ঢাকা, শনিবার 11 March 2017, ২৭ ফাল্গুন ১৪২৩, ১১ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে হতে পারে পরমাণু যুদ্ধ

১০ মার্চ, দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন/ওয়াশিংটন পোস্ট: হিরোশিমা, নাগাসাকির ক্ষত আজও শুকোয়নি। চেরনোবিলে তেজস্ক্রিয় বিকিরণে ঝলসে যাওয়া শিশুদের মর্মান্তিক আর্তনাদে শিউরে উঠেছিল পৃথিবী। একসময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে চলা ঠাণ্ডা লড়াই থেকে পরমাণু যুদ্ধের আশংকা প্রবল হয়ে উঠেছিল, সেবার পৃথিবী রক্ষা পেলেও, আবারো ফিরে আসতে পারে পরমাণু যুদ্ধের বিভীষিকা। তবে এবার সেই যুদ্ধ বাধতে পারে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে। এমনটাই হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন জেনারেল জোসেফ এল ভোটেল। তার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক মঞ্চে কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার ভারতের চেষ্টা উস্কে দিতে পারে যুদ্ধ। আর সেই যুদ্ধ ক্রমশ গড়াতে পারে পারমাণবিক স্তরে।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন সেনেটের ‘আর্মড সার্ভিসেস কমিটি’র সামনে বক্তব্য রাখেন মার্কিন জেনারেল জোসেফ। তিনি বলেন, ভারতের মাটিতে ক্রমাগত কথিত পাক জঙ্গিগোষ্ঠীর নাশকতামূলক কার্যকলাপ ও তার প্রত্যুত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সার্জিকাল স্ট্রাইক, দুই দেশের মধ্যে লড়াই শুরু করতে পারে। এছাড়াও পাকিস্তানের সমালোচনা করে জোসেফ বলেন, পাকিস্তান ‘হাক্কানি নেটওয়ার্ক’ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। আফগানিস্তানে আমেরিকার নেতৃত্বে আল কায়দার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক সৈন্যদলকে বরাবর টার্গেট করে এসেছে পাক সমর্থিত ‘হাক্কানি নেটওয়ার্ক’। এছাড়াও ভারত বিরোধী জঙ্গিদল যেমন লস্কর, হিজবুল ও জৈশ-এ-মোহাম্মদকেও রসদ জুগিয়ে যাচ্ছে পাক সেনা ও আইএসআই।
অন্যদিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর সীমান্তের ‘লাইন অব কন্ট্রোলে (এলওসি) যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত ‘ড্রোন’ মোতায়েন সংক্রান্ত খবর দিয়েছে পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে এই খবর জানিয়েছে তারা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এক্সপ্রেস ট্রিবিউনকে বলেছেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে কৌশলগত অবস্থান নিতেই ভারত ড্রোনগুলো মোতায়েন করেছে। ড্রোনগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হলে তা ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে আরও অস্থিতিশীল।
পাকিস্তানের কিছু সূত্রের দাবি, ড্রোনগুলোতে নাইট ভিশন ক্যামেরাও রয়েছে। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ড্রোনগুলোর ডাটা সেন্টার শ্রীনগরে রয়েছে। সেখান থেকেই এগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই পদক্ষেপে শুধু ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিরই অবনতি হবে না বরং ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে আরো জটিল করে তুলবে। কারণ পাকিস্তানের অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র এমন ড্রোন তাদের সরবরাহ করেনি। দেশটির সাবেক রাষ্ট্রদূত আলি সারওয়ার নাকভি বলেন, এটা সত্যিই উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত নতুন এক কৌশলগত চুক্তি করেছে। এর আওতায় ভারতে সেই ড্রোনগুলো পেয়ে থাকতে পারে।
তিনি পরামর্শ দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই ইস্যু আলোচনার পাশাপাশি এলওসিতে ড্রোন মোতায়েনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থাও নিতে হবে।
ইসরাইলের সরবরাহ করা ড্রোনও ব্যবহার করছে ভারত। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে এলওসিতে একটি গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করে পাকিস্তান। সেসময় পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সম্পর্কের আরো অবনতি হয়। তবে এবার মার্কিন এই ড্রোন ব্যবহারে আরো বিপাকে পড়েছে পাকিস্তান। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের ড্রোন ব্যবহারের কারণে সামরিক সংঘর্ষ হতে পারে এই দুই দেশের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ