ঢাকা, বুধবার 22 March 2017, ০৮ চৈত্র ১৪২৩, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ক্রিকেটে শততম টেস্ট জয়

গত রোববার নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল গৌরবোজ্জ্বল বিজয় অর্জন করেছে। বাংলাদেশের দামাল ছেলেরা সেদিন ক্রিকেট দুনিয়ার অন্যতম পরাশক্তি ও সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলংকাকে চার উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে। শ্রীলংকা হেরেছে তার নিজের দেশের মাটিতে, রাজধানী কলম্বোর পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে। শ্রীলংকার জন্য লজ্জার হলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য এ এক অনন্যসাধারণ সাফল্য। এই জয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বেও বিশেষ আভিজাত্যের স্থান দখল করেছে। কারণ, এর আগে মাত্র তিনটি দেশÑ অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান তাদের শততম টেস্ট ম্যাচে জয়ী হয়েছে। সেদিক থেকে বাংলাদেশ উন্নীত হয়েছে চতুর্থ স্থানটিতে। আমাদের গর্বের অন্য এক কারণ হলো, ওই তিন দেশের মতো শততম ওয়ানডে ম্যাচেও জয়ী হওয়ার রেকর্ড রয়েছে বাংলাদেশের।
শততম টেস্ট ম্যাচের এই বিজয় অবশ্য সহজসাধ্য ছিল না। কারণ, প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিল। এর পর পর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচটির শুরু থেকেই বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধারা দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে খেলেছেন। জয়ের উদ্দেশ্যও তারা গোপন করেননি। এজন্যই শ্রীলংকাকে প্রথম ইনিংসে ৩৩৮ রানে এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৯ রানে থেমে যেতে হয়েছিল। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে তৈরি করেছিল ৪৬৭ রানের বিরাট পাহাড়। এর ফলে শ্রীলংকার পক্ষে ব্যবধান কমিয়ে বড় কোনো স্কোর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় ইনিংসে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯০ রানের। এর মধ্যে তামিম ইকবাল একাই করেছেন ৮২ রান। সাব্বির (৪১) এবং মুশফিক (২২) ছাড়া আর কেউ বেশি রান না করতে পারলেও শ্রীলংকাকে পার হয়ে যেতে অসুবিধা হয়নি। বলা হচ্ছে, খেলা শেষদিনে এসে যাওয়ায় বিশেষ চাপে পড়েছিল বলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তাড়াহুড়ো ছিল। না হলে হয়তো ছয়টি উইকেট হারাতে হতো না। আরো সহজেই তারা জয়ী হতে পারতেন। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান যথেষ্ট দেখিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রান করা ছাড়াও উইকেট নিয়েছেন তিনি দুটি। দ্বিতীয় ইনিংসেও চারটি উইকেট নেয়ায় তাকেই সিরিজ সেরা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম ইনিংসে ৪৯ রান করা ছাড়াও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রান করার মাধ্যমে দলের বিজয় নিশ্চিত করায় ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের সম্মান পেয়েছেন তামিম ইকবাল। মুশফিকসহ অন্য ব্যাটসম্যানরাও ভলো করেছেন। বোলারদের মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমান এবং মেহেদি হাসান মিরাজের আক্রমণ ছিল মারমুখী এবং সফল। ফিল্ডিং-এও বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা ভালো করেছেন। আর সব মিলিয়ে ভালো করেছেন বলেই শ্রীলংকার মাটিতে তারা শ্রীলংকাকে হারাতে পেরেছেন।
আমরা এই অবিস্মরণীয় বিজয়ের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা গর্বিত এজন্য যে, শ্রীলংকায় তারা আরো একবার জানান দিয়েছেন, ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশ এরই মধ্যে রীতিমতো একটি শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমাদের আশা ও বিশ্বাস, এভাবেই জয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্ব ক্রিকেটের আসরে আগামী দিনগুলোতেও সাফল্যের সঙ্গে এগিয়ে যাবেন তারা। এটা আসলে সম্ভবও। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ভারত, শ্রীলংকা, নিউজিল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পর্যন্ত হারিয়ে দেয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানকে সিরিজ হারিয়েছেন তারা। নিউজিল্যান্ডকে তো তিন-শূন্য ম্যাচে হোয়াইট ওয়াশ তথা বাংলা ওয়াশও করেছেন তারা। শুধু নিউজিল্যান্ডকে নয়, ২০১২ সালে ক্রিকেট বিশ্বের আরেক পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও ৩-২ ম্যাচে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। ভারতও আগেই হেরে বসে আছে বাংলাদেশের কাছে। ফলে টিম হিসেবে বাংলাদেশ আলোড়ন তুলেছে ক্রিকেট বিশ্বে।
বস্তুত অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ পর্যন্ত সব দেশকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। তাছাড়া বিগত বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধারা যথেষ্ট দাপটই দেখিয়েছেন। বলা হয়েছে এবং এ কথা সত্যও যে, ভারত যদি ষড়যন্ত্রের পথে গোপন আয়োজন না করতো তাহলে বাংলাদেশই সেমি-ফাইনালে চলে যেতো। সেটা সম্ভব না হলেও ক্রিকেটবোদ্ধাদের সঙ্গে আমরাও মনে করি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সামনে যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক কৌশল ও পরিকল্পনার পাশাপাশি ধৈর্য, সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটানো গেলে এবং কোনো রকম পক্ষপাতিত্ব বা অপরাজনীতি না করে উপযুক্ত খেলোয়াড়দের বেছে নেয়া হলে বাংলাদেশের পক্ষে যে কোনো দেশের বিরুদ্ধেই জয়ী হওয়া সহজে সম্ভব হতে পারে। দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে আশা করি, সামনের সব ম্যাচেই সাফল্য অর্জন করবে বাংলাদেশ। এখানে বলা দরকার, ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট ম্যাচে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ১০০টি ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র নয়টিতে। সুতরাং টেস্ট ম্যাচের ব্যাপারে বাংলাদেশ দলকে অনেক বেশি সতর্ক এবং সচেষ্ট হতে হবে।
শ্রীলংকার মাটিতে শততম টেস্ট জয়ের অনন্য সাফল্যের জন্য বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধাদের প্রতি আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন রইল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ