ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রীদের চতুর্থ দিন অবস্থান কর্মসূচি পালন

গতকাল বৃহস্পতিবার গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট করার দাবিতে চতুর্থদিনের মতো সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা -সংগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের চলমান আন্দোলনে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, ঢাবির দুই হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বাস চলাচলে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে ঢাবি শিক্ষার্থীরা। এর সমর্থনে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষার্থীরা গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে ভিসি চত্বরে চলা অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা এসব দাবি করেন। 

অবস্থান শেষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এক পর্যায়ে ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা। এসময় ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক কার্যালয়ে ছিলেন না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ এম আমজাদের আশ্বাসে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত করে শিক্ষার্থীরা। তবে সোমবারের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমাদের আন্দোলন যৌক্তিক। কিন্তু তোমাদের মাথায় রাখতে হবে, আন্দোলনের কারণে যেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণের কোনও ভোগান্তি না হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে।

এসময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, অবিলম্বে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করতে হবে। সোমবারের মধ্যে এদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, হোম ইকোনমিকস কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে ঢাবির কুয়েত মৈত্রী ও ফজিলাতুন্নেসা মুজিব ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

মানববন্ধনের সমন্বয়কারী ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান, দিনে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পড়ালেখা করে ঢাবিতে ভর্তি হতে হয়। রাস্তায় নেমে আন্দোলন করে ঢাবিতে ভর্তি হওয়া যায় না। ঢাবির সব অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আলাদা সমাবর্তন এবং সেসব প্রতিষ্ঠানের অযৌক্তিক আন্দোলনে নতি স্বীকার না করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানান তিনি।

আন্দোলনে নীলক্ষেত হকার্সরা : এদিকে গার্হস্থ্য অর্থনীতির ছাত্রীদের আন্দোলনের কারণে ব্যবসায় ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার দাবি তুলে ছাত্রীদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে মিছিল করে নীলক্ষেতের হকার্সরা। সকালে মিছিল নিয়ে ছাত্রীদের সমাবেশস্থলের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের বাধায় তারা সেখান থেকে সরে যান। 

চতুর্থ দিনের মত অবস্থান গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ ছাত্রীদের: এদিকে ইনস্টিটিউটের দাবিতে চতুর্থ দিনের রাস্তায় অবস্থান করে সমাবেশ করেছে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ছাত্রীরা। তাদের দাবি ইনস্টিটিউট না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন থেকে পিছু হব না। সকাল ১১টা থেকে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। 

রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ, নীলক্ষেত হকার্সরা এবং ভিসি চত্বরে ঢাবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তিন পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নিউ মার্কেট ও নীলক্ষেত মোড় হয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে শাহবাগ, সায়েন্স ল্যাবরেটরিও ধানমণ্ডি এলাকায়। উত্তেজনায় পুরো এলাকায় অবস্থান নেয় বিপুল সংখ্যক পুলিশ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ