ঢাকা, শনিবার 11 March 2017, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে- বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য কমনওয়েলথ ট্রেড মিনিস্টিার্স সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের কৃষি নির্ভর বাংলাদেশে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৭৮ ভাগ, এখন তা ১৫ দশমিক ৫ ভাগ, শিল্পে ২৮ দশমিক ১ ভাগ এবং সার্ভিস সেক্টওে ৫৬ দশমিক ৩ ভাগ। দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্যের অভাব ছিল, আজ দেশে প্রায় ১৬ কোটি মানুষ খাদ্যের কোন অভাব নেই। দেশের চাহিদা পূরণ করে বাংলাদেশ এখন চাউল বিদেশে রফতানি করছে। দেশের রফতানি ৩৪৮ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৪ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হয়েছে, আগামী বছর রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে হবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ভিশন ২০২১ সফল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ১৯৭১-৭২ অর্থ বছলে জাতীয় বাজেট ছিল মাত্র ৫২৮ কোটি টাকা, এ বছর ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিও হার গত বছর ছিল ৭ দশমিক ১১ শতাংশ। মাথাপিছু আয় ১,৪৬৬ মার্কিন ডলার। দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রম এখন বেশির ভাগ ডিজিটাল হয়েছে। সার্ভিস সেক্টরে এখন অটোমেশন চালু করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে অফিসের কার্যক্রম চলছে। দেশের মানুষ এখন সকল ক্ষেত্রে প্রযুক্তির সেবা ভোগ করছে।

মন্ত্রী কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের উদ্যোগে লন্ডনের লনকাস্টার হাউজে অনুষ্ঠিত কমনওয়েল্থ ট্রেড মিনিস্টার সম্মেলনের টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশন এবং ক্রিয়েটিং এন এক্সপোর্ট ইকোনমি বিষয়ের উপর অনুষ্ঠিত রাউন্ড টেবিল বৈঠকে বক্তব্য প্রদানের সময় এসব কথা বলেন। সম্মেলনে যোগদানকারী বাণিজ্যমন্ত্রিগণ বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

 তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশকে ডিজিটাল রাষ্ট্র এবং মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। দেশ ইতোমধ্যে মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করেছে, ২০২১ সালের মধ্যে দেশ মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। দেশ এখন ডিজিটাল হয়েছে। দেশের মানুষ এখন ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করছে। দেশে ৫,২০০ টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে প্রযুক্তির সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। দেশের ৬ দশমিক ৭ কোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে ১১ দশমিক ৯ কোটি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে। সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় সে কয়েকটি সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেয়ওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আইটি সেক্টরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে আইটি খাতে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত যুব শক্তি এখন আইডি সেক্টরে সফল ভাবে কাজ করছে। এখাতের রফতানি ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি বাংলাদেশ সফল ভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এসডিজি সফল ভাবে অর্জন করবে। বাংললাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। 

 তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশে থেকে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য যুক্তরাজ্যে রফতানি হয়। এলডিসি ভুক্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ইউরোপিয়ন ইউনিয়নের দেওয়া এভ্রিথিংস বাট আর্মস(ইবিএ)-এর আওতায় সম্পূর্ণ বাজার সুবিধা পেয়ে আসছে। যুক্তরাজ্য ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলে যাতে এ সুবিধা অব্যাত থাকে সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের নীতি নির্ধারকদের সহযোগিতা প্রয়োগিতা একান্ত প্রয়োজন। সম্মেলনে ৬টি বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বিষয়গুলো হচ্ছে-ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস, ইজি অফ ডুয়িং বিজনেস, টেকনোলজি এন্ড ইনোভেশন, বিজনেস এন্ড সাসটেইনেবিলিটি, ক্রিয়েটিং এন এক্সপোর্ট ইকোনমি এবং এট্রাক্টিং ইনভেস্টমেন্ট। সম্মেলনে কমনওয়েলথ ভুক্ত ৩৭টি দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী যোগদান করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ