ঢাকা, বুধবার 22 March 2017, ০৮ চৈত্র ১৪২৩, ২২ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শব্দদূষণে নাগরিক জীবন

মাহমুুদুল হক আনসারী : নগরজীবনে নানা ভোগান্তির সাথে শব্দদুষণ একটি নিয়মিত ভোগান্তি। সকাল বিকেল, রাত গভীর রাত পর্যন্ত নগরীর হাট বাজার মাঠ, রাস্তা সর্বত্রই শব্দদূূষণ অনিয়ন্ত্রিত, মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এ শব্দদূষণের মাত্রা অতিমাত্রায় বৃৃদ্ধি পেয়েছে। নগরীর যান চলাচলে অযৌক্তিকভাবে হরণের আওয়াজ হৃদরোগী, হার্টরোগী, নারী-শিশুদের মারাত্মকভাবে শব্দদূষণের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। নাগরিকদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তা মার্কেট, বাজারে বের হতে হয়, ছাত্ররা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার উদ্দেশ্যে বের হতে হয়, পথে তাদের পড়তে হচ্ছে শব্দ দূষণের কবলে। গাড়ীর হরণের বিকট  আওয়াজ রাস্তায় গাড়ীতে যাত্রী চলাচলের অনিরাপদ হয়ে পড়ছে, প্রশাসন, সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনসমূূহ  মাঝে মধ্যে দু একটা কথা বললেও প্রশাসনের তেমন গরজ দেখা যায় না। শব্দদূষণের ফলে  হৃদরোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অতিমাত্রায় গাড়ীর হরণ বাজানো, প্রয়োজন অপ্রয়োজনে গাড়ীর হরণ, মাইকিং নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। আইন থাকলেও আইনের যথাযথ প্রয়োগ মাঠে দেখা  যাচ্ছে না। ফলে শব্দদূষণের হাত থেকে নাগরিক জীবন  অতিষ্ঠ হয়ে আছে। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া চাই। অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদেরকে ্আইনের মাধ্যমে যেখানে অনুষ্ঠান সেখানেই মাইকের ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাইকের ব্যবহার, হরণ বন্ধ করতে হবে। মাইক  সাপ্লাইকারী প্রতিষ্ঠানকে আইনগতভাবে রাস্তায় একাধিক মাইক ব্যবহারে কঠোর হতে হবে নগরের প্রশাসনকে।  মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে সিটি কর্পোরেশন পুলিশ কমিশনারের মাইকের সংখ্যা উল্লেখপূর্বক অনুমতি থাকতে হব্।ে  জন চলাচলের বাইরে  বিল বা স্কুল মাঠে অনুমতি সাপেক্ষে মাইক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে মাইক ব্যবহার করা যায়,  এর পাশে রাস্তার পাশে মিটিংয়ের নামে দীর্ঘ এলাকা জুড়ে মাইকের ব্যবহার নাগরিকগণ ভালভাবে দেখছে না। এতে করে আয়োজনকারীদের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। একজনের দেখাদেখি অন্যজনেরাও লোকের চেয়ে মাইকের ব্যবহার  বেশী করতে দেখা যাচ্ছে। ভাল কাজে প্রতিযোগিতার কথা ইসলামে আছে। কিন্তু সংগঠন ও নামকে প্রচারের জন্য প্রচলিত  আইন ও ইসলামী শরিয়ত বিরোধী শব্দ দূষণ করে লাখ লাখ মানুষকে কষ্ট দেওয়া ধর্মীয়ভাবে গর্হিত কাজ। ধর্ম, তাহযিব তমদ্দুন কোনটাই যত্রতত্র মাইকের ব্যবহার সমর্থন করে না। বিনা প্রয়োজনে কাউকে কষ্ট দেওয়া কখনো  মহত্ত্বের কাজ হতে পারে না। এ ধরনের মন মানসিকতা থেকে সকল সচেতন মানুষকে বিরত থাকা দরকার। মাইকের ব্যবহার যত্রতত্র এটা কাম্য নয়, মাইক মানবজীবনে  দরকার, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু  করতে হবে। আজকাল সে হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে না। মানুষ উপস্থিত ১০ জন সাউন্ড ব্যবহার হচ্ছে এক কিলোমিটারের জন্য। শহর গ্রাম সব ক্ষেত্রে এখন মাইকের সাউন্ড দিয়ে আওয়াজটাকে বহুদূরে পৌঁছানো  হচ্ছে না। এত ক্ষতি নিয়মিত রোগীদের যারা বিভিন্œ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে বিশ্রামে আছে তারা অতি মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত হচ্ছে মানসিক রোগাক্রান্ত শিশু, মহিলা, বয়োবৃৃদ্ধ  লোকজন। শব্দদূষণের ফলে নিয়মিত রোগীরা  নানাভাবে  ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, শব্দ দূষণ হচ্ছে ঘরে বাইরে বাজার দোকান সর্বত্র, কথা বলছে দুুইজনে সেখানে এমনভাবে আওয়াজ হচ্ছে যেখানে শত লোক থাকলেও তার শব্দমালা কথা শুনবে , কিন্তু তার কথায় পাশে থাকা অন্য মানুষের যে ক্ষতি করছে সে দিকে যে গল্প বা কথা বলছে তার কোন দৃৃষ্টি নেই। কথা বলেই যাচ্ছে গল্পকারীরা, আশপাশের লোকজন ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিরক্ত করছে তা ঐ গল্পবাজ আড্ডাবাজদের নজর নাই।
সরকারী বেসরকারী ভাবে শব্দ দূষণের বিরুদ্ধে  প্রচার প্রচারণা থাকলেও মূলত তার কার্যকারিতা নেই। মাইকের অনুমতি ব্যবহার কতটুকু কয় কিলোমিটার দেয়া যেতে পারে কত  সাইন্ড বক্স প্র্রয়োজন ইত্যাদি নির্ণয়ও প্রয়োজন মাফিক  দেয়া দরকার।  তা না করে অনুমতি প্রদান করে মাইক ব্যবহার থাকলে আয়োজকগণ যা ইচ্ছা হরণ ব্যবহার করে শব্দদূষণ সন্ত্রাস চালিয়ে মানব সমাজে মস্তিস্কের ক্ষতি করছে। মানুষের মেধা, শক্তি, চিন্তার বিকাশ বাধাগ্রস্থ করছে, শব্দদূষণের ফলে অসুস্থ মানুষদের বড় ধরনের মানসিক চাপ পড়ছে বলেও মন্তব্য করছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। শব্দ দূষণ প্রতিরোধে সরকারী  বেসরকারী কর্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ  থাকতে হবে। শিষ্টের পালন দুষ্টের দমন, অন্যায়কারী আর অন্যায় সহ্যকারী  সমান হয় না।  অন্যায় আচরণকারীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনের প্রয়োগ থাকতে হবে। শব্দদূষণ মানবদেহে মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনছে এটা থেকে রোগী অসুস্থ, সুস্থ মানুষদের সাথে সুস্থ মানুষদের সাথে ছাত্র ছাত্রীদের পড়ালেখার স্বার্থে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সময়ের দাবী। শব্দ মানুষকে উচ্চারণ করতেই হবে, তবে তা নিয়ন্ত্রণও  করতে হবে। দেখা  যায় রাস্তা,  গাড়ী, দোকান, পরিবহনে বসার ভিতরে ও বাইরে শব্দ দূষণ দেখা যায়, কেউ কাউকে কিছু বলতে না পারলেও শব্দ দূষণের ফলে আশপাশের মানুষ নানাভাবে বিরক্তবোধ ও মানসিক চাপ বোধ করতে দেখা  যায়। শব্দ দূষণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, কিন্তু এটাকে কেউ অপরাধ হিসেবে মানতে চায় না। অনেক প্রকারের অপরাধকে আমরা অপরাধ হিসেবে মানতে চাই না। উচ্চস্বরে কথা বলা, আওয়াজ করা, মোবাইলে বিকট আওয়াজে বাক্য বিনিময় করা, হাটা চলায় অন্যের ক্ষতি করে হাত পা নেড়ে ফুটপাত দখল করে হাটা গাড়ীর হরণ মাত্রাতিরিক্তভাবে বাজানো, যত্রতত্র গাড়ী পার্কিং, ফুটপাত দখল করে যান চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করা সবকিছুই  আইনগত অপরাধ। অপরাধ হিসেবে সংবিধান ও স্থানীয় প্রশাসনের বিধান খাতায় এসব লেখা  আছে অপরাধ হিসেবে,  কিন্ত আমরা এ অপরাধকে মান্য  করছি না, আইন বইতে আইন লেখা আছে আমরা কেউই তার বিধান মানছিনা। না  মানার অভ্যাস আমাদের জন্মগত, মানার অভ্যাস আমাদের রপ্ত করতে হবে, না মানতে না মানতে আমরা অপরাধী হয়ে অপরাধ করছি, এটা আইন নয়, এটা অপরাধ, অপরাধ জেনেও অপরাধে লিপ্ত থাকব তা হয় না। অবশ্যই শোধরাতে হবে, চেষ্টা করতে হবে, ্আমার চাল চলন ব্যবহারে আমরা যে অপরাধ করছি সেটাকে বুঝতে এবং  জানতে হবে। সে বিষয়ে সচেতন হতে হবে, অন্যকে সাধ্যমত বুঝাবার দায়িত্ব সকলের, আপন আপন স্থান থেকে প্রত্যেককেই শব্দ দূষণে সচেতন ও সজাগ থাকতে হবে। শব্দদূষণ, শব্দসন্ত্রাস শব্দ দিয়ে মানুষকে কষ্ট দেয়া অপরাধ, এ অপরাধ থেকে বিরত থাকতে হবে। হাইড্রোলিক হর্ণ  ব্যবহার আইনত নিষিদ্ধ। তারপরও হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো হচ্ছে সারাদেশের বিভিন্ন অংশে এ হর্ণের বিকট আওয়াজে পথচারীরা অতিষ্ঠ অনেকেই এ  বড় ধরনের হর্ণের আওয়াজ বুঝে ওঠতে পারে না। মোটরসাইকেল,  অটোরিক্সা, মিনিবাস, প্রাইভেটকারেও হাইড্রোলিক হর্ণ বাজাতে দেখা যায়। বেপরোয়া হাইড্রোলিক হর্ণ বাজানো নিষিদ্ধ থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে ফলে শব্দদূষণ বাড়ছে।  মানবদেহের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে শব্দ দূূষণের ফলে শ্রবণশক্তি ও মনোবল কমে যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়। হাইড্রোলিক হর্ণ নিষিদ্ধ থাকা সত্তেও এক শ্রেণীর চালক তা মানছে না। ১৯৮৬ সালের মোটরযান বিধিমালা এবং ২০০৬ সালের শব্দ দূষণ বিধিমালায় হাইড্রোলিক হর্ণের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উদ্বেগকারী যন্ত্রের ব্যবহার নিষিদ্ধ আছে। দুঃখজনক হলেও তার ব্যবহার বিদ্যমান। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার  লোকদের চোখের সামনেই আইন ভঙ্গের এ কাজটি চলছে। তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ