ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে মাঠে নামছে ইসি

 

মিয়া হোসেন: নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা সৃষ্টি করতে মাঠে নামছে কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া কয়েকটি উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এজন্য চলতি মাসে অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন (কুসিক) নির্বাচন এবং গাইবান্ধা-১ ও সুনামগঞ্জ-২ সংসদীয় আসনের উপ-নির্বাচনকে ঘিরে কঠোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর মাসজুড়ে অনুষ্ঠেয় এসব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতি আস্থার ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে চায় সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি। নির্বাচনগুলো অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও সর্বজনগ্রাহ্য করতে এরই মধ্যে নির্বাচনী ছক তৈরির কাজও শেষ। 

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনী পরিবেশ রক্ষায় তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি কুমিল্লা সিটির জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখারও নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। একইসঙ্গে নির্বাচনগুলোর প্রতিটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর কি পরিমাণ সদস্য মোতায়েন হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে বলে ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে গতকাল নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক শেষে সিইসি কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আসন্ন দু’টি উপ-নির্বাচন এবং কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থার ক্ষেত্র তৈরি হবে। এসব নির্বাচনে প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী নামানো হবে জানিয়ে সিইসি বলেন, আপাতত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো সিদ্ধান্ত নেই। তবে তারা সবসময় প্রস্তুত থাকবেন। প্রয়োজন হলে তাদের তাৎক্ষণিক নামানো হবে। 

নুরুল হুদা বলেন, আমাদের দেশে একসঙ্গে ৩০০ আসনের নির্বাচনও সুষ্ঠু হওয়ার নজির রয়েছে। তাই মাত্র ২/৩টি নির্বাচনে আশঙ্কার কিছু নেই। ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন এবং বাড়িতে গিয়ে নিরাপদে থাকতে পারেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ভোটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ নির্বাচনী দায়িত্ব পালনরত কেউ অনিয়ম করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেন তিনি। 

এর আগে নির্বাচন কমিশনের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেন সিইসি। বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের প্রতিনিধি, মহাপুলিশ পরিদর্শক, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়/জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে সিইসি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে ইসিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলে বৈঠকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে অংশ নেয়া কর্মকর্তারা বলেছেন, এই নির্বাচন কমিশনের ওপরে যেন আস্থার ক্ষেত্র তৈরি হয় সেভাবে কাজ করবেন তারা। বৈঠকে জঙ্গি হামলা বা নাশকতার বিষয়ে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বিশেষ করে এ বিষয়ে আমরা সুন্দরগঞ্জ নিয়ে বেশি সতর্ক থাকবো।

কুমিল্লায় ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পরিকল্পনা : আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়া আরো ৯ প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ রাখা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কুমিল্লায় ১৭ দিন মোট ২৭ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। আর নির্বাচনের আগে ও পরে ৪ দিন ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকায় থাকবেন। এছাড়া সাধারণ ভোট কেন্দ্রে মোট ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ফোর্স মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে থাকবে ২৪ জন আইনশৃঙ্খলার ফোর্স। প্রতিটি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ, আনসার অস্ত্রসহ ৩ জন, লাঠিসহ আনসার ১২ জন মোতায়েন করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে ৭ জন পুলিশ, আনসার অস্ত্রসহ ৫ জন, লাঠিসহ আনসার ১২ জন দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া র‌্যাবও দায়িত্বে থাকবে। 

অতিরিক্ত ফোর্স থাকবে দুই উপ-নির্বাচনে : ইসি সূত্র জানায়, গতকালের বৈঠকে দুই উপ-নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গাইবান্ধা-১ আসনের উপ-নির্বাচনে সাধারণ ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ২২ জন সদস্য আর ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ করে সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে ৫০টি টিম মোবাইল ফোর্স হিসেবে থাকবে; স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে ১৭টি। এছাড়া র‌্যাবের ১৭টি টিম কাজ করবে। আর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের ৫ প্লাটুন সদস্য নিয়োজিত থাকবে।

এদিকে সুনামগঞ্জ-২ আসনের উপ-নির্বাচনের সাধারণ ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বাহিনীর ২২ সদস্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন করে সদস্য নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে মোবাইল টিম ৪৪টি, স্ট্রাইকিং টিম ১৫টি, র‌্যাবের ১৫টি টিম ও ৪ প্লাটুন বিজিবি নিয়োজিত থাকবে।

বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধকরণ : নির্বাচন প্রভাবমুক্ত করতে যারা সিটি করপোরেশন এলাকার ভোটার নন তাদের ২৭ মার্চ রাত ১২টার পূর্বে উক্ত এলাকা ত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য এলাকার প্রভাবশালীরা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। 

আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল : রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচনের ৩ দিন পূর্বে আইনশৃঙ্খলা সেল স্থাপন করা হবে। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন।

যান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা : কুমিল্লায় ২৯ মার্চ দিবাগত রাত ১২ টা থেকে ৩০ মার্চ দিবাগত মধ্য রাত পর্যন্ত কয়েক ধরনের যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। এছাড়া ২৮ মার্চ মধ্য রাত থেকে ৩১ মার্চ সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।

১৭৩ ইউপিতে ভোট ১৬ এপ্রিল : আগামী ১৬ এপ্রিল দেশের ১৭৩টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ৫৫টি ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচন। আর ১০১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন পদে উপ-নির্বাচন এবং ১৭টি ইউনিয়নের সাধারণ নির্বাচনের সময় বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রগুলোতে এ ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব এলাকায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ২০ মার্চ। যাচাই-বাছাই ২১ মার্চ। আর প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৮ মার্চ ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ