ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিচার কাজ ত্বরান্বিত করতে আদালতের সংখ্যা বাড়ছে

সংসদ রিপোর্টার : বর্তমান সরকার বিচারকার্য ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে আদালত সংখ্যা বৃদ্ধি করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এ কে এম রহমতুল্লাহ’র এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। 

আইনমন্ত্রী বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তির লক্ষ্যে ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (সহায়ক কর্মচারীসহ) সৃজনের প্রস্তাবে পর্যায়ক্রমে জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি জ্ঞাপনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। অচিরেই সারাদেশে ৪১টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সৃজিত হবে এবং এ সংক্রান্ত মামলাগুলি দ্রুত নিস্পত্তি করা সম্ভব হবে। এছাড়া ৭টি বিভাগে ৭টি সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, ৭টি সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ১১২টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত, ২১৪টি সহকারি জজ আদালত, ৩৪৬টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহায়ক পদ এবং ১৯টি পরিবেশ আদালত ও ৬টি পরিবেশ আপীল আদালত সৃজন পক্রিয়াধীন রয়েছে। এই আদালতগুলো সৃজিত হলে মামলা নিস্পত্তি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। 

বিচারাধীন আয়কর মামলা ২১ হাজার ৩৯৭টি

সরকারি দলের সদস্য মো. নজরুল ইসলাম বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক জানান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আয়কর, শুল্ক ও মূসক অনুবিভাগের বিচারাধীন মামলা ২১ হাজার ৩৯৭টি। এর মধ্যে আয়কর সংক্রান্ত মামলা ৪ হাজার ৫৫টি, ভ্যাট সংক্রান্ত ৩ হাজার ৪৩২টি এবং শুল্ক সংক্রান্ত ১৩ হাজার ৯১০টি। আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালত তথা হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগে আয়কর, শুল্ক ও মূসক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল ও তার নেতৃত্বাধীন অন্যান্য আইন কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে শুধুমাত্র এতদসংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নিয়োগ প্রদান করেছেন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় বড় প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফোন অপারেটর এবং অন্যান্য সংস্থার দায়েরকৃত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

আনিসুল হক বলেন, বিভিন্ন কাস্টম হাউসে ব্যাংক গ্যারান্টি জমা করে মালামাল খালাস নেয়ায় ওই ব্যাংক গ্যারান্টিগুলো আদালতের মাধ্যমে নগদায়ন করা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থায় রাজস্ব সংক্রান্ত মামলা দায়েরের হার বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। এই প্রচেষ্টায় সুপ্রিমকোর্ট স্পেশাল রেভিনিউ কোর্ট নির্ধারণ করায় একদিকে মামলা দায়েরের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে, অন্যদিকে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ