ঢাকা, রোববার 12 March 2017, ২৮ ফাল্গুন ১৪২৩, ১২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

১০ বছর পর আরো বিদেশীর  কর্মক্ষেত্র হবে বাংলাদেশ .....স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ১০ বছর পর কর্মসংস্থানের জন্য আরো অনেক বিদেশী বাংলাদেশে আসবে বলে আশা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। গতকাল শনিবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ‘নিরাপদ অভিবাসন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর হতদরিদ্র নই। বর্তমানে আমাদের দেশে ভারত, আফ্রিকা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা কর্মসংস্থানের জন্য আসছে। আমরা যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছি, আগামী ১০ বছর পর বিশ্বের অনেক দেশের নাগরিক আমাদের দেশে কাজের জন্য আসবে। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কয়েক লাখ কর্মী আমাদের দেশে কাজ করছে, আগামী ১০ বছর পরে সেটা ২০ থেকে ২৫ লাখে দাঁড়াবে।’ তিনি বলেন, এ অবস্থায় আমাদের দেশের কোন কর্মী বিদেশে গিয়ে প্রতারিত হবে এটা কারো কাম্য নয়। যারা ভাগ্য বদলের জন্য বিদেশ যাবেন তারা প্রতারণার স্বীকার হবেন না। এ বিষয়ে সকলের একসঙ্গে কাজ করার সময় এসেছে।

ইস্তাম্বুল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইস্তাম্বুলে গিয়ে জানতে পারি, সেখানকার কারাগারে আমাদের দেশের ৮০০ মানুষ বন্দী আছে। তারা বিভিন্ন দেশে যেতে গিয়ে প্রতারণার স্বীকার হয়ে সেখানে আটকা পড়েছে। তাদের ফেরত আনার কথা বললে তারা আসবে না বলে জানায়। তারা বলে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে এখানে এসেছেন। তারা আর ফেরত আসতে চান না। তারা বিভিন্ন দেশে গিয়ে রাস্তায় শুয়ে থাকে। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে অনেক মানুষ আটকা পড়েছে।

যেখানেই মানুষ প্রতারণার শিকার হন সেই দায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর এসে পড়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয়ের ওপর যদি কোনো দায়িত্ব পড়ে আমরা তা যথাযথভাবে পালন করবো। সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে আশা করি একটা উপায় বের করা যাবে।

মানব পাচারকারীদের শাস্তি মৃত্যুদ- হওয়া উচিত 

মানব পাচারকারীর জন্য দেশের বর্তমান আইনে যে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে, তা যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ‘মানব পাচার বন্ধে অপরাধীদের শাস্তি ১২ বছর জেল যথেষ্ট নয়, তাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড হওয়া উচিত। ’ওই সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ দেশের এক শ্রেণির অসাধু দালাল চক্র স্বল্প আয়ের মানুষদের টার্গেট করে বিদেশে পাচার করছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানব পাচার চক্র জড়িত। পাচারের শিকার সাধারণ মানুষকে তারা পৃথিবীর বিভিন্ন বন-জঙ্গলে জিম্মি করে রাখে। পাচারের শিকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের অনেকেই নির্যাতিত হয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন. ‘এ চক্রটি প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অনেক নারীকেও বিদেশে পাচার করছে, তাদের পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য করছে। আমাদের দেশের অনেক নিরীহ মানুষ নিজের জায়গা জমি বিক্রি করে বিদেশ যায়। সেখানে গিয়েও তারা নির্যাতনের শিকার হয়। এমনকি অনেকে মৃত্যুর মুখে পতিত হয়। এ কারণে মানব পাচারকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’

র‌্যাব প্রধান বলেন, ‘মানবপাচারের মতো এমন অমানবিক বিষয় থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই। এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব।’

ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে এ মানব পাচার প্রতিরোধ সম্ভব বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যত মানব পাচারের ঘটনা ঘটেছে, তার সবগুলোই ঘটেছে অনিবন্ধিত ভুইফোঁড় এজেন্সির মাধ্যমে। এদের বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে হবে।’

 বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমাদের গুরুত্বের জায়গা জঙ্গি হলেও মানব পাচার, সুন্দরবনের দস্যুদের আত্মসমর্পণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে অচিরেই সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যু মুক্ত করা হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।’

  সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বায়রার সভাপতি ও  বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সিজ মালিকরা।

ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময়ই তৎপর--- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

এদিকে, অপর এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে ষড়যন্ত্রকারীরা সবসময়ই তৎপর রয়েছে। দেশের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই ভেবেই আমরা কাজ করছি। সায়েদাবাদের করাতিটোলা সিএমএস মেমোরিয়াল হাইস্কুল এন্ড কলেজের ৪০ বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দেশে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছে ওই গোষ্ঠী। আমরা কখনোই বলিনি জঙ্গিদের মূল উৎপাটন করে ফেলেছি, তবে নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। জনগণ জঙ্গিবাদ পছন্দ করে না বলেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও ওই জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের তৎপরতা চালাতে পারে চিন্তা করে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সজাগ রয়েছে। জনগণকে সাথে নিয়ে আগামী দিনেও এই জঙ্গিগোষ্ঠীর মুল উৎপাটন করতে পারবো বলে আশা রাখি। তিনি আরো বলেন, দেশ যতোই এগিয়ে যাক, জনগণের নিরাপত্তা না দিতে পারলে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ। তাই এই জঙ্গি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টা ও সকলের ঘুরে দাঁড়ানোর কারণেই জঙ্গি সন্ত্রাসীদের দমন করা সম্ভব হয়েছে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি হেদায়েতুল ইসলাম স্বপন, অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ