ঢাকা, শুক্রবার 17 March 2017, ০৩ চৈত্র ১৪২৩, ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

অধিগ্রহণকৃত জমিতে চলছে স্থাপনা তৈরির হিড়িক

 

খুলনা অফিস: খানজাহান আলী বিমানবন্দরের আশপাশে একটি চক্র অন্যের মালিকানা জমিতে নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তুলছে অবৈধ স্থাপনা। বিমানবন্দরের জায়গা চূড়ান্ত হবার পর থেকে এই চক্রটি জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা বেশি পাওয়ার প্রলোভন দিয়ে বিলান জমিতে মাটি ভরাট করে রাতারাতি বিল্ডিং ও কাঁচাপাকা ঘর নির্মাণ এবং জমিতে বসানো হয়েছে সেচ দেয়ার গভীর, অগভীর নলকূপের পাইপ। তাকাতেই চোখ ঝলসে যায় শত শত নতুন ঘরের টিনে। দেখে মনে হয় এটা নতুন কোনো গঞ্জ বা শহর।

স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়ি এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের আধারে চার্জার লাইটের আলোয় নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এই চক্রটি। বেশ কয়েকবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা তৈরিতে বাধা দেয়া হলেও তা পুরোপুরিভাবে নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণে প্রস্তাবিত জমিতে সরকারের শুধু ক্ষতিপূরণ বাবদই গুণতে হতে পারে বিপুল অর্থ।

১৯৯৬ সালে বাগেরহাটে রামপালে খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য প্রথমে ৯৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। মাটি ভরাটসহ বেশ কিছু দৃশ্যমান কাজ হলেও বিগত বছরগুলোতে তেমন কোন কাজ হয়নি। গত বছরের ৫ মে একনেক সভায় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে ৫৩৬ একর বাড়ানো হয়। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য পরবর্তীতে ৯টি মৌজা থেকে জমি অধিগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একনেকে অনুমোদন এর পর বিমানবন্দরের জন্য ৫৫৪ একর জায়গা বরাদ্দ নেয়া হয়। যার অধিকাংশই বিলান জমি। বেসরকারি বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের একটি পর্যবেক্ষণ দল বেশ কয়েকবার এলাকা পর্যবেক্ষণ করে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নেই বিধায় ওই জায়গা চূড়ান্ত করেন। এতে স্বল্প খরচে জমি অধিগ্রহণ করে বিমানবন্দর নির্মাণের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

অনুমোদনের পর একটি স্বার্থান্বেষী দালাল চক্রের সহায়তায়, জমির মালিককে অধিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সেখানে রাতারাতি গড়ে তুলছে কাঁচা, টিনশেড ঘরসহ বিল্ডিং এবং ফসলী জমিতে সেচের পাইপ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ৯টি মৌজা থেকে জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়াধীন জমিতে কাচা-পাসা শত শত ঘর। তাকাতেই চোখ ঝলসে যায় নতুন টিনে। দেখে মনে হয় এটা নতুন কোনো গঞ্জ বা শহর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানায়, সরকারি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পার্শ্ববর্তী একব্যক্তি খুলনা-মংলা রেললাইনের জন্য অধিগ্রহণকৃত জায়গা থেকে কয়েক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ পায়। বর্তমানে সে বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকদের সাথে চুক্তি করে তাদের জায়গায় মাটি ভরাটসহ ঘর তৈরিতে সমুদয় অর্থ ব্যয় করছে। জমিতে ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে পাওয়ামাত্র তার একটি অংশ ওই ব্যক্তিকে দিতে হবে এই মর্মে মৌখিক চুক্তি করে অত্যন্ত গোপনে কাজ করছেন। ওই ব্যক্তিকে অবৈধভাবে বাড়ি নির্মাণের জন্য কয়েকদিন আগে গ্রেফতার হয়। বর্তমানে জামিনে বের হয়ে সে খানজাহান আলী বিমানবন্দরের জন্য অধিগ্রহণকৃত নতুন জায়গা অন্যের জমিতে বেশ কিছু স্থানে গোপনে বাড়িঘর নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও এলাকার কিছু চিহ্নিত লোক ক্ষতিপূরণের টাকায় রাতারাতি কোটিপতি বনে যাবার আশায় এটাকে ব্যবসা হিসেবে হাতে নিয়েছেন। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন রাজমিস্ত্রী জানান, ওই এলাকায় প্রতিদিন রাজমিস্ত্রীকে দুই হাজার টাকা এবং শ্রমিকদের তিনগুণ মজুরি দেয়া হয়। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রকৃত জমির মালিক যাদের পুরাতন ঘর রয়েছে তারা যাতে ক্ষতিপূরণের টাকা পায়। আর রাতের আধারে যারা নতুন নতুন প্রায় ৫ শতাধিক ঘর নির্মাণ করেছে তদন্ত করে ক্ষতিপূরণ থেকে তাদের বাদ দেয়া উচিত।

স্থানীয় সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, বিমানবন্দরের অধিগ্রহণকৃত জমিতে নতুন স্থাপনার জন্য কোন ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে না। তিনি সকল জমির মালিকদের এহেন কর্মকা- থেকে বিরত থাকতে বলেছেন।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ইতোমধ্যেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের জরিমানা করা হয়েছে। সম্প্রতি ৩ ধারা নোটিশের মাধ্যমে এলাকাবাসীদের অধিগ্রহণকৃত জায়গায় কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ