ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বিজ্ঞান শিক্ষা জোরদার করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন -পিআইডি

বাসস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার বলেছেন, দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে তার সরকার শিক্ষা, গবেষণা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ যদি আমরা গড়তে চাই তাহলে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, গবেষণা বাড়ানো এবং বিজ্ঞানের চর্চা বৃদ্ধি করা।’

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা বায়ো-টেকনোলজিক্যাল সায়েন্স, মেডিকেল সায়েন্স, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপলায়েড সায়েন্স এবং খাদ্যদ্রব্য উৎপাদনে গুরুত্ব প্রদান করেছি।

‘ যে কারণে আমরা আজ খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত দেশ, মৎস উৎপাদনে (মিঠা পানির মাছ) উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছি। সবজি উৎপাদনে তৃতীয় এবং মাংসসহ অন্যান্য উৎপাদনেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’, উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এসব উন্নয়ন এমনিতেই হয়নি, আমি বলবো সবই বিজ্ঞানের অবদান, গবেষণার অবদান।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ ও বিশেষ অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. আফম রুহুল হক। বিজ্ঞান ও প্রযুুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সিরাজুল হক খান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন।

এ বছর ১৭০২ জন শিক্ষার্থীকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ফেলোশিপ এবং গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ, দেশবরেণ্য গবেষক ও বিজ্ঞানী এবং ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা চাই সকলে এই গবেষণার কাজ আরো মনযোগের সাথে করবেন। যারা সত্যিই গবেষণা করে কোন ফলাফল জাতিকে দিতে পারবেন তাদের জন্য আমাদের চিন্তা-চেতনাতেই আছে আরো বেশি সহযোগিতা করে যাওয়া। আমরা তা করে যাব।

 শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সীমিত সম্পদ এটা ঠিক। কিন্তু আমি মনে করি, পরিকল্পিতভাবে সীমিত সম্পদ যদি আমরা ব্যবহার করতে পারি এবং বৈজ্ঞানিক উপায়ে এটার ব্যবহার যদি নিশ্চিত করতে পারি তাহলে আমাদের কারো মুখাপেক্ষী হয়ে চলতে হবে না। আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে মাথা উঁচু করে বিশ্বসভায় এগিয়ে যাব। এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, একটি লক্ষ্য স্থির না থাকলে দেশ উন্নত হতে পারে না। ২০৪১ সালে যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করবো, ওই সময়ের মধ্যে আমরা দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। ২০১৪ সালে যে নির্বাচনী ইস্তেহার দিয়েছিলাম সেখানে আমরা ঘোষণা করেছিলাম- ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ।

আমরা ইতোমধ্যে পরমাণু যুগে প্রবেশ করেছি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এই পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রকল্পটি বহুকাল ধরে অবহেলিত ছিল, কিছুতেই কাজে লাগানো যাচ্ছিল না, এখন সেখানে আমরা পা দিচ্ছি। এজন্য আমাদের প্রচুর বিজ্ঞানী দরকার। পরমাণু শক্তি কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য পরমাণু জ্ঞানসম্পন্ন বিজ্ঞানীদের আমাদের দরকার হবে। এজন্য প্রশিক্ষণও দরকার, এই কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এই বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে ভবিষতে এগিয়ে আসে। তারাই এগুলো পরিচালনা করতে পারবে। সেদিকে আমরা দৃষ্টি দিতে চাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ন্যানো টেকনোলজি এখন এসেছে, সেটাও আমাদের চিকিৎসা সেবা থেকে শুরু করে বহু কাজে এর ব্যবহার হয়। কাজেই সেদিকেও আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছি এবং সেটা কতটা ব্যবহার করা যায় ও কাজে লাগানো যায় তা অবশই আমরা দেখবো। 

বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন, বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা উন্নয়ন ও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্পটি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার ও ইনস্টিটিউটে পরিচালিত গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে এমএস এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে আমাদের জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরিই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত বিদেশে ৫০-জন এমএস ও ৬০-জন পিএইচডি এবং দেশে ১০০-জন পিএইচডি ও ১১-জন পিএইচডি-উত্তর গবেষণায় ফেলোশিপ প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

 শেখ হাসিনা বলেন, ইতোমধ্যে বিদেশে এমএস কোর্সে ৩৭-জন ও পিএইচডি কোর্সে ৩০-জন এবং দেশে পিএইচডিতে ৩৮-জন এবং পিএইচডি-উত্তর কোর্সে ৮জন শিক্ষার্থী/গবেষক গবেষণা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। প্রকল্পের মেয়াদ শেষে যাতে ফেলোশিপ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা যায়, সেজন্য গঠন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ট্রাস্ট।

‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিকাশ সাধনের লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এমএস, এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্বের ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ৯০১ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকের মধ্যে ৩৭ কোটি ৫১ লাখ ৮৯ হাজার টাকার ফেলোশিপ প্রদান করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান অর্থবছরে ১ হাজার ৭০২ জন ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষককে ৯ কোটি ৯১ লাখ ১৭ হাজার টাকা ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাখাতে সরকারের বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে চলতি অর্থবছর পর্যন্ত ১ হাজার ৭৫৩টি প্রকল্পের অনুকূলে ৬৮ কোটি ৯৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে ৩৯৫টি প্রকল্পের বিপরীতে ১১ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ