ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রধান বিচারপতিকে রাজাকার বলায় শামসুদ্দিন চৌধুরীকে নোটিশ

স্টাফ রিপোর্টার: প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে টেলিভিশন টকশোতে রাজাকার বলায় অবসরে যাওয়া আপিল বিভাগের বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে লিগ্যাল নোটিশ দেয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এই বক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য নোটিশে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বরাদ্দের মেয়াদ শেষেও সরকারি বাসা না ছেড়ে তাতে বেআইনিভাবে অবস্থান করায় এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে ছয় মাসের ভাড়া চেয়ে নোটিশ দিয়েছে সরকারি আবাসন অধিদফতর। 

গত বুধবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের এক টকশোতে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে ‘রাজাকার’ বলেন শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। আপত্তিকর এই উক্তির জন্য তাকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এই নোটিশ পাঠানো হয়। 

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ রাত ১১টায় বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজে নবনিতা চৌধুরীর সঞ্চানলায় টকশো ‘রাজকাহন’ অনুষ্ঠানে সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, আপনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির আত্মস্বীকৃত সদস্য, স্বাধীনতাবিরোধী এবং একজন রাজাকার। যা দেশ-বিদেশে কোটি কোটি দর্শক দেখেছেন। টকশোতে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও মাসুদ আহমেদ তালুকদার।’

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, আপনার বক্তব্য অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক পদে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান বিচারপতি যদি রাজাকার হয়ে থাকেন তাহলে এ বিজয়ের মাসে ৩০ লাখ শহীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বলে বিবেচিত হয়। একজন রাজাকারের অধীন দেশের সমস্ত বিচার বিভাগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। বার এবং বেঞ্চের মধ্যে যে সুসম্পর্ক সেটাও বিঘœ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি আইনজীবী হিসেবে এ আদালতে পেশাগত দায়িত্ব পালন করাও বিব্রতকর, যাতে আমার মানহানি হয়েছে।

বাসা না ছাড়ায় নোটিশ : এদিকে বরাদ্দের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সরকারি বাড়িতে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বসবাস করায় আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের কাছে বাড়ি ভাড়া চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারি আবাসন অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মাসুদুল আলম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি থেকে জানা যায়, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক অবসরজনিত কারণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী অবসর গ্রহণের পর ২০১৫ সালের ৩ অক্টোবর হতে ২০১৬ সালের ২ এপ্রিল পর্যন্ত ছয় মাস বসবাসের সময় দিয়ে তার নামে বরাদ্দ বাতিল করা হয় এবং ওই সময়ে স্থানীয় গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিতে চিঠির মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মেয়াদ শেষ হলেও বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বাড়িটি স্থানীয় গণপূর্ত অফিসের কাছে হস্তান্তর না করে এখন পর্যন্ত বসবাস করে আসছেন। চিঠিতে বাড়ির ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে সি ডব্লিউ-এন (১০)-৮, সড়ক নং-৩৫, গুলশান, ঢাকা।

প্রসঙ্গত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের বিচারপতি পদ থেকে অবসরে যান। নিয়ম অনুযায়ী তিনি সরকারি বরাদ্দ পাওয়া বাসায় অবসরের ছয় মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। ছয় মাস মেয়াদ অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তিনি সরকারি বাসা না ছেড়ে সেখানে অবস্থান করছেন। 

প্রসঙ্গত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক নানা কারণে বিতর্কিত। অবসরে যাওয়ার আগে তিনি প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। আবার অবসরে যাওয়ার পরেও ১৬৭ মামলার রায় না লেখায় বিচারপতি শাসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে মামলা ফেরত দিতে চিঠি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। অবসরের পর বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক আরো একটি টিভি চ্যানেলে প্রধান বিচারপতিকে রাজাকার আখ্যায়িত করে মন্তব্য করেন। বিচারপতি থাকাকালেও নানা কারণে তিনি বিতর্কিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ