ঢাকা, শনিবার 11 March 2017, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র

স্টাফ রিপোর্টার: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হচ্ছে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র। এছাড়া যাত্রীদের লাগেজ ও যানবাহন তল্লাশি এবং তরল বিস্ফোরক শনাক্ত করতে আলাদা আলাদা যন্ত্র বসানো হচ্ছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটি সূত্রে জানা গেছে এই তথ্য। 

সূত্র জানায়, উড়োজাহাজের হোল্ডে রাখার মতো ভারি ব্যাগ তল্লাশির জন্য ৮টি ডুয়েল ভিউ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন, হ্যান্ড ব্যাগ তল্লাশির জন্য ১৪টি ডুয়েল ভিউ স্ক্যানিং মেশিন, ৬টি লিকুইড এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (এলইডিএস), ৯টি আন্ডার ভিইকল স্ক্যানিং সিস্টেম (ইউভিএসএস), ৪টি ফ্যাপ ব্যারিয়ার গেট উইথ কার্ড রিডার, ৫টি ব্যারিয়ার গেট উইথ আরএফআইডি কার্ড রিডার, ২টি এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম (ইডিএস) এবং ৪টি এক্সপ্লোসিভ ট্রেস ডিটেকশন (ইটিডি) কেনা হয়েছে। ব্যাগের উপর ও দুই পাশ সব দিক দিয়েই স্ক্যান করতে সক্ষম ডুয়েল ভিউ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন। অন্যদিকে, এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম দিয়ে ব্যাগ না খুলেই তল্লাশি করা যাবে। 

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক কাজী ইকবাল করিম বলেন, ‘যে কয়টি ডুয়েল ভিউ এক্স-রে স্ক্যানিং মেশিন এসেছে, সেগুলো বসানোর কাজ চলছে। অন্য মেশিনগুলোর মধ্যে দুটির ব্যবহার শুরু হয়েছে ও দুটি সংযোজনের কাজ চলছে। সব মেশিন এখনও দেশে এসে পৌঁছায়নি।’ 

বিমানবন্দরের একটি নতুন যন্ত্র কোন কোন জায়গায় এসব যন্ত্র বসানো হবে, তা ঠিক করতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন হয়েছে। সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এসব যন্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দেবে সরবরাহকারী ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান স্মিথস ডিটেকশন। বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে পুরোনো যন্ত্র সরিয়ে নতুন যন্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেডলাইনের পরামর্শে কেনা হয়েছে এসব যন্ত্র। 

সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা জানান, এসব অত্যাধুনিক যন্ত্র দিয়ে খুব কম সময়ে যাত্রীদের তল্লাশি করা সম্ভব হবে। ফলে নিশ্চিত হবে নিরাপত্তা। 

জানা গেছে, গত বছরের ৮ মার্চ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বিশেষ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য জরুরি সরঞ্জাম সরবরাহ ও সংস্থাপন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয় ৮৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। 

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত বছরের মার্চে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য। এরপর যুক্তরাজ্যের পরামর্শে শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পায় ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান রেড লাইন। প্রতিষ্ঠানটি সিভিল এভিয়েশনের নিরাপত্তা কর্মীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি সহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্র সংযোজনের পরামর্শ দিচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ