ঢাকা, রোববার 19 March 2017, ০৫ চৈত্র ১৪২৩, ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ঋতু রাজবসন্ত

বাতেন বাহার : শুষ্ক হিমেল হাওয়ার সাথে কুয়াশার চাদর মোড়া শীতের প্রকোপ কমে এলে, নতুন পত্র পল্লবে শোভিত অবয়ব নিয়ে অবির্ভূত হয় মহাজাগরণের ঋতু, ঋতুরাজ বসন্ত। সবুজ পত্র পল্লবে শোভিত এ ঋতুর জাগরণে কোকিলের কুহুতান ভাসে আকাশে বাতাসে। ফুলে ফুলে ভরে উঠে বাগ বাগিচার তরুলতা আর পত্র পল্লব। নতুন এক শিহরণ জাগে কিশোর যুবা আর সব শ্রেনী পেশার মানুষের মনে।
এ সময় যব, গম, মশুরী, তিষি, রাই, খেসারি, চিনা, কাউন, ধন্যে অবশেষে পাকা বোরো ধান ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় কাটে কৃষাণ-কৃষাণীর। রাখালী বাঁশীর সুরে পরনো স্মৃতি কথা জাগে হাজার মনের গভীরে। প্রাণে প্রাণে স্পন্দন জাগে সে ঋতুর অভিনব সাজে, পোষাক ও রূপ লাবণ্যে।
মধ্য যুগের এবং বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের আবির্ভাবের পূর্বে এ ঋতুকে নিয়ে মেতে থাকতেন তৎকালীন ছোট বড় সব কবি সাহিত্যক আর ভাবুক শ্রেণী। এর মধ্যে বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের চিন্তা চেতনা এ ঋতুকে ছাড়িয়ে অন্য একটি বিশেষ ঋতুকে তার  ছড়া কবিতা গল্পে তথা মন মননে ঠাঁই দিয়ে ঐ ঋতুকে মহিমান্বিত করে তুলেছেন। সত্যিই বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের পূর্বে কম বেশী সব কবি সাহিত্যিকই বসন্ত ঋতুকে নিয়ে মেতে থেকেছেন। এর ব্যতিক্রম শুধু বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর। তিনি বর্ষা ঋতুকেই বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন এবং এ ঋতুকে নিয়েই মেতে থেকেছেন। যেমন-
‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে
বাদল গেছে টুটি
আজ আমাদের ছুটি ও ভাই
আজ আমাদের ছুটি’।
কিংবা
‘নীল নভ ঘনে আষাঢ় গগনে
তিল ঠাঁই আর নাহিরে
ও গো আজ তোরাÑ
যাসনে ঘরের বাহিরে।’
তবে, বাংলা ভাষা, বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির প্রিয় ঋতু হচ্ছে বসন্ত। কারণ, এ ঋতুকে ঘিরেই বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন সমূহ এসেছে। মহান ৮ই ফাল্গুন বা একুশে ফেব্রুয়ারীতে সালাম, জাব্বার, শফিক, বরকত সহ নাম জানা, না জানা শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে মাকে মা ডাকার অধিকার, মায়ের ভাষা বাংলা ভাষার কথা বলার অধিকার।
মহান একুশে ফেব্রুয়ারী যা আজ বিশ্ববাসীর কাছে বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। আর মাতৃভাষার আন্দোলন এবং জয় থেকে এসেছে স্বাধিকার আন্দোলন। যে আন্দোলনের রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে ১৯৭৭ বাংলা সনের বারই চৈত্র বা ১৯৭১ সালে ২৬ শে মার্চ তারিখে সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে মা মাটি এবং বাংলা ভাষার চূড়ান্ত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।
তাই বসন্ত ঋতু আজ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ ঋতু এবং মা মাটি, মাতৃভাষা আর স্বাধীনতার মহান দিন ক্ষণ, যা চির স্মরণীয় হয়ে আছে এবং থাকবে।
তাছাড়া ফসল বোনার এবং ফসল তোলার ঋতু হিসেবে পাতা-পল্লবে শোভিত এ বসন্ত ঋতু আজ বাংলার ঘরে ঘরে প্রিয় ঋতু।  শিশু কিশোর, যুবক-যুবতী এবং সকল শ্রেণী পেশার মানুষের প্রিয় ঋতু। কারণ এ ঋতু বা সময়ে অর্জিত শ্রেষ্ঠ অর্জনের জন্যই আমরা বাঙালি জাতি বিশ্বে নন্দিত জাতি হিসেবে মাতৃভাষায় কথা বলতে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে এবং পথ চলতে শিখেছি। আলোর পথে ক্ষীপ্র পায়ে হাঁটতে শিখেছি এবং হিমালয়ের মত মাথা উচুঁ করে দাঁড়াতে শিখেছি । আমাদের সকল সত্তা জুড়ে আজ বসন্ত ঋতুর অর্জিত উল্লাস-

আগামী দিনের স্বপ্নে স্বাধীন সূর্য উঠে
পূব আকাশের রক্ত লাল দৃশ্যপটে সুখ
সম্ভাবনার শপথ প্রিয় নবীন আশায়
মা ও মাটির স্বাধীনতায় ঋদ্ধ স্বাধীন বুক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ