ঢাকা, শনিবার 11 March 2017, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডুমুরিয়ায় শত কোটি টাকার সরকারি সম্পদ বেদখল

 

খুলনা অফিস : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডে জনবল সংকটে কারণে শত কোটি টাকার জমি বেদখল হয়েছে। ফলে সরকার প্রতি বছর মোটা অংকের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অপরদিকে সরকারি ওই জমিতে স্থায়ীভাবে ভবন ও স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৯ বছর আগে বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয় বোর্ড, তৎকালীন নাম ছিলো ওয়াপদা (ওয়াটার এন্ড পাওয়ার ডেভেলবমেন্ট অথরিটি) ১৯৬৬-৬৭ সালে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জমি অধিগ্রহণ করে বন্য নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও ডুমুরিয়া উপকূল এলাকায় ১৭/১ নম্বর পোল্ডার, ১৭/২, ২৭/২, ২৭-২, ২৬ ও ২৯ এ ৬টি পোল্ডার নিয়ে কাজ শুরু করে। ১৯৬৬ সালে ডুমুরিয়া সদর এলাকায় সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ১০ একর জমি নিয়ে ডুমুরিয়ায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌলীর দপ্তরের অধিনে অফিস, গেষ্ট হাউজ ও ৯টি আবাসিক ভবন নির্মাণ করা হয়। সংস্কারের অভাবে ওই সব ভবন গুলো এখন পরিত্যাক্ত। এ উপজেলায় বিভিন্ন পদে ৯৬ জনকে জনবল নিয়োগ দেয়া হয়।  বর্তমান সেখানে কাগজে কলমে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছে। এর মধ্যে একজন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, একজন শাখা কর্মকর্তা, কার্যসহকারী একজন, প্রধান হিসাব সহকারী একজন, ও একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী রয়েছে। বাকী ৯১টি পদ গত দুই যুগ ধরে শুন্য। জনবল সংকটের কারণে এ উপজেলায় শত কোটি টাকার সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাউবো’র জমি অবৈধ দখল নিয়ে গড়ে তুলছে বহুতলা ভবন ও মার্কেট, মাছের খামার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ উপজেলা ৬টি পোল্ডারে পাউবো’র ৭২টি সøুইচ গেটসহ একটি করে আবাসিক ভবন রয়েছে। তাছাড়া ৬টি পোল্ডারে বন্যনিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধের দু’পাশে হাজার হাজার একর জমিতে লাগানো গাছপালা মানুষ ইচ্ছে মত কেটে নিয়ে যাচ্ছে।  যেন দেখার কেউ নেই।

জানা গেছে, খুলনা পাউবো’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা কয়েক বছর আগে স্থানীয়দের কাছে জমি ৫ বছর, ৩ বছর করে লিজ দিয়েছে। বর্তমানে লিজ প্রদান বন্ধ থাকলেও দখলদারদেও উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। তারা লিজের কাগজপত্র নিয়ে আদালতের স্বরনাপন্ন হচ্ছেন। অনেকেই জমির উপর বহুতলা ভবন, মার্কেট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মৎস্য খামার, মাছের ডিপো, কলকারখানা নির্মাণ করছেন।

খুলনা পাউবো’র সার্ভেয়ার আব্দুল খালেক বলেন, নদীর পাশের জমি জমি সম্পূর্ণ পাউবে’র। জোর করে পাকা ঘর বাড়ি ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে সত্য। ইতোমধ্যেই পাউবো’র পক্ষ থেকে স্থানীয় সেটেলমেন্ট অফিসে আপিত্ত দেয়া হয়েছে। দ্রুতই অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে নোটিসসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাউবো’র জমিতে পাকা ভবন নির্মাণকারী ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া গ্রামের শওকাত আলী জানান, পাউবো’র লোকজনের সাথে কথা বলেই তিনি পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করছেন। 

স্থানীয়রা জানান, এ উপজেলায় ১৯৮৬ সাল থেকে শালতা নদী, ভদ্রা নদী, হরী নদী, বুড়ি ভদ্রা নদী ও সøুইস গেটের খালগুলো পলি জমতে শুরু করে। বর্তমান ওই সব নদ-নদীগুলো পলিতে ভরাট হয়ে ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এলাকায় দেখা দিয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। সুষ্ঠুভাবে পানি নিষ্কাশনের লক্ষে উপজেলার ৬টি পোল্ডারে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিকল্প বেড়ি বাঁধের মাধ্যমে অর্ধশতাধিক সøুইস গেট নির্মাণ করলেও নদী-খালে পলি জমে থাকায় পানি উঠা নামা করতে পারছে না। এলাকাবাসীর দাবি এসব নদী ও খাল খননের করে পানির প্রবাহে কোনো বিকল্প নেই।

কৃষক শেখ জলিল উদ্দিন বলেন, উপজেলায় প্রায় ৭-৮টি নদী, শাখা নদী ও খালগুলোর কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার উপায় নেই। পাশাপাশি পলিতে নদী ও খালগুলো নব্যতা হারিয়েছে। যেহেতু নদ-নদী নেই এর সাথে পাল্লা দিয়ে পাউবো’র সøুইচ গেটসহ তার বাসভবনগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে সেখানে বাড়ি ঘর,  দোকানপাট, মৎস্য খামারসহ বিভিন্ন ব্যবস্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে। পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে সøুইচ গেটগুলো এখন প্রায় সব পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ডুমুরিয়া উপজেলায় ৭২টি স্লুইচ গেটে পাউবো’র কয়েকশ’ বিঘা জমি রয়েছে।

ডুমুরিয়া পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী দেব প্রতিম হালদার জানান, মাঠ পর্যায় জনবল নেই। তবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ব্যাপক জমিসহ উপজেলার বিভিন্ন পোল্ডারে প্রতিটি স্লুইচ গেটে একটি করে আবাসিক ভবন রয়েছে। পাউবো’র জনবল সংকটে গত ২০০২ সালে বেশ কিছু আবাসিক ভবন টেন্ডারের মাধ্যমে তা বিক্রি করা হয়েছে। কিছু ভবন দখল হয়ে গেছে। তবে ডুমুরিয়া উপজেলায় ৭২ স্লুইচ অপারেটরের পদে  কোন লোক নেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ