ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের সঙ্গে দেশবিরোধী চুক্তি হলে জনগণ প্রতিহত করবে  ---মির্জা ফখরুল

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে যেকোনো চুক্তির আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি । তিনি বলেন, চুক্তি জনস্বার্থবিরোধী হলে জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না। দেশবিরোধী সব চুক্তি এবং ষড়যন্ত্র এ দেশের মানুষ প্রতিহত করবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার পাচুরিয়া গ্রামে দলের সাবেক মহাসচিব মরহুম খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। 

প্রসঙ্গত, চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ৭ এপ্রিল ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফরে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, পানি সমস্যার সমাধানে কোনো লক্ষণ দেখছি না। যে চুক্তির কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি, এই চুক্তি দেশের জন্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। আমরা খুব স্পষ্ট করেই বলেছি, বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী কোনো চুক্তিই এ দেশের মানুষ মেনে নেবে না। স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ যেভাবে কাজ করেছিল, একইভাবে দেশবিরোধী সব চুক্তি এবং ষড়যন্ত্র এ দেশের মানুষ প্রতিহত করবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সরকার বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দেশের বাইরে চুক্তি করতে যায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক সরকার নয়, গায়ের জোরে তারা একতরফাভাবে কাজ করে আসছে, যা জনগণের পক্ষে যাচ্ছে না। আমরা বারবার আলোচনার ও সংলাপের কথা বলে আসছি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, চুক্তির আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার জনগণের কাছে যেতে চায় না। যেকোনো চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে, জনগণকে জানাতে হবে আমরা তা বারবার দাবি করে আসছি। এটা সরকারের  নৈতিক দায়িত্ব। এই চুক্তি জনস্বার্থবিরোধী হলে জনগণ কখনো তা মেনে নেবে না।

মির্জা ফখরুল বলেন, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিরল রাজনীতিক ছিলেন। তিনি নীতির প্রশ্নে কোনো আপস করেননি। বাংলাদেশ ও দলের স্বার্থের জন্য তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। অত্যন্ত দুঃসময়ে তাঁকে দলের মহাসচিব করা হয়েছিল। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা, বুদ্ধিমত্তা ও সাহসের সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, খোন্দকার দেলোয়ার যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন, তখন একটি অবৈধ ও অনৈতিক সরকার বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখল করেছিল। সেই সরকার বিএনপিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করেছিল। বাংলাদেশে সেই সরকার বিরাজনীতিকীকরণের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। বাংলাদেশকে একটি  স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন সাহস, বুদ্ধিমত্তা ও দূরদর্শিতা দিয়ে সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ষড়যন্ত্র এখনো শেষ হয়নি। এখনো সেই ষড়যন্ত্র চলছে। বিএনপিকে কখনই নির্মূল করা সম্ভব হবে না। 

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে তারা চক্রান্ত করছে। বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এবং নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে এই অগণতান্ত্রিক সরকার বিএনপিকে নিষ্ক্রিয় ও নির্মূল করতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গড়া এই দলকে বিশ্বাস করে। বিএনপিকে কখনই নির্মূল করা সম্ভব হবে না। 

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক নেতা বলেন, বিএনপির ওপর বহুবার আঘাত এসেছে, কিন্তু বিএনপি সেই আঘাতকে সব সময় পরাজিত করে জেগে উঠেছে, আরও ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়ে উঠেছে।

এর আগে দুপুর একটার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য খোন্দকার আবদুল হামিদ, বড় ছেলে জেলা বিএনপির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক আকবর হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি জামিলুর রশিদ খান, সাধারণ সম্পাদক মঈনুল ইসলাম খানসহ দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ বাড়ি পাচুরিয়ায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দুপুরে দুস্থ ও অসহায় মানুষদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়। বিকেলে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ে জেলা বিএনপির উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বিএনপির মহাসচিব ছাড়াও তিনি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন। এক-এগারোর সময় দলের সংকট মুহূর্তে তিনি সাহসী ভূমিকা রাখেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন। 

জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা : এদিকে গতকাল জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল জানান, সরকার রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করছে । 

মির্জা ফখরুল বিএনপির নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের নবগঠিত কমিটি নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি জঙ্গিবাদ দমনে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টির আহ্বান জানালেও সরকার তাতে সাড়া দিচ্ছে না। বরং তারা এর মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে। সরকার একটা ইস্যুকে ঢাকতে আরেকটা ইস্যু  তৈরি করছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা।

প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় পদে থেকে নৌকায় ভোট চাইতে পারেন না। বিএনপি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না, বা কবে নাগাদ প্রচারণায় নামবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। আমরা সব সময়ই নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। তফশিল ঘোষণার পরই নির্বাচনী প্রচারণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ