ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সামরিক কি চুক্তি হচ্ছে জনগণকে জানতে হবে ---মির্জা ফখরুল 

 

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ও সামরিক চুক্তি হচ্ছে তা জনগণ জানতে চায় উল্লেখ করে সরকারকে তা জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও সামরিক চুক্তি করবেন কিন্তু দেশের জনগণ জানবে না- এটাতো হতে পারে না। সরকারের পক্ষ থেকে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির যে চিত্র দেখানো হচ্ছে তা সঠিক নয় দাবি করে এ বিষয়ে ক্ষমতাসীনদেরকে সম্মুখ ডিবেটে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। ‘বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১১ তম কারাবরণ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ড্যাব। 

সরকারের চুক্তি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের হিন্দুস্থান টাইমস, হিন্দু পত্রিকায় দেখছি, আমাদের দেশেও কয়েকটি পত্রিকায় বেরিয়েছে, চুক্তি করছেন, নিরাপত্তা ও সামরিক চুক্তি করছেন। দেশে দেশে নিরাপত্তা চুক্তি হয়, সামরিক চুক্তি হয়। বাংলাদেশের চুক্তি ভারতের সঙ্গে করবেন জনগণ কিছুই জানবে না, এটা তো হতে পারে না। এখন পর্যন্ত একটা চুক্তি আপনারা জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি। এটা হচ্ছে ম্যানডেটরি যে, জনগণের সামনে গণতান্ত্রিক দেশে চুক্তিগুলো উপস্থাপন করতে হবে। সেটা করা হচ্ছে না। 

শুধু তাই নয়, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবার বোধ হয় ভারতের সাথে পানি সমস্যার কিছুটা সুরাহা হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত একফোঁটা পানিও তিস্তা নদীতে পাইনি।

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাংলাদেশের সদাশয় সরকারের অতি দক্ষতার কারণে গোটা পৃথিবীতে এখন এই ধারণা দেয়া হচ্ছে যে বাংলাদেশ একটি জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। আজকে বাংলাদেশের মানুষকে ভিসা সঙ্কটে পড়তে হচ্ছে। আমাদের যারা কাজ করতে যান সিঙ্গাপুরে, তাদের অনেককে ফেরত আসতে হচ্ছে। কেন? সুনির্দিষ্টভাবে আপনারা (সরকার) এগুলো তদন্ত করছেন না। 

জঙ্গিবাদকে সমুলে নির্মূল করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে আমেরিকা তিনটি দেশকে জঙ্গিবাদ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দেশগুলো হচ্ছে- পাকিস্তান, আফগানিস্তান এবং বাংলাদেশ। 

এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েকদিন ধরে নতুন একটা ড্রামা শুরু হয়েছে, খেয়াল করছেন কি না জানি না। প্রথম ড্রামাটা হলো টঙ্গিতে। আমরা জানি না, আসল ব্যাপারটা কী? সাংবাদিক ভাইরা কতটুকু বুঝতে পারছেন, আমি বুঝতে পারছি না। কুমিল্লার বাসস্টপে দেখা গেলো জঙ্গি আক্রমণ হলো, ছবি বিরাট করে দিয়ে দিয়েছে। ইজ ইট পসিবল? ওই সময়ে ওই মুহূর্তের মধ্যে একটা ছবি তুলে, গান পয়েন্টে দেখা যাচ্ছে যে ছবিটা আসছে, আমি জানি না, আপনারা (সাংবাদিক) ভালো বলতে পারবেন। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। একটা বাড়িতে কেউ নেই, সেই বাড়ি থেকে গ্রেনেড উদ্ধার করছেন। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়। সরকারকে এবিষয়ে গ্রহণযোগ্য যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। রাস্তার উপর এবং  ডোবায় লাশ পড়ছে। কেনো ?

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, বিএনপি জঙ্গি দমনে জাতীয় ঐক্য  তৈরি করার আহ্বান জানালেও সরকার তাতে কর্ণপাত না করে উল্টো তার দলের নেতাদের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার দায় চাপানোর চেষ্টা করছে।

উন্নয়ন সম্পর্কে সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, এ দেশে এতো এতো প্রবৃদ্ধির কথা শুনছেন, আপনারা যদি কোনো নিরপেক্ষ অর্থনীতিবিদের সঙ্গে কথা বলেন, যদি তাদের সমীক্ষা দেখেন, তাহলে বুঝতে পারবেন আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নতির কথা বলছে তা ঠিক নয়! তারা উন্নতির নামে ভুল পরিসংখ্যান দিচ্ছে মানুষকে। দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির যে চিত্র দেখানো হচ্ছে তা সঠিক নয়। ভুল পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। সরকারকে বলবো, এ বিষয়ে আসুন সেমিনার ও আলোচনা করি। আপনারাও প্রমাণ দিন, আমরাও প্রমাণ করি কত ব্যাংক শেষ করেছেন।

নির্দলীয় ও সহায়ক সরকার সংবিধানে নেই আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, মানুষের জন্য সংবিধান, সংবিধানের জন্য মানুষ নয়। তারা সংবিধানকে বাইবেল বানিয়ে দিয়েছেন, যেন কখনো পরিবর্তন করা যাবে না। তাহলে প্রজাতন্ত্র হলো কিভাবে, জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটবে কিভাবে। এটা মানুষের সাথে প্রতারণা করা, তাদের বোকা বানানো। আওয়ামী লীগ জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হবার কারণে এসব করছেন বলেও মন্তব্য করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে তো আপনারা নির্বাচন চাইবেনই। কারণ জনগণ থেকে তো আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। কয়েকটি নির্বাচনেই তার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

তারেক রহমানের উপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১/১১ সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সরকারের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তারা একই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। শেখ হাসিনা নিজেই এই সরকারকে আন্দোলনের ফসল বলেছিলেন। একই সাথে এই সরকারের সকল কার্যক্রমের   বৈধতা দেয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

হুম্মাম কাদেরের গুম হওয়া প্রসঙ্গে মির্জা আলমগীর বলেন, হুম্মাম কাদের চৌধুরী তো যুদ্ধাপরাধী নন বা অন্য কোনো ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত না। মামলার হাজিরা দিতে এলে তাকে তুলে নিয়ে গেল। পরিষ্কারভাবে পত্র-পত্রিকায় উঠল যে সাদা পোশাকধারী এসে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। ৭ মাস পরে তাকে ফেলে দিয়ে গেল তার বাড়ির সামনে। নো এনসার। গোটা জাতির সামনে এটার কোনো উত্তর নেই। লাশ পড়ে থাকছে রাস্তার ধারে ডোবার ধারে, নো এনসার।

 দেশে বিএনপির নেতাকর্মীসহ জনগণের উপর নির্যাতনের কথা উল্লেখ মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণ ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের কাছে বিচার দিতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে হবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তারা তো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন চাইবেই। কারণ তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতো হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পরও ৪ টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন আমরা বের করে এনেছি।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে তিনি আরো বলেন, সরকার যা করছে, তা সবই রাজনৈতিক। তাই আমাদেরকে জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের কাছে অভিযোগ করতে হবে। কারণ জনগণই একমাত্র জায়গা। জনগণ ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।

ফখরুল বলেন, আজকের এই দিনটি বিশেষ দিন। কারণ ১৯৭১ সালে আজকের এদিনে মাওলানা ভাসানী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী ঘরানা ছাড়া আর কারো মুক্তিযুদ্ধের অবদান তারা স্বীকার করে না।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে তারা  পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। ঘাট, মাঠ সবই তাদের। তাদের বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তাদের গ্রেফতার, জেল-নির্যাতন করে দমীয়ে রাখা হবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের দেয়া বক্তব্য, সংবিধানে নির্দলীয় সরকারের কোনো কথা উল্লেখ নেই- এর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, সংবিধানে কী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা লেখা ছিল? তখন তো নিজেদের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করেছিলেন। তার মানে, নিজেদের প্রয়োজনে যখন ইচ্ছা সংবিধান পরিবর্তন করবেন আর অন্যের জন্য সংবিধানের উপর পাথর চাপা দিয়ে রাখবেন।

তিনি আরো বলেন, দেশকে এককভাবে শাসন ও দখল করে রাখার জন্যই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। তার উপর এতো নির্যাতন চালানো হয়েছে। 

সংগঠনের সহসভাপতি এম এ কুদ্দুসের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য দেন- যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকনসহ অন্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- ড্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ