদ্দকৃত অর্থ। চারটি কিস্তিতে সবগুলো ফেডারেশনকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ধাপে ধাপে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে বরাদ্দকৃত কিস্তিগুলো নেয়ার কথা। ২২ লাখ ২৮ হাজার টাকা প্রথম কিস্তি হিসেবে নিয়েছে অ্যাথলেটিক ফেডারেশন। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ৩১ জেলায় তারা প্রাথমিক পর্যায় সম্পন্ন করেছে। কিন্তু এ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেনি। ফলে মনিটরিংও করা যায়নি বলে জানিয়েছেন এনএসসি প্রতিভা অন্বেষা কার্যক্রম সমন্বয়ক কামরুল ইসলাম কিরণ। অভিযোগ আছে, তারা নামসর্বস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এদিকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছে অ্যাথলেটিক ফেডারেশনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ। তার আগেই ১০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে চারটি চেকে এ অর্থ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ফেডারেশনের সভাপতি। এ বিষয়ে এএসএম আলী কবীর বলেন, ’আমার সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করে ১০ লাখ টাকার বেশি তুলে নিয়েছেন তারা। সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলে তা করেছেন। কী কারণে এ কাজ করা হয়েছে আমি তা জানতে চেয়ে সাধারণ সম্পাদককে চিঠি দিয়েছি। এটা অনেক বড় অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা। এর চেয়ে অনৈতিক তো আর কিছু হতে পারে না। ফেডারেশনের হিসাব যৌথভাবে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অর্থ সম্পাদক মিলে পরিচালনা করবেন। ৩ জনের মধ্যে যেকোনো দুজনের স্বাক্ষরে টাকা তুলতে পারেন। আমাকে না জানিয়ে তারা দুজন টাকা তুলে নিয়েছে’। এদিকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে  কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান বলেন, ’এটা নিছকই ভুল বোঝাবুঝি। আলী কবির স্যার নিয়মিত অফিসে আসেন না, মাঝে আবার অসুস্থও ছিলেন। তবে টাকা-পয়সা তোলার বিষয়গুলো ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক সময় সময়ে স্যারকে অবহিত করেন। আর টাকাগুলো তোলা হয়েছে ফেডারেশনের কাজেই। স্যারের কথা হলো কোনো কার্যক্রমের আগে ফাইলপত্র পাঠিয়ে বিস্তারিত জানিয়ে টাকা পাস করিয়ে নেয়া হোক। সেটা করা হয়নি বলেই এটা আমাদের ভুল বোঝাবুঝি’। অর্থ সম্পাদকের মতোই বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দাবি করেছেন ইব্রাহিম চেঙ্গিস নিজেও। তার দাবি এসব অর্থ তিনি ফেডারেশনেই খরচ করেছেন। সকল হিসাবনিকাশ সম্পন্ন হলে উল্টো তিনি ফেডারেশনের কাছে টাকা পাবেন। অর্থ উঠানো নিয়ে ফেডারেশন সভাপতি বলেন, ‘যখন টের পেলাম, সর্বনাশ হয়ে গেছে, তখন ব্যাংক হিসাবে লেনদেন বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এটা অনেক বড় অনিয়ম, আর্থিক বিশৃঙ্খলা।’ অনেক আগেই গৌরব হারিয়ে দেশের অ্যাথলেটিক এখন খুবই করুণ অবস্থায়। প্রতিদিনই যেন একটু একটু করে পিছিয়েছে।
এদিকে অ্যথলেটিকসের কার্যক্রমে মোটেও খুশি নন প্রতিভা অন্বেষণের প্রধান সমন্বয়কারী বাদল রায়। প্রোগ্রামের জন্য টাকা বরাদ্দ নিয়ে তারা যথাযথ কাজ করেছে কি না, তার সন্দেহ আছে। বিভিন্ন মাধ্যমে নামসর্বস্ব কার্যক্রমের কথা শুনেছেন তিনি। এ ব্যাপারেও ফেডারেশনের সভাপতি কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন সাধারন সম্পাদককে, ‘তিনি ফেডারেশনের প্রধান এক্সিকিউটিভ হলেও ক্রীড়া পরিষদের প্রতিভা অন্বেষণ নিয়ে প্রথমে কিছুই জানাননি আমাদের। ক্রীড়া পরিষদের নিয়মানুযায়ী, একটি বাস্তবায়ন কমিটি করতে হবে।
সেটাও তিনি করতে চাননি। পরে আমার হস্তক্ষেপে একটি কমিটি গঠন করা হলেও প্রতিভা অন্বেষণ হয়েছে খুবই দায়সারাভাবে। অথচ অ্যাথলেটিকসের চেহারা ফেরানোর জন্য ক্রীড়া পরিষদের এই উদ্যোগটা খুব উপযোগী ছিল।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ