ঢাকা, রোববার 19 March 2017, ০৫ চৈত্র ১৪২৩, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

মসজিদে কেন বিমান হামলা

বিমান হামলা, বোমা হামলা কি কোনো ছেলে খেলার বিষয়? বর্তমান সভ্যতায় বৃহৎ শক্তিবর্গের আচরণ দেখে মনে হয়, তাদের কাছে যেন বিমান হামলা, বোমা হামলার বিষয়গুলো তেমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। তাদের ইচ্ছায়, তাদের পরিকল্পনায় দুর্বল রাষ্টগুলোর ওপর তারা দাপট দেখিয়ে চলেছে। তাদের হামলায় মানুষ মারা যায়, মসজিদ ধ্বংস হয়, তারপরও তারা নির্বিকার। এ কারণেই বর্তমান সভ্যতার শাসকদের শুধু নিষ্ঠুর নয়, অমানবিক বলেও মনে করে থাকেন বিশ্বের সাধারণ মানুষ। কিন্তু সাধারণ মানুষের এমন ধারণায় তারা তেমন বিচলিত নন। বরং পারমাণবিক অস্ত্র ও সেনাসামর্থ্যরে কারণে তারা নিজেদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে মনে করে থাকেন। কৃতকর্মের জন্য এই পৃথিবীতে যে তাদের কোনোদিন জবাব দিতে হবে, তাতে তারা বিশ্বাসী নন। আর মহান স্রস্টার আদালতে যে, তাদের হিসাব দিতে হবে সে কথাও হয়তো ভুলে গেছেন। ফলে এই পৃথিবী ক্রমেই মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ‘আলেপ্পোয় মসজিদে মার্কিন বিনাম হামলা : নিহত ৫৮’ শিরোনামে একটি খবর মুদ্রিত হয়েছে পত্রিকান্তরে। ১৮ মার্চ তারিখে মুদ্রিত খবরটিতে বলা হয়, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে আলেপ্পোতে বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত একটি গ্রামের মসজিদে বিমান হামলা হয়েছে। এতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৫৮ জন মুসল্লি। আহত হয়েছেন আরো শতাধিক। নিহতদের বেশির ভাগই স্থানীয় বেসামরিক নাগরিক। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি জানায়, আপেপ্পো প্রদেশের আল-জিনাহ মসজিদে এ বিমান হামলা চালানো হয়। প্রথমে সংস্থাটি বলেছিল, কোন দেশের বাহিনী সেখানে এ হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি। সেখানে রাশিয়া ও সিরিয়ার বিমান বাহিনী সক্রিয় রয়েছে এবং মার্কিন বিমান বাহিনীও এ অঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই এলাকায় বিমান হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। পেন্টাগন অবশ্য দাবি করেছে, তারা মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। কিন্তু সিরিয়ার একটি বিদ্রোহী গ্রুপ বলেছে, মার্কিন জোটই ওই মসজিদে হামলা চালিয়েছে। উল্লেখ্য যে, হামলার সময় মসজিদটিতে মুসল্লিরা মাগরিবের নামায আদায় করছিলেন।
তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী নোমান কুরতুলমুস সিরিয়ার মসজিদে বোমা হামলার ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আঙ্কারায় সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। বেসামরিক লোকদের ওপর হামলা, মসজিদে মুসল্লিদের ওপরে হামলা কিংবা যে কোনো উপাসনালয়ে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।’ মসজিদে বিমান হামলায় ৫৮ মুসল্লির নিহত হওয়ার ঘটনা খুবই মর্মান্তিক। মানবতার বিরুদ্ধে এমন অপরাধকে কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনার বিচার হওয়া প্রয়োজন। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন মুসলিম দেশে পরাশক্তিগুলো নানা অজুহাতে হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। হামলায় যেভাবে মানুষ নিহত হচ্ছে, বাড়ি-ঘর ধ্বংস হচ্ছে, তাতে দায়িত্বশীলতা কিংবা মানবিক উপলব্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেক সময় হামলার নৃশংসতা এমন পর্যায়ে উপনীত হয় যে, তাতে মনে হয় মুসলমানদের জীবন এবং বসতির যেন কোনো মূল্য নেই। এমন আচরণে বিদ্বেষ ও বিকৃত মনোভাবের পরিচয় পাওয়া যায়। বর্তমান পৃথিবী ও সভ্যতার জন্য এটি কোনো ভালো খবর নয়। বর্তমান সময়ে তো আমেরিকা, রাশিয়াসহ পরাশক্তিগুলো বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও সামরিক বিদ্যায় এতোটাই উন্নতি লাভ করেছে যে, তাদের হামলা তো লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার কথা নয়। তারা যেখানে চায় সেখানেই হামলা করতে পারে। ফলে মসজিদে বিমান হামলা এক বড় প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সভ্যতার শাসকদের কাছে এই প্রশ্নের কোনো জবাব আছে কী?

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ