ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শেষ বিকেলটায় ভালো হয়নি টাইগারদের

রফিকুল ইসলাম মিঞা: শততম টেস্টের ব্যাটিংয়ে শুরুর মতো শেষটা হলো না টাইগারদের। শেষ বিকেলে একের পর এক উইকেট পতনে মলিন হলো তামিম-সৌম্যের চমক লাগানো শুরুটা। শ্রীলংকাকে এই মাঠে প্রথমবাবের মতো ৩৩৮ রানে অলআউট করে বড় স্কোর গড়ার টার্গেট নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন দুই সেরা ওপেনার তামিম-সৌম্য। আর দুই ওপেনারের উড়ন্ত সূচনায় ৯৫ রানের জুটি গড়ে বড় স্কোর গড়ার পথ তৈরি করেছিল টাইগাররা। কিন্তু শেষ বিকেলে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৪ রান নিয়ে হতাশাতেই দ্বিতীয় দিন শেষ করলো বাংলাদেশ। গতকাল দুই উইকেটে ১৯২ রান করা বাংলাদেশ দইশত রানের আগেই হারায় আরো তিন উইকেট। ৭ বলের মধ্যে ইমরুল কায়েস, তাইজুল ইসলাম, সাব্বির রহমানের বিদায়ে শেষ বেলায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। আর একাণেই পিছিয়ে পড়ে টাইগাররা। না হলে দিনটা ভালোই ছিল বাংলাদেশের। তবে সাকিব আর মুশফিকের ব্যাটে ২১৪ রানে দিন পার করেছে টাইগাররা। ফলে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে ১২৪ রানে।

কলম্বোর পি সারা ওভালে এই প্রথমবার শ্রীলংকাকে অলআউট করে বাংলাদেশ। এর আগে তিনবার এ ভেন্যুতে খেলেছিল দুইদল। প্রত্যেকবারই ইনিংস ঘোষণা করেছিল শ্রীলংকা আর বাংলাদেশ হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। তবে এবার শ্রীলংকাকে অলআউট করে শততম টেস্টে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। তবে সব কিছু নির্ভর করছে তৃতীয় দিনের শুরুতে ব্যাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ওপর। গতকাল ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। দেখেশুনেই খেলছিলেন দুই ওপনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে দলীয় ৯৫ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। হেরাথের ঘূর্ণিতে লেগ বিফোর হয়ে এক রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার তামিম। হাফসেঞ্চুরি বঞ্চিত হন ৪৯ রান করা তামিম। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও শ্রীলংকার রিভিউতে লেগ বিফোর হয়ে বিদায় নেন তামিম। তবে তামিম ব্যর্থ হলেও নিজের হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন সৌম্য সরকার। ব্যক্তিগত ৬১ রানে সান্দাকানের বলে বোল্ড হয়েই বিদায় নেন সৌম্য। ফলে ১৩০ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম দুই উইকেট। দুই ওপেনারের বিদায়ে দলের রানের চাকা সচল রেখেছিলেন ইমরুল কায়েস আর সাব্বির রহমান। কিন্তু দলীয় ১৯২ রানে ইমরুলের বিদায়ে ভাংগে এই জুটি। আউট হওয়ার আগে ইমরুল করেন ৩৪ রান। নাউটওয়াচ ম্যান হিসেবে ব্যাট করতে নেমে কোনো রান করার আগেই প্রথম বলে আউট হন তাইজুল। আর দলীয় ১৯৮ রানে সাব্বির রহমান আউট হলে শেষ বিকেলে চাপেই পড়ে টাইগাররা। আউট হওয়ার আগে সাব্বির করেন ৪২ রান। শেষ বিকেলেই বাংলাদেশের বিপদ শুরু। সান্দাকানের এক ওভারেই ফিরেন ইমরুল ও তাইজুল। রিভিউতে পর পর দুই বলেই এলবিডব্লিতে ফিরতে হয় ইমরুল ও তাইজুলকে। পরের ওভারে লাকমলের শর্ট বলেই ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন ৪২ রানে ব্যাট করতে থাকা সাব্বির রহমান। বিপদ আরো বড় হতে পারত। কারণ গতকালই আউট হতে পারতেন সাকিব। টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলা সাকিব জীবন পেয়েছেন একবার, আরেকবার বেঁচে গেছেন আউট হতে হতে। ৮ বলের ইনিংসে খেলেছেন তিনটি চার। সান্দাকানের হ্যাটট্রিক ঠেকানো সাকিব সুইপ করে চার হাঁকান প্রথম বলে। পরের ওভারে তার উইকেট পেতে পারতেন বাঁহাতি লেগ স্পিনার। তবে উপুল থারাঙ্গাকে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান সাকিব। আর সাকিব আর মুশফিকের ওপর ভর করে ৫ উইকেটে ২১৪ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান ১৮ রানে ও মুশফিকুর রহিম ২ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। এই জুটির ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ইনিংসটাকে কতদূর নিতে পারে।

শততম টেস্টে ৭ উইকেটে ২৩৮ রান করে প্রথম দিন পার করেছিল শ্রীলংকা। দলের পক্ষে চান্ডিমাল ৮৬ রানে আর অধিনায়ক হেরাথ ১৮ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। গতকাল শ্রীলংকাকে ৩৩৮ রানে অল আউট করে বাংলাদেশ। তবে শ্রীলংকাকে ৩৩৮ রানে নিয়ে যান চান্ডিমাল। সেঞ্চুরিসহ ১৩৮ রান করেই দলকে এগিয়ে নেন তিনি। গতকাল দ্বিতীয় দিনে ২৩৮ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল স্বাগতিকরা। আর শেষ তিন উইকেট নেয়ার মিশনে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের টার্গেট ছিল দ্রুত উইকেট নেয়া। আর এটাই করেছেন সাকিব। ২৫তম ওভারে শ্রীলংকার অধিনায়ক হেরাথকে স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন। আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ২৫ রান। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রতিরোধ গড়েন চান্ডিমাল। রিভিউয়ে দুইবার জীবন পাওয়া এ ব্যাটসম্যান ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি পান ২৪৪ বলে। তবে তার ইনিংস থামে দলীয় ৩০৫ রানে মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মোসাদ্দেক হোসেনের ক্যাচ হয়ে। ৩০০ বলে ১৩৮ রান করেন চান্ডিমাল। শেষ জুটিতে লাকমল ও সান্ডাকান খুব বেশিদূর এগোতে পারেননি। শুভাশীষের দ্বিতীয় শিকার হন লাকমল। ফলে ৩৩৮ রানে অলআউট হয় লংকারনা। বাংলাদেশের পক্ষে মিরাজ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। শুভাশীষ, সাকিব ও মুস্তাফিজ পান সমান দুটি করে উইকেট। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

শ্রীলংকা ১ম ইনিংস: ৩৩৮/১০

বাংলাদেশ: ১ম ইনিংস: ৬০ ওভারে ২১৪/৫ (তামিম ৪৯, সৌম্য ৬১, ইমরুল ৩৪, সাব্বির ৪২, তাইজুল ০, সাকিব ১৮*, মুশফিক ২*; লাকমল ১/৩২, পেরেরা ০/৫০, হেরাথ ১/৩৪, গুনারতেœ ০/২৫, সান্দাকান ৩/৬৫)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ