ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

তিন যুগ ধরে ইয়াতিম শিশুদের সেবায় ছত্রাজিতপুর ইয়াতিমখানা শিশু সদন

 

তারেক হোসাইন টুটুল: সন্ধ্যার পর প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক মো. রশিদুল হককে নিজ অফিসে বসে ছাত্রদের দিনের হিসাব-নিকাশ ও অন্যান্য কাজে ব্যস্ত দেখা যায়। কথা হয় প্রতিষ্ঠানের সূচনালগ্ন থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আদ্যপান্ত কথা। প্রতিষ্ঠানটির শুরু থেকেই তিনি সম্পৃক্ত আছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানে আলিয়া (২৭) এবং হেফজ (২০) (কুরআন) শাখায় মোট ৪৭ জন ছাত্র রয়েছে। ইয়াতিম শিশুদের যাবতীয় খরচ এই প্রতিষ্ঠান থেকে বহন করা হয়। অর্থাৎ তিনবেলা খাওয়া থেকে শুরু করে পোশাক-পরিচ্ছদ, চিকিৎসা এমনকি বই-খাতা-কলমও। ৬/৭ বছরের একজন ইয়াতিম শিশু এখানে ভর্তির পর ১৮ বছর কিংবা দাখিল/এস.এস.সি পরীক্ষা শেষ করা পর্যন্ত যাবতীয় খরচ বহন করে এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সমাজসেবা অধিদফতরের ক্যাপিটেশন গ্রান্টপ্রাপ্ত ৮টি ইয়াতিমখানার মধ্যে শাহ্ নেয়ামত উল্লাহ শিশু সদন (ইয়াতিমখানা), ছত্রাজিতপুর একটি অন্যতম পুরাতন ইয়াতিমখানা। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর শত শত ইয়াতিম শিশুদের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে কাজ করে চলেছে। অভিভাবকহারা এই শিশু সন্তানদের একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ এখান থেকে উপহার দিচ্ছে। অত্র প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস কি এমন প্রশ্নের জবাবে তত্ত্বাবধায়ক জানান, ‘সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস হলো ঈদুল আযহার কুরবানির চামড়া। এখান থেকে মোটা অংকের টাকা জমা হয়। প্রতিষ্ঠানের নামে বাগান, জমি-জায়গা, এলাকার মানুষের দান-খয়রত ইত্যাদি দিয়ে প্রতিষ্ঠানের খরচ চলে।’ তাছাড়া সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবছর একটা বাজেট দিয়ে থাকে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা বাজেট এসেছে। প্রতিমাসে প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক খরচ বাবদ প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়। প্রতিবছর যে বাজেট আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এই প্রতিষ্ঠানে ৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে একজন তত্ত্বাবধায়ক, একজন হেফজ বিভাগের, একজন আলিয়ার (ছাত্রদের) দায়িত্বে এবং একজন বাবুর্চী হিসেবে কর্মরত আছেন। অর্ধশত শিক্ষার্থীদের জন্য ভবনের সামনে ছোট একটি খেলার জায়গা এবং একটি মাত্র কম্পিউটার। যা ছাত্রদের খেলাধুলা কিংবা বিনোদনের জন্য যথেষ্ট নয়। মো. রাশেদুল হক জানান, ‘প্রতিবছর যে বাজেট দেয়া হয় তা দিয়ে দু’মাসের খরচ হয়। বাজেটের পরিমাণ বেশি হলে ছাত্রদের আরো বেশি সেবা দেয়া সম্ভব।’ প্রসঙ্গত, মরহুম মাওলানা নাসির উদ্দিন সাহেবের উদ্যোগে অত্র অঞ্চলে ফাযিল (¯œাতক) মাদরাসা, ইয়াতিমখানা, হেফজখানা, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ এবং একটি বড় পরিসরে গোরস্থান নির্মাণ করে যান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ