ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৭৫ টাকার ইনজেকশন এক  হাজার টাকায় পুশ!

 

খুলনা অফিস : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে ৭৫ টাকার ইনজেকশন এক হাজার টাকায় পুশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন অভিযোগ পাওয়ার ৪০৩ নম্বর কক্ষের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এস.এম. শামসুজ্জোহার সাথে কথা হলে তিনি বললেন, ‘ওই ইনজেকশনটি সবাই পুশ করতে পারেন না। এ জন্য রোগীকে বাইরে থেকে দিতে বলা হয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালে ওই ইনজেকশনটি পুশ করার মত পরিবেশ নেই’।

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লি. এর ট্রায়ালন নামের একটি ইনজেকশনের বাজারমূল্য ৭৫ টাকা ২৫ পয়সা। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের চর্ম বিভাগে আসা এক রোগীকে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকের নাম দিয়ে বলা হলো ওই ইনজেকশনটি সেখান থেকে দিতে প্রয়োজন হবে এক হাজার টাকা। হাসপাতালের ৪০৩ নম্বর কক্ষের সামনে থাকা এক বহিরাগত দালালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এভাবেই রোগীদের বাইরে পাঠিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।

মেডিকেলের বাইরে অপেক্ষমাণ আরেকজন রোগী বললেন, কিছুদিন আগে বাইরে থেকে ইনজেকশনটি কিনে আনার পর হাসপাতালেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাকে পুশ করেন। বিনিময়ে সেখানে থাকা বহিরাগত দালালের হাতে দিতে হয় ৫শ’ টাকা। টাকা গ্রহণের বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজী না হলেও হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মচারী জানান, আগে হাসপাতালেই ইনজেকশনটি পুশ করে দেয়া হতো। কিন্তু রোগীর ভিড় বেড়ে যাবার কারণে এখন আর এখানে পুশ করা হয় না।

বাগেরহাটের ফকিরহাট থানাধীন লকপুর এলাকা থেকে আসা নাসিমা (৩০) নামের এক রোগী বললেন, বুধবার ডাক্তার দেখানোর পর তিনি কয়েকটি ওষুধ লিখে দেয়ার পর মামুন নামের এক ব্যক্তিকে দেখিয়ে তার সাথে যেতে বলেন। মামুন পরে ডা. এস.এম. শামসুজ্জোহার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে নগরীর ৩৫, কেডিএ এভিনিউর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলেন ওই রোগীকে। কার্ডের পেছনে স্বাক্ষর রয়েছে মামুনের। রয়েছে বিভিন্ন সংকেতও। একই ধরনের কার্ড পাওয়া যায় ৪০৩ নম্বর কক্ষের সামনের কয়েকজন রোগীর কাছেও।

তেরখাদা থেকে আসা সিয়াম (৬) নামের এক রোগীর অভিভাবক জানালেন, বিগত কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ঘুরেছেন। শেষ পর্যন্ত চর্ম বিভাগের চিকিৎসকের কাছে আসার পর তিনি তার রোগীকেও একইভাবে প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে ইনজেকশন দেয়ার জন্য বলেছেন।

হাসপাতালের রেকর্ড অনুযায়ী চর্ম ও যৌনরোগ বহিঃবিভাগের ৪০৩ নম্বর কক্ষের ডা. এস.এম. শামসুজ্জোহা ১২৪টি রোগী দেখেন। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ১২৪টি রোগী দেখায় হিসাব অনুযায়ী একজন রোগীর জন্য দু’মিনিটও বরাদ্দ ছিল না। এর বাইরেও হাসপাতালের যেসব কর্মচারীদের দেখা হয় তাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি নির্দিষ্ট রেজিষ্ট্রারে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনন্দ মোহন সাহা ছুটিতে থাকায় এ সংক্রান্ত কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ