ঢাকা, শনিবার 18 March 2017, ০৪ চৈত্র ১৪২৩, ১৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ধৈর্য ধরেছি বলেই সেঞ্চুরি পেয়েছি -সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার : শ্রীলংকার করা ৩৩৮ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে টি-টোয়েন্টি স্টাইলেই ব্যাটিং শুরু করেছিলেন সাকিব। রান আসলেও টেস্টে সাকিবের এমন ব্যাটিং কেউ পছন্দ করেনি। দলের প্রয়োজনে সাকিব টিকে থাকবে এটাই চেয়েছিল সবাই। ব্যাপারটা সাকিব বুঝতে পেরেছিলেন কি করতে হবে তৃতীয় দিনে। আর এটা নিয়ে অনেক ভেবেছেন সাকিব আল হাসান। ঠিক করেছিলেন বদলে ফেলবেন নিজেকে। সময় নিয়ে চেষ্টা করবেন লম্বা ইনিংস খেলতে। সফল হয়েছেন সাকিব। শততম টেস্টে নিজেকে আবার প্রমাণ করে সাকিব উপহার দিলেন দারুণ সেঞ্চুরি। আগের দিন বিকেলে অপরাজিত ছিলেন ৮ বলে ১৮ রান করে। মেরেছিলেন চারটি রাউন্ডারি। সেটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে অনেক। গতকাল সেই সাকিবই উইকেট আঁকড়ে খেলেছেন ১১৬ রানের ইনিংস। আর দলকে নিয়ে গেছেন ৪৬৭ রানের বড় স্কোরে। আর এমন সফল একটি ইনিংস খেলে সাকিব জানালেন, মানসিকতা বদলেছি অনেক ভেবে-চিন্তেই। আর ধৈর্য ধরেছি বলেই সেঞ্চুরি করতে পেরেছি। গতকাল সেঞ্চুরি করার পর সাকিব বলেন, ‘আসলে পুরোটাই মেন্টাল অ্যাডজাস্টমেন্টের ব্যাপার। কিছু কিছু সময়ে আমাদের সবাইকেই এটি করতে হয়। আমি ভাগ্যবান যে এবার সেটি করতে পেরেছি। গতকাল অনেক ভেবেছি, কঠিনভাবে চিন্তা করেছি। ঠিক করেছি, ধৈর্য ধরে খেলাই হবে সঠিক অ্যাপ্রোচ। দলের জন্য, নিজের জন্য সেঞ্চুরিটি দরকার ছিল। অবশ্যই এটা আমার ভালো ইনিংসগুলোর একটি। অনেক ধৈর্য ধরে খেলেছি। কঠোর পরিশ্রম করেছি। এই ধরনের উইকেটে ধৈর্য ধরা প্রয়োজন, উইকেটে যথেষ্ট সময় কাটানো প্রয়োজন। তাহলেই কেবল রান পাওয়া যায়। আমি ধৈর্য ধরেছি বলেই রান করতে পেরেছি।’ সাকিবের ভাবনায় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে প্রথম ইনিংসে দিনেশ চান্দিমালের সেঞ্চুরিটিও। এটা নিয়ে সাকিব বলেন, ‘দিনেশ চান্দিমালের ব্যাটিং  দেখেও অনেক শিখেছি। সে যেভাবে উইকেটে ছিল, সেটাই চেষ্টা করেছি।’ আর এতেই সাকিব অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে রেকর্ড বইয়ে ঢুকে গেলেন। বিশ্ব ক্রিকেটে এর আগে শততম টেস্টে আরও ৭ ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করেছিলেন নিজ নিজ দেশের পক্ষে তাদের পর অষ্টম ক্রিকেটার হিসেবে সাকিব এই কীর্তি গড়লেন বাংলাদেশের শততম টেস্ট খেলতে নেমে। পাকিস্তানের মাজিদ খান, অস্ট্রেলিয়ার ওয়ারেন বার্ডসলি ও চার্লস কেলওয়ে, নিউজিল্যান্ডের বেভান কংডন ও ব্রায়ান হেস্টিংস, দক্ষিণ আফ্রিকার বিলি ওয়েড এবং জিম্বাবুয়ের গ্রায়েম ক্রেমারের পর সাকিব করলেন দলের শততম টেস্টে সেঞ্চুরি। ব্যাট করতে নেমে সাকিব যেভাবে ব্যাট করা শুরু করেছিলেন তাতে অবাক হয়েছিলেন সবাই। কিন্তু সেই সাকিবই তৃতীয় দিন বদলে গেলেন। গতকাল ব্যাট করতে নেমে মুশফিক আউট হওয়ার আগে তাকে সঙ্গে নিয়ে দারুণ একটি জুটি গড়েন সাকিব। মুশফিক বিদায় নেয়ার পর মোসাদ্দেককে সঙ্গে নিয়ে শতরানের আরও একটি জুটিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ চারশ’ পার হয়। সেইসঙ্গে সাকিবও তুলে নেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। আর বাংলাদেশর শততম ম্যাচে সেঞ্চুরি করে নিজেকে চেনালেন তিনি। কিছুদিন ধরে সাকিবকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছিল যে সাকিব আগের মতো ফর্মে নেই। টেস্ট ক্রিকেটে সাকিব যে দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন, সেইসব নিয়েই ছিল প্রশ্ন।  কিন্তু সাকিব কখনই তা মানতে চাননি। গতকালও সেঞ্চুরির পথে খুব বেশি স্ট্রোক খেলছিলেন এই অলরাউন্ডার। আর ১১৬ রানে সান্দাকানের বলে এগিয়ে খেলতে গিয়ে চান্ডিমালের দুর্দান্ত ক্যাচে সাজঘরের পথ ধরেন সাকিব। দ্বিতীয় দিনে ১১ রানে জীবন পেয়ে সেটাকে খুব ভালো করেই কাজে লাগান সাকিব। বাংলাদেশের সেরা এই অলরাউন্ডার বেশ কয়েকটা ‘সুযোগ’ দিলেও  সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি লঙ্কান ফিল্ডাররা। আর তাতেই বেঁচে যান সাকিব। পেরেরার লেগ স্টাম্পের বাইরে বলটি সুইপ করে চারের সাহায্যে লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন সাকিব। এর আগে দলটির বিপক্ষে তার সর্বোচ্চ রান ছিল ৯৬। ২০০৮ সালে ঢাকা টেস্টে সাকিব অল্পের জন্য সেঞ্চুরিবঞ্চিত হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ