ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

জিয়া অরফানেজ মামলা  পুনঃতদন্তের আবেদন খারিজ

 

স্টাফ রিপোর্টার : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার পুনঃতদন্ত চেয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন, এতিমখানার তহবিলে সৌদি আরব থেকে অর্থ এসেছে আসলে এই অর্থ দান করেছেন কুয়েতের আমীর। তদন্তে মিথ্যা ও ভূল তথ্য দেয়ার এই অংশের পুনঃতদন্তের আবেদন করা হয়েছিল হাইকোর্টে।

গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেন। গত মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার পক্ষে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা পুনঃতদন্ত চেয়ে আবেদন করেন আইনজীবীরা। বুধবার এই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে পরদিন আদেশের দিন ধার্য করেন আদালত।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রেজ্জাক খান ও আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া।

এর আগে হাইকোর্টের একই বেঞ্চ গত বুধবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার করা অনাস্থার আবেদন গ্রহণ করে বিচারক পরিবর্তনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। মামলাটি ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে স্থানান্তর করতে বলা হয়। একইসঙ্গে আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে এ মামলা নিষ্পত্তিরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। মামলার কোথাও বলা নেই খালেদা জিয়া দুই কোটি ১০ লাখ টাকার একটি টাকাও নিয়েছেন। সাক্ষীরাও এরকম কথা বলেনি। আসামীপক্ষের মামলায় পুনঃতদন্ত চাওয়ার কোনো নজির আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরকম মিথ্যা মামলা এই পৃথিবীতে এই একটিই হয়েছে। তবে পুনঃতদন্তে আদেশ দেয়ার ক্ষমতা হাইকোর্টের আছে। সে বিবেচনা থেকে আবেদনটি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই বলেন, খালেদা জিয়া অর্থ চুরি করেছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যদি এই মামলার এজহারটি পড়তেন তাহলে অর্থ চুরির কথাটি আর বলতেন না। 

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে একটি অংশ পুনঃতদন্ত চেয়ে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। তাদের পক্ষ থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ চাওয়া হয়েছিল। সে বিষয়েও কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি আদালত। তিনি বলেন, আমরা আদালতে বলেছি, মামলায় আসামীপক্ষে পুনঃতদন্ত চাওয়া হয়েছে এরকম কোন নজির এই উপমহাদেশে নেই।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় খালেদা জিয়াসহ আসামী মোট ছয়জন। অন্য পাঁচ আসামী হলেন-বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।

এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন ৩২ জন সাক্ষী। জামিনে থাকা দুই আসামী কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদ আত্মপক্ষ সমর্থন করে আদালতে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন। ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ