ঢাকা, শনিবার 11 March 2017, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে ইসি সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে -ওবায়দুল কাদের 

 

স্টাফ রিপোর্টার : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে জাতীয় নির্বাচন হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সর্বাত্মক সহযোগিতা পাবে। নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি জনগণের রায়কে প্রভাবিত করবেন না।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনকালীন সরকারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি থাকেন, তাহলে নির্বাচনে হেরে গেলেও তিনি জনমতকে প্রভাবিত করবেন না। এটা আমি ভালো করে জানি। জনগণ যদি না চায়, জোর করে ক্ষমতায় আসবেন, এই মানসিকতা শেখ হাসিনার নেই। এটা আমি জানি। 

 ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিতে ভালো করতে হলে ভালো মানুষের কোনো বিকল্প নেই। দেশে এখন ভালো মানুষের অনেক অভাব। তবে এখনো কিছু ভালো মানুষ আছে বলেই দেশটা টিকে আছে। এর একটি জলজ্যান্ত প্রমাণ আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বর্তমান রাজনীতি ও ছাত্ররাজনীতির সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, রাজনীতিকে ভালো করতে চাইলে ভালো মানুষের বিকল্প নেই। এ সময় শিক্ষকরাও দলীয় রাজনীতির কারণে তাদের আত্মমর্যাদা বিকিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সব জায়গায় বিভাজনের দেয়াল তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে সৌজন্য হারিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি ও মাদক বাংলাদেশের দুই বিপদ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা। নির্বাচনে কমিশনের বেঁধে দেয়া টাকার চেয়ে বেশি খরচ করা কিভাবে বন্ধ করবে এটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ছাত্র নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকাল ছাত্রনেতাদের হলে থাকার প্রবণতা কমে আসছে। আমরা যখন রাজনীতি করতাম তখন দিনে মধুতে বসে সন্ধ্যায় বিভিন্ন হলের ক্যান্টিনে যেতাম। পাশাপাশি আমরা যখন মফস্বলে প্রোগ্রামে যেতাম তখন বাস আর ট্রেনে করে যেতাম। সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে। কিন্তু আজকালের ছাত্রনেতারা বিমানে করে যাওয়ার জন্য টিকেট নিতে অনুরোধ করে। যেটা আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি। আমাদের আবার সেইসব অস্তিত্ব ও মূল্যবোধের কাছে ফিরিয়ে যেতে হবে।

রাজনীতিতে শ্রদ্ধাবোধ হারিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনীতিতে এখন সৌজন্যবোধ, শ্রদ্ধাবোধ নেই। এমন একটা পর্যায়ে চলে গেছে সামাজিক অনুষ্ঠান, জানাযায় অংশ নিতেও চিন্তা করতে হয় আমার রাজনীতির ক্ষতি হবে কি না। এটা তো রাজনীতি না। বঙ্গবন্ধু যখন চট্টগ্রামের লালদীঘিতে জনসভায় যেতেন তখন ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাসায় চা খেতেন, তাতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব কি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে?

শিক্ষকদের আত্মসম্মানবোধ ছাত্রনেতাদের কাছে বিকিয়ে না দিতে তিনি বলেন, আজকে শিক্ষক রাজনীতিতে ছাত্ররাজনীতি এবং ছাত্ররাজনীতে শিক্ষক রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। আমি বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে দেখেছি শিক্ষকরা ছাত্রনেতাদের তোষামোদ করছেন, খুশি করার জন্য অস্থির হয়ে আছেন। ছাত্রনেতারা শিক্ষেকদের রুমে এসে হুমকি দিচ্ছেন। শিক্ষকরাও এটি মেনে নিচ্ছেন। এই ছাত্রনেতাদের কাছে নিজের আত্মসম্মানবোধ বিকিয়ে দিবেন না। শিক্ষকদের একটা আত্মমর্যাদা আছে। আপনারা নিজের আত্মসম্মানবোধের দিকে একটু নজর দিবেন। এটি না থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যাবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ