ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দুই কিশোরকে নির্যাতন আওয়ামী লীগপন্থী ২ ইউপি সদস্য গ্রেফতার

রাজশাহী অফিস : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় ছাগল চুরির কথিত অভিযোগে দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালানোর ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতনের শিকার দুই কিশোরের একজন উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের কিশোর জার্জিস হোসেনের বাবা জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে বুধবার রাতে দুর্গাপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেছেন। 

মামলায় আওয়ামী লীগপন্থী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল এবং দুই ইউপি সদস্যসহ মোট আটজনকে আসামী করা হয়। এদিকে, গতকাল বেলা ১১টার দিকে অভিযান চালিয়ে ওই মামলায় দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ওসি জানান, এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। আর মামলার আসামী স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডলসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃত দুই ইউপি সদস্য হলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিব মীর্জা। তবে পলাতক রয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল। এদিকে, নির্যাতনের শিকার উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতনকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরে তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে বলে দাবি করেছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া দুই কিশোরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও জানান তারা। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার (৭ ফ্রেবুয়ারি) দিবাগত রাতে আন্দুয়া গ্রামের ক্যাচিনি ফকিরের ছেলে রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি হয়ে হয়। উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন নামের দুই কিশোর ওই ছাগলটি চুরি করে বলে সন্দেহ করা হয়। বুধবার সকাল ৬টার দিকে ইউপি সদস্য আব্দুল মোতলেব তাদের নিজ জিম্মায় ছাড়িয়ে নিয়ে আন্দুয়া গ্রামে যায়। এরপর বেলা ১১টার দিকে ছাগল মালিক রেজাউলের বাড়ির পাশেই গ্রাম্য সালিশ বসানো হয়। সালিশী বৈঠকে ওই দুই কিশোরকে গাছে বেঁধে বেধড়ক পেটানো হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিবারের লোকজনকে খবর দেয়া হলে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এসময় কথিত ওই গ্রাম্য সালিশী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মন্ডল, আন্দুয়া গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল মোতালেব ও হাড়িয়াপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য মির্জা আব্দুল লতিব। পরে ওই দুই কিশোরকে তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ওই দুই কিশোরকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকায় দিনভর চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তবে এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মন্ডলসহ অভিযুক্তদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ