ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ডা. ইকবালের স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ের জামিন হাইকোর্টে

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের চেয়ারম্যান ডা. এইচ বি এম ইকবালের কারাবন্দি স্ত্রী মমতাজ বেগম ও দুই ছেলে ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল এবং মেয়ে নওরীন ইকবালকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। সম্পদের তথ্য গোপন এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় তিন বছরের সাজার মামলায় তাদের এই জামিন দেয়া হলো। একইসঙ্গে এই মামলায় বিচারিক আদালতের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন আদালত। একদিন আগে সাজার বিরুদ্ধে ডা. এইচ বি এম ইকবালের স্ত্রী, তিন সন্তানকে আপিল করার অনুমতি দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। বিলম্ব মার্জনা করায় তারা বিচারিক আদালতের সাজার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ পান। 

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। গত বুধবার এই বেঞ্চ সাজার বিরুদ্ধে তাদের করার আপিলের বিলম্ব মার্জনা করেন।

আদালতে ডা. এইচবিএম ইকবাল পরিবারের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদার। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান।

আগের দিন খুরশীদ আলম খান বলেছিলেন, আপিলের ক্ষেত্রে যে বিলম্ব হয়েছে তা মার্জনা চেয়ে ডা. এইচ বি এম ইকবালের পরিবারের সদস্যরা আবেদন করেছিলেন। আদালত বিলম্বের বিষয়টি মার্জনা করেছেন। এখন তারা আপিল করতে পারবেন। তাদের পক্ষে জামিনও চাওয়া হয়েছিল। আমি বিরোধিতা করেছি। তারা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণের পর জামিন চাইতে পারে। আদালত তাদের জামিন দেননি। এর একদিন পরই জামিন পেলেন ডা. ইকবালের পরিবারের সদস্যরা। 

১৯৯৬ সালের ১২ জুনের নির্বাচনে রাজধানীর রমনা-তেজগাঁও আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডা. এইচ বি এম ইকবাল। তার ছেলে ইমরান ইকবাল ওই ব্যাংকের একজন পরিচালক। আরেক ছেলে মঈন ইকবাল ও মেয়ে নওরীন ইকবালও একসময় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে ছিলেন।

জরুরি অবস্থার সরকরের সময় ২০০৭ সালের ২৭ মে ডা. ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক। এ মামলায় হাইকোর্ট থেকে খালাস পান ডা.ইকবাল । পরের বছর ১১ মার্চ বিশেষ জজ আদালত এ মামলার রায়ে ডা. ইকবালকে ১৩ বছরের কারাদ- এবং ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করে। তার স্ত্রী ও সন্তানদের তিন বছর করে কারাদ- এবং ১ লাখ টাকা করে অর্থদ- দেয়। ওই বছর ১৭ সেপ্টেম্বর ডা. ইকবালের ভাইয়ের আবেদনে হাইকোর্ট এ মামলায় বিশেষ জজ আদালতের দেয়া রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একইসঙ্গে সাজা কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি ডা. ইকবালের আবেদনে হাইকোর্ট তাকে এ মামলা থেকে খালাস দেয়। কিন্তু আপিল বিভাগ গতবছর ইকবালের স্ত্রী-সন্তানদের আবেদন খারিজ করে দিলে তাদের তিন বছরের সাজা ও অর্থদন্ড বহাল থাকে। একইসঙ্গে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পনের নির্দেশ দেন সর্বোচ্চ আদালত। এরপর গত ৮ মার্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন ইকবালের পরিবারের চার সদস্য। সেদিনই জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ