ঢাকা, বুধবার 22 March 2017, ০৮ চৈত্র ১৪২৩, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধের রায়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপ ‘ধর্মযুদ্ধ’ শুরু করেছে -এরদোগান

২১ মার্চ, ডয়চে ভেলে :  ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তুরস্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনাকে ইউরোপের খ্রিস্টান বাহিনী ও মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি শাসকদের মধ্যে মধ্যযুগে সংঘটিত ধর্মীয় যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তৈয়ব এরদোগান। তিনি বলেন, ইউরোপ আবারো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের সময়ে ফিরে যাচ্ছে।
তুরস্কে শহর শাখারায় এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় উপস্থিতদের উদ্দেশে এরদোগান বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, ক্রস আর অর্ধচন্দ্রের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এছাড়া আর অন্য কোনো ব্যাখ্যা থাকতে পারে না।'
জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে তুরস্কের মন্ত্রীসহ রাজনৈতিক নেতাদের প্রচারণা চালাতে বাধা দেয়ায় দেশটির সঙ্গে ইইউর উত্তেজনা চলছে। এর প্রতিক্রিয়ায় তুরস্ক ও ইইউর মধ্যে স্বাক্ষরিত হওয়া শরণার্থী চুক্তি বাতিলেরও হুমকি দিয়েছেন তুরস্কের শীর্ষ নেতারা।
এপ্রিলের ১৬ তারিখ তুরস্কে অনুষ্ঠেয় গণভোট নিয়ে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত লাখ লাখ তুর্কি ভোটারদের মধ্যে প্রচারণা চালাতে আগ্রহী তুরস্ক। ওই গণভোটের মাধ্যমে তুর্কি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বহুগুন বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ জাস্টিসের সাম্প্রতিক এক রায়ের উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, ওই রায়ের মধ্য দিয়ে ইউরোপ ‘ধর্মযুদ্ধ' শুরু করেছে। রায়ে কোম্পানিগুলো তাদের কর্মীদের (কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে) হেডস্কার্ফসহ দৃশ্যমান সব ধর্মীয় প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে বলে জানানো হয়।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে এরদোগান জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার' অভিযোগ এনেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘মিসেস ম্যার্কেল, আপনি আপনাদের দেশে সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে রাখছেন কেন? কেন আপনি কিছু করছেন না?'
সম্ভাব্য সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আঙ্কারা যে ৪,৫০০ ফাইল পাঠিয়েছে, ম্যার্কেল সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিতে অস্বীকার করছেন, বলে এরদোগানের অভিযোগ।
তবে ম্যার্কেল এসব বিষয়ে কথা চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন। শুক্রবার জার্মানির আঞ্চলিক এক পত্রিকায় প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি এ ধরনের উত্তেজনামূলক মন্তব্য বিনিময় চালিয়ে যেতে আগ্রহী নই।'
ম্যার্কেল বলেন, ‘তুরস্কের রাজনৈতিক নেতারা জার্মানিতে প্রচারণা চালাতে পারবেন যদি আগে থেকেই জানানো হয় সেখানে কারা উপস্থিত থাকবেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই আয়োজন। আর বিদেশি নেতাদের জার্মানির আইন ও নীতি মেনে চলতে হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ