ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতীয় ঋণের ১৪ প্রকল্পের একটিও বাস্তবায়নে যায়নি

 

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় ঋণের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিটের (এলওসি) আওতায় ১৪টি প্রকল্পের একটিও বাস্তবায়নে যায়নি। প্রায় তিন বছর পাড় হতে চলেছে প্রকল্পের প্রস্তুতিতেই। এসব প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়াধীন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সম্প্রতি প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দ্বিতীয় এলওসি ঋণের আওতায় ইতিমধ্যেই ১৪টি প্রকল্পের বিষয়ে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সম্মতি পাওয়া গেছে। কিন্তু এখনও বাস্তবায়ন পর্যায়ে যেতে আরও কমপক্ষে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে ইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব কাজী শফিকুল আযম গণমাধ্যমকে বলেন, একটু সময় বেশিই লাগছে। আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাছে প্রশ্ন করা উচিত, তারা কেন প্রক্রিয়া করতে এত দেরি করছে। তবে আমরা প্রথম ও দ্বিতীয় এলওসির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাচ্ছি তৃতীয় এলওসির ক্ষেত্রে। যাতে ভবিষ্যতে আর প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরি না হয় সেজন্য এখন আগেই প্রকল্প চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের জুনে ঢাকা সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নতুন করে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেন। এটি ‘দ্বিতীয় এলওসি’ নামে পরিচিত। প্রতিশ্রুতির নয় মাস পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ভারতের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়। তার দুই মাস পর অর্থাৎ ওই বছরের ২৭ মে ঋণ চুক্তি কার্যকর হয়। তার আগেই শুরু হয় প্রকল্প যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব ঋণের ক্ষেত্রে আগেই প্রকল্প ঠিক করা উচিত ছিল। এখন যে অবস্থা তৈরি হয়েছে এতে সময় বেশি লাগবে, ব্যয় বাড়বে- শুধু তাই নয় নানা জটিলতার আশংকাও রয়েছে।

প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ট্রাকস ফর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি)’ প্রকল্পটি গত বছরের ২০ জুন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছে। এরপর ওই বছরের ৩০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদন দেয়া হয়। একই সময়ে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক ও একনেকে অনুমোদন পায় ‘প্রকিউরমেন্ট অব ডাবল ডেকার অ্যান্ড সিঙ্গেল ডেকার এসি অ্যান্ড নন-এসি বাসেস ফর বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (বিআরটিসি)’ প্রকল্পটিও। এ প্রকল্প দুটির দরপত্র ও দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ৯ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া ‘ইম্প্রুভমেন্ট অব আশুগঞ্জ রিভার পোর্ট-সরাইল-দারখার-আখাউড়া ল্যান্ড পোর্ট রোড অ্যাট ফোর লেন ন্যাশনাল হাইওয়ে’ শীর্ষক প্রকল্পটি গত বছরে ২০ জুন ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন করে। ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর একনেকে অনুমোদনের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পাঠানো হয়। পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হলেও সভার সুপারিশ প্রতিপালন করা হয়নি।

‘প্রকিউরমেন্ট অব ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড মেশিনারিজ অব কনস্ট্রাকশন, রিপিয়ার অ্যান্ড মেইনটেনেন্স অব রোড ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ প্রকল্পটি গত বছরের ১ নবেম্বর ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি একনেক অনুমোদন দিয়েছে। ১০ জানুয়ারি বিড ডকুমেন্ট পাঠানো হয়েছে ভারতীয় হাইকমিশনে। ‘কনস্ট্রাকশন অব ডাবল লাইন লিংক ট্র্যাক ইন খুলনা-দর্শনা জংশন সেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ে’ প্রকল্পটি গত বছরের ১ নবেম্বর অনুমোদন দেয় ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক। এখনও মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি একনেকের জন্য পাঠানো হয়নি।

এছাড়া ‘কনস্ট্রাকশন অব নিউ ক্যারেজ ওয়ার্কশপ ইন সৈয়দপুর রেলওয়ে ওয়ার্কশপ ইনক্লুডিং ফিজিবিলিটি স্টাডি’ শীর্ষক প্রকল্পটি গত বছরের ২০ জুন ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। এখন পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি একনেকের জন্য পাঠানো হয়নি। ‘কনভারসন অব মিটারগেজ লাইন টু ডুয়েলগেজ লাইন ইন পার্বতীপুর-কাউনিয়া সেকশন অব বাংলাদেশ রেলওয়ে’ প্রকল্পটি গত ১ নবেম্বর ভারতের এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন দেয়। কিন্তু এখনও মন্ত্রণালয় থেকে ডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি। ‘বড় পুকুরিয়া-বগুড়া-কালিয়াকৈর ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ লাইন’ প্রকল্পটিও একই দিন ভারতীয় এক্সিম ব্যাংক অনুমোদন করে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ