ঢাকা, শুক্রবার 10 March 2017, ২৬ ফাল্গুন ১৪২৩, ১০ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আইনজীবী নিখিলের  সন্ধান মেলেনি

 

খুলনা অফিস : খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এডভোকেট নিখিল কুমার মোহন্ত আদালতপাড়া থেকে কাজ শেষ করে নিখোঁজ হয়েছেন সাড়ে তিন বছর আগে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও এই আইনজীবীর কোন সন্ধান পাচ্ছেন না তার পরিবার। বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার চুনখোলা গ্রামের মৃত কৃষ্ণধন মোহন্তের পুত্র এডভোকেট নিখিল কুমার মোহন্ত ১৯৯২ সালে তিনি খুলনায় আইন পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন। 

তার স্ত্রী পারুল মোহন্ত জানান, ২০১৩ সালের ১৬ জুন খুলনা সদর থানাধীন মৌলভীপাড়া টিবি বাউন্ডারি রোডের বাড়ি নম্বর ৬’র ভাড়া বাসা থেকে প্রতিদিনের মতো কর্মস্থল খুলনা আদালতে যান। এরপর তিনি সকাল ১০টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতির অপর একজন সদস্যকে বলেন, আমি গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। সেদিনের পর থেকে অদ্যাবদি পর্যন্ত তার আর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্বামীকে খুঁজে না পেয়ে পরদিন ১৭ জুন তিনি নিরুপায় হয়ে খুলনা সদর থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন। সেদিনই পুলিশ এডভোকেট নিখিল কুমার মোহন্ত নিখোঁজের ঘটনায় একটি জিডি রেকর্ড করেন (নং-৭৮৩)। এছাড়া একই দিনে তিনি তার স্বামী নিখোঁজের বিষয়টি লিখিতভাবে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে অবগত করেন। পরে তিনি বাগেরহাটে শ্বশুর বাড়িতে খুঁজতে যান। 

সেখানে গিয়ে তিনি এডভোকেট নিখিলের নিখোঁজের বিষয়টি জানতে চাইলে দেবর বিবেক মোহন্ত বলেন, নিখিল এসেছিলো কিন্তু সন্ধ্যায় আবারো খুলনার উদ্দেশ্যে ফিরে গেছেন। পারুল মোহন্ত খুলনায় ফিরে এসে স্বামীকে আর খুঁজে পায়নি। 

নিখিলের ভাই বিবেক মোহন্ত কিছুুদিন পর পারুলকে জানায়, খোঁজ পাওয়া গেছে ভারতের ২৪ পরগনা এলাকার জেলে রয়েছে নিখিল। এই খবর পেয়ে তিনি স্বামীর সন্ধানে ছুটে যান ভারতের ২৪ পরগনার সেই কারাগারে কিন্তু সেখানেও তাকে পাওয়া যায়নি। জেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন এ ধরনের কোন লোক এখানে নেই। আবারো তিনি ফিরে আসেন দেশে, এবার তার সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। তার স্বামী এডভোকেট নিখিলের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইদের সাথে বিরোধের পেছনে এ নিখোঁজের রহস্য থাকতে পারে।  

বুধবার তিনি খুলনার মুখ্য মহানগর হাকিমের আমলী আদালত ‘ক’ অঞ্চলে তার স্বামী এডভোকেট নিখিল কুমার মোহন্তকে অপহরণের পর গুমের অভিযোগে একটি নালিশী মামলা দায়ের করেন (নং সিআর ১৮৭/১৭)। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিরুল ইসলাম এ বিষয়টি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৭ ও ১৫৮ ধারামতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা সদর থানার ওসিকে আদেশ দিয়েছেন। আগামী ২০ মার্চ এ বিষয়ে আদালতকে অবগত করারও নির্দেশ দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ