ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিএনপিকে নির্মূল করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নানাবিধ অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার

চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রামে সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, বর্তমান সরকার ষড়যন্ত্র ও ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের নানাবিধ মামলা, হামলা ও জুলুম-নির্যাতনের পথ নতুন এক কৌশলে কর্মতৎপর নেতাকর্মীদের মানসিক নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। 

তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত একটি দৈনিকে গোয়েন্দা সংস্থার একটি তালিকার বরাত দিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি নেতা শাহ আলম, এস.কে হোদা তোতন, শওকত আজম খাজা, বাবু টিংকু দাশসহ নেতৃবৃন্দের নামে জড়িয়ে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের বক্তব্য কোনো সংবাদপত্রের বিরুদ্ধে নয়। আমরা যে বিষয়টি উল্লেখ করতে চাই তা হচ্ছে, বর্তমান সরকার দেশের তৃণমূল জনগণের প্রাণপ্রিয় সংগঠন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এবং দেশেনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপিকে নির্মূল করে ও জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে নানাবিধ অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। তারপরও শহীদ জিয়ার এ দলকে কোনোভাবে দমাতে না পেরে বর্তমান ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের এজেন্টের মাধ্যমে বিএনপির তৃণমূলের লড়াকু নেতৃবৃন্দকে মানসিকভাবে হয়রানির পথ বেছে নিয়েছে। 

ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, সরকারের একটি এজেন্টের তালিকায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপি নেতা শাহ আলম, এস.কে হোদা তোতন, শওকত আজম খাজা, বাবু টিংকু দাশসহ নগর বিএনপির বেশ কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বিএনপির দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও সুস্থধারার রাজনৈতিক কর্মকা-ের মাধ্যমে ছাত্রদল ও যুবদলের তৃণমূল স্তর থেকে উঠে আসা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। তিনিসহ অন্যান্য নেতাদের নামে অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে গোয়েন্দা সংস্থার যে তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, মিথ্যা, কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন।

তিনি বলেন, সরকার দলীয় চিহ্নিত টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ী ভূমি দখলকারী ও হত্যা মামলার আসামীদের আড়াল করার কৌশল হিসেবে সরকারের এ তালিকা প্রকাশ। পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, সরকারদলীয় ক্যাডারা প্রকাশ্যে রাজপথে অস্ত্র উছিয়ে মহড়া দেয়ার ছবি। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কোনো তথ্য-প্রমাণ ছাড়া কেবলমাত্র রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভেবে সরকার গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তথাকথিত অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা অবিলম্বে কথিত এ তালিকা থেকে আবুল হাশেম বক্করসহ নগর বিএনপি নেতা এস.কে. খোদাত তোতন, শাহ আলম, শওকত আজম খাজা ও টিংকু দাশকেও তথাকথিত তালিকা থেকে বাদ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় বিএনপি নেতাকর্মীরা রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। 

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন- বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা এম. নাজিম উদ্দীন, নগর বিএনপির সিনিয়র সভাপতি আবু সুফিয়ান, বিএনপি নেতা সাবেক কমিশনার শামশুল আলম, মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, এম.এ আজিজ, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, কাজী বেলাল উদ্দীন, এস.এম সাইফুল আলম, মোহাম্মদ আলী, হারুন জামান, শফিকুর রহমান স্বপন, মোশারফ হোসেন দীপ্তি, ইকসকান্দর মির্জা, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, কামরুল ইসলাম, গাজী মো. সিরাজুল্লাহ, বেলায়েত হোসেন বুলু, সিহাব উদ্দিন মুবিন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ