ঢাকা, বুধবার 21 November 2018, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বিদেশের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মেয়ের অর্জন

অনলাইন ডেস্ক: জনপ্রিয় চিকেন এন্ড এগ অ্যাওয়ার্ডে দেশ বিদেশের ১০ জন নারী নির্মাতা এবং সহ-নির্মাতা কে চূড়ান্ত প্রতিযোগী হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীদের প্রত্যেককে ৩৫০০০ ডলার দেয়ার পাশাপাশি বছরব্যাপী সৃজনশীল এবং পেশাদারী প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। বাংলাদেশের মেধাবী নারী নির্মাতা এলিজাবেথ ডি কস্তা চূড়ান্ত প্রতিযোগীদের মাঝে থাকার সম্মান অর্জন করেছেন। ‘দ্যা সার্ফ গার্লস অব কক্সবাজার’ ডকুমেন্টারির জন্য মনোনীত হয়েছেন তিনি।

২০০৫ সাল থেকেই বাস্তব ধর্মী ছবির নারী নির্মাতাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য এই পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। গল্পের মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দিয়ে ক্রিয়েটিভ মিডিয়ায় স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ে দেয়ার জন্য কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় তৈরি করা ছবিগুলো অস্কার এবং এমি অ্যাওয়ার্ডসহ বহু পুরস্কার জিতেছে।

এলিজাবেথ ডি কস্তার কর্ম জীবনে হাতে খড়ি হয়েছে তারেক মাসুদ এবং ক্যাথরিন মাসু্দের কাছে। ইন্টার্ন স্ক্রিপ্ট সুপারভাইজার হিসাবে তাদের সাথে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। গত আট বছর ধরে দেশে-বিদেশে নির্মাতা এবং সহ-নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত তিনি বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন, ভাইস নিউজ ইউকে, স্প্যানিশ টিভি এবং ব্লুমবার্গ টিভিতে কাজ করেছেন। এছাড়াও তিনি শারমিন ওবায়েদ চিনয়ের সাথে ‘এ জার্নি অব থাউসেন্ড মাইলস: পিস কিপারস’ এ সহ নির্মাতা হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউএনডিপিতে কমিউনিকেশন অ্যাডভাইজার হিসেবে কর্মরত আছেন । মেধাবী এই নির্মাতাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছে তার এই পুরস্কার জয়ী ডকুমেন্টারি সম্পর্কে।

বাংলাদেশের তিনজন নারী সার্ফারকে নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করছেন এলিজাবেথ ডি কস্তা

ডকুমেন্টারির কাহিনীটা কী নিয়ে গড়ে উঠেছে?

ডকুমেন্টারির কাহিনী গড়ে উঠেছে কক্সবাজারের জাহানারা, রিফা এবং আয়েশাকে নিয়ে। তারা বাংলাদেশের তিনজন নারী সার্ফার। সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি একটি বস্তিতে বসবাস করে তারা। কম বয়সেই জীবিকার সন্ধানে বের হওয়া এই মেয়েগুলো জানতো যে অন্যদের মতো তাদেরকেও চৌদ্দ-পনেরো বছর বয়সে বিয়ে করে সংসারের চার দেয়ালে জীবনটাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলতে হবে। একদিন কক্সবাজারের একটি সার্ফিং ক্লাবের সন্ধান পেয়ে জীবন বদলে যাওয়া শুরু করে তাদের। ধীরে ধীরে সার্ফিং এর মাধ্যমেই স্বাধীন জীবনের স্বপ্ন দেখা শুরু করে তারা। তাদের মনে আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে যে তারা একসময় আন্তর্জাতিক সার্ফার হিসেবে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।

সার্ফিং নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য আগ্রহী হলেন কেন?

বিবিসি বাংলাদেশের করা বাংলাদেশের মেয়েদের সার্ফিং নিয়ে একটি ফিচার পরে বাংলাদেশের নারী সার্ফারদের প্রতি আগ্রহ জন্মেছিলো। এরপর কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়ে মেয়েগুলোর সাথে দেখা করি আমি। তাদের সাথে সময় কাটানোর ফাঁকে তাদের জীবনের গল্পটা জানা হয় আমার। তাদের কাছে সার্ফিংটা শখ নয় বরং বেঁচে থাকার স্বপ্ন। তাদের জন্য জীবনের সব ঝামেলা, জটিলতাকে ভুলে থাকার মাধ্যম হলো সার্ফিং। ছোটো ছোটো মেয়েগুলোর এই স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা আমার মনকে ছুঁয়ে গিয়েছিলো। মনে হলো, বিষয়টিকে নিয়ে একটি ভালো ডকুমেন্টারি তৈরি করা গেলে হয়তো এটা থেকে দেশের অন্য কোনও প্রান্তে থাকা একটি মেয়ে অনুপ্রাণিত হবে। সেই সঙ্গে দেশের বাইরের মানুষও জানবে যে বাংলাদেশের মেয়েরা সার্ফিং এ এগিয়ে যাচ্ছে।

তাদের কাছে সার্ফিংটা শখ নয় বরং বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

কীভাবে ডকুমেন্টারি তৈরির কাজটা শুরু করেছিলেন?

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে টরেন্টো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে গিয়ে প্রযোজক এবং পরিচালক ললিতা কৃষ্ণার সাথে গল্পটি নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ হয়। তিনি গল্পটি শুনে খুব পছন্দ করেন এবং এটা নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরির জন্য উৎসাহ দেন। যেহেতু দেশি-বিদেশি বেশ কিছু মিডিয়ায় সার্ফিং এর মেয়েদের নিয়ে কিছু ছোট ডকুমেন্টারি করেছিলো, তাই আমি চাইছিলাম ব্যতিক্রম কিছু করতে। এরপরই সিদ্ধান্ত নিলাম বিষয়টি নিয়ে একটি অবসারভেশন ডকুমেন্টারি করবো। এরপর আমি সার্ফারদের প্রশিক্ষক রাসেদের সাথে কথা বলি। রাসেদের সম্মতি পাওয়ার পর কাজ শুরু করি আমি। এপ্রিল থেকে পুরো দমে শুটিং শুরু হবে এবং এক বছর ধরে শুটিং চলবে। সার্ফিং এর মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনের নানান দিক তুলে ধরা হবে এই অবসারভেশন ডকুমেন্টারিতে।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিলেন কিভাবে?

সাউথ এশিয়ার নতুনদেরকে তিনি মেনটরশিপ করেন ললিতা কৃষ্ণা। তিনিই আমাকে এই প্রতিযোগিতা পর্যন্ত আসার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। ইডফাতে (ইন্টারন্যাশনাল ডকুমেন্টারি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল আমস্টারডাম) প্রযোজকদের একটি মার্কেট থাকে যেখানে প্রযোজকরা শিডিউল অনুযায়ী সময় দেন। সেখানে ডকুমেন্টারিটির ট্রেইলার দেখানোর সুযোগ পেয়ে যাই। ডকুমেন্টারিটি অনেকেই পছন্দ করেন এবং তারাই এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পথ দেখিয়ে দেন।

মজার অভিজ্ঞতা কী ছিলো

আমার কাছে পুরো কাজটি করতেই খুব মজা লেগেছে। কারণ সার্ফার মেয়েগুলোর সাথে একজন সাধারণ পর্যটক হিসেবে পরিচয় হয়েছিলো আমার। তাদের সাথে গড়ে ওঠা সেই সখ্যতার কারণে শুটিং এ খুব সাবলীল ছিলো তারা। কারণ ক্যামেরার পেছনের মানুষটা তো অন্য কেউ নয় বরং তাদের এলিজাবেথ আপু।

নতুন নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে কোনও উপদেশ দিতে চান?

আমাদের গল্প অন্য দেশের কেউ নির্মাণ করার চাইতে নিজেরা করলে গল্পটা আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আমি নিজেই এখনও প্রতিনিয়ত শিখছি। এখন পর্যন্ত যতটুকু শিখতে পেরেছি সেই জ্ঞানটুকু অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই আমি।-চ্যানেল আই

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ