ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাইকগাছা আওয়ামী লীগের কমিটি এক দশকেও হয়নি

খুলনা অফিস: আহ্বায়ক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো দুই বছর আগে। আর মূল কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তারও ৮/৯ বছর আগে, তবুও খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার বিরোধপূর্ণ আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করতে পারেনি কেউ। খুলনার অন্য ৮ উপজেলায় কমিটি থাকলেও পাইকগাছায় বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ নুরুল হক ও সাবেক সংসদ সদস এডভোকেট শেখ সোহরাব আলীর বিরোধের কারণে এই কমিটি হয়নি বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। গত ৮/১০ বছরে কমিটি না হওয়ায় নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়। শেখ বেলাল উদ্দিন বিলুকে সভাপতি ও এসএম মাহাবুবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে তখন কমিটি গঠিত হয়। পদে থাকা অবস্থাতেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুবরণ করেন। এরপর রশিদুজ্জামান মোড়লকে সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) ও আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গীকে সাধারণ সম্পাদকের (ভারপ্রাপ্ত) দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এই কমিটি নতুন কমিটি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৫ সালে গাজী মোহাম্মদ আলীকে আহ্বায়ক ও রশিদুজ্জামান মোড়লকে সদস্য সচিব করে কমিটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। তবে সেই কমিটি গঠনের সময় দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া আর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপর আর কমিটি গঠন হয়নি। ফলে উপজেলায় নেতৃত্ব প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। 

অনেকেই আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, দল ক্ষমতায় আছে বলে এখনও মিছিল সমাবেশে লোক পাওয়া যাচ্ছে। পাইকগাছা উপজেলার নেতৃবৃন্দ বলেন, অবিলম্বে কমিটি গঠন করা না হলে আগামীতে অনেকেই দলীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হবে না।

সূত্র আরো জানায়, পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই পদ ছাড়াও অন্যান্য পদগুলোর জন্য শতাধিক নেতাকর্মী প্রস্তুত হয়ে আছেন। যারা পদের জন্য চেষ্টা করছেন তারাও বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যের অনুসারী। ফলে কাকে বাদ দিয়ে কাকে কমিটিতে রাখা হবে এই নিয়েই জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছেন। উপজেলা সভাপতি পদের জন্য চেষ্টা করছেন আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক গাজী মোহাম্মদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টার অনুসারী মো. আকতারুজ্জামান সুজা, মো. রশিদুজ্জামান মোড়ল। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য চেষ্টা করছেন পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর, উপজেলা পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. দাউদ শরীফ, আনিসুর রহমান মুক্ত, শেখ কামরুল হাসান টিপু, আব্দুর রাজ্জাক মলঙ্গী ও শেখ মনিরুল ইসলাম।

তবে শীর্ষ দুই নেতা শেখ নুরুল হক ও শেখ সোহরাব আলী বলেন, জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কমিটি দিলে তা মেনে নেয়া হবে। নিজেদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই বলেও দাবি করেন তারা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ