ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

রোববার থেকে ঢাকায় ১৪ দেশের পুলিশ প্রধানদের আঞ্চলিক সম্মেলন

স্টাফ রিপোর্টার : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসসহ আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনে আগামী ১২ মার্চ রোববার ঢাকায় শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশিয়া ও পাশের দেশগুলোর পুলিশ প্রধানদের আঞ্চলিক সম্মেলন। ইন্টারপোল ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার পুলিশ সদর দফতরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক এ কথা জানান।

আইজিপি জানান, সম্মেলনে ১৪টি দেশের পুলিশ প্রধানরা অংশ নেবেন। দেশগুলো হচ্ছে আফগানিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, ব্রুনাই, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, নেপাল, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম। রোববার সকালে রাজধানীর একটি পাঁচতারা হোটেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন।

তবে সাম্প্রতিককালে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তানের নাম সারা পৃথিবীতে আলোচিত হলেও এ সম্মেলনে দেশটির কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত থাকছে না উল্লেখ করে আইজিপি শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা তাদেরকে অংশ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানিয়ে (পাকিস্তান) চিঠি পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা কোনও উত্তর দেয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে সবসময় যাদের ( যেসব দেশের) যোগাযোগ আছে, তাদের নিয়েই এ কনফারেন্স (সম্মেলন) হচ্ছে।’

তিনি জানান, সম্মেলনের তিনদিনের ১৪ টি সেশনে আন্তঃদেশীয় অপরাধ ও সন্ত্রাস দমনে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়, আন্তঃদেশীয় অপরাধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন, এ অঞ্চলের পুলিশ প্রধানদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম গঠন, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে পেশাগত ও কৌশলগত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা নিয়ে আলোচনা হবে। ১৪ দেশের প্রতিনিধির যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে এ সম্মেলন শেষ হবে বলেও জানান তিনি।

কলকাতায় গ্রেপ্তার ইদ্রিসকে দেশে আনা হবে : কলকাতায় গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন জঙ্গি মো. ইদ্রিসকে দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক। সন্দেহভাজন জেএমবি নেতা ইদ্রিসকে গ্রেপ্তারের খবর ভারতের সংবাদ মাধ্যমে আসার প্রেক্ষাপটে গতকাল ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে জানতে চাইলে একথা জানান আইজিপি।

ইদ্রিস গত বছরের গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় জড়িত ছিলেন বলে ভারতের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঢাকায় ওই হামলায় ১৭ বিদেশী নিহত হন।

শহীদুল হক বলেন, “সে (ইদ্রিস) গুলশান হামলায় জড়িত কি না, তা জানতে তাকে (বাংলাদেশে) এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”

চলতি সপ্তাহের শুরুতে কলকাতার বড় বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার ইদ্রিসকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় ইংরেজি দৈনিকটি। প্রতিবেদনে তাকে গুলশান হামলার একজন ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “দিল্লী পুলিশের বিশেষ একটি সেল কলকাতা পুলিশকে খবর দেয়, বড় বাজারের এক আস্তানায় লুকিয়ে আছেন ইদ্রিস। তিনি কলকাতা ও হায়দ্রাবাদের মধ্যে ঘোরাফেরা করছেন এবং রোহিঙ্গাদের অধিকারের পক্ষে সরব হওয়ার কথা তরুণদের জঙ্গিবাদে টানার চেষ্টা করছেন বলে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল পুলিশের কাছে।”

গুলশান হামলাকারীদের সবাই কমান্ডো অভিযানে মারা পড়েছিলেন। এরপর কয়েকটি অভিযানে নিহত হন সন্দেহভাজন আরও কয়েকজন জঙ্গি নেতা, যারা ওই হামলার পরিকল্পনায় ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের দাবি। 

 গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, ভারতীয় পুলিশ ইদ্রিসকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশের পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে জানিয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ চাইলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগও তাদের দেয়া হতে পারে।

 গোবিন্দগঞ্জে চিনিকলের জমিতে সাঁওতালদের ঘরে আগুন দেয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার দুই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করে দেয়া পুলিশ প্রতিবেদনের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আইজিপি বলেন, “আজ এ বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তাহলে এই সংবাদ সম্মেলনের ফোকাস নষ্ট হবে।”

জঙ্গি দমনে ফেসবুকের সঙ্গে বৈঠক করবে পুলিশ : জঙ্গিবাদ দমনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবে বাংলাদেশ পুলিশ। ফেসবুকে জঙ্গিদের তৎপরতা ও প্রোপাগান্ডা নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে এ বৈঠকে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়ে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দমন এখন বিশ্বব্যাপী পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনও একক দেশের পক্ষে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমন করা সম্ভব নয়। জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সহযোগিতা ও সমন্বয়। তাই জঙ্গিবাদ দমনে বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও আলাদাভাবে করণীয় ও কর্মপরিকল্পনা ঠিক করা নিয়ে বৈঠক করা হবে।’

আইজিপি বলেন, তিন দিনব্যাপী সম্মেলনে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকবেন। থাকবেন যুক্তরাষ্ট্রের আইজিসিআই, এফবিআই, আসিয়ানপোলসহ বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও।’

 বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ সদর দফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ এ পর্যন্ত প্রায় সাতশ’ জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের বেশিরভাগেরই বক্তব্য হচ্ছে, ফেসবুকসহ অনলাইন প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হয়ে তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়েছে। আর এ প্রোপাগান্ডা বেশি হচ্ছে ফেসবুকের মাধ্যমে। তাই এ বিষয়টিকে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। যেহেতু চাইলেই ফেসবুকের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা তারা নিতে পারেন না। তাই এ সম্মেলনে ইন্টারপোলের সহায়তায় তারা ফেসবুক কর্তৃপক্ষকেও উপস্থিত করাতে যাচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ