ঢাকা, শুক্রবার 24 March 2017, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে  স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে --------মির্জা ফখরুল 

 

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়বে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সমগ্র জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। আমরা জানি না, প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, কি কি চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, এটা জনগণকে জানানো হয়নি, জনগণ জানে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনের ভাসানি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঘোষিত শোভাযাত্রা সফল করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এখন স্বাধীন আছি কিনা- এটা এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমাদের তো ব্যক্তি স্বাধীনতা নেই, রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা হুমকির মুখে। এখন যেটাকে আমরা বলি জিওগ্রাফিকেল ফ্রিডম, সেটাও হুমকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সমগ্র জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, আমরা জানি না, প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন, কি কি চুক্তি স্বাক্ষর করবেন, এটা জনগণকে জানানো হয়নি, জনগণ জানে না। পত্র-পত্রিকাগুলোর মধ্যে যে স্পেকুলেশনগুলো হচ্ছে, যেটা বলা হচ্ছে। এটাতে আমরা যারা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছি, যারা আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছি, আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না।

প্রসঙ্গত, আগামী ৭ এপ্রিল তিন দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত যাচ্ছেন। সেখানে প্রতিরক্ষাসহ কয়েকটি চুক্তি সাক্ষরিত হবে বলে পত্র-পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে বিএনপিসহ সরকার বিরোধী রাজনৈতিকদলগুলো।  

বিএনপি মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ভারতের সঙ্গে আমাদের যে পানি সমস্যা রয়েছে, যেটা আমাদের প্রধান সমস্যা তার সমাধান হওয়ার দরকার। আমাদের যে তিস্তা নদীর পানির চুক্তি এখনো হয়নি।

গঙ্গার নদীর পানি বণ্টন চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না হওয়া ও ৫৪টি নদীর পানি নিয়ে চুক্তি না হওয়ার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মির্জা ফখরুল উল্লেখ করেন, পানিসম্পদ মন্ত্রির মুখে আমরা শুনতে পাই, তিস্তা নদীর পানি চুক্তি হবে কি-না সে নিয়ে তিনি সন্ধিহান। তাহলে কোন চুক্তি হবে?

 মির্জা ফখরুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো চুক্তি হলে তা দেশের মানুষ মেনে নেবে না এবং বিএনপিও দেশের অস্তিত্বের প্রশ্নে আপস করবে না। 

দেশে জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকার রহস্যময় খেলা খেলছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, এর আসল রহস্য হলো, দেশে ঘরোয়া জঙ্গিবাদের কথা বলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে তাদের রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়া। প্রতিবারই এভাবে জঙ্গিবাদের ধুয়া তোলা হয়। তারপর বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে যায়।

মির্জা ফখরুল প্রশ্ন রেখে বলেন, সরকার ও প্রশাসন থেকে কয়েকদিন পর পর বলা হয় জঙ্গিবাদ নির্মূল হয়ে গেছে। তাহলে জঙ্গিবাদ বাড়ছে কেন? তাহলে এই ঘটনা ঘটছে কেন? 

 বিএনপির এই সিনিয়র নেতা উল্লেখ করেন, আশকোনায় যাকে জঙ্গি বলে গুলী করে হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যার ঘটনার তথ্যের সঙ্গে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বর্ণনার কোনো মিল নেই। জঙ্গি বলে যাদের ধরেন, তাদেরই ক্রসফায়ারে মেরে ফেলেন। তাদের ধরেন, তদন্ত করেন। ঘটনার প্রকৃত তথ্য বের হয়ে আসুক। কারা মদদ দিচ্ছে, কারা করছে। আমরা চাই, একইসঙ্গে পুরো জাতি চায় জঙ্গিবাদ নির্মূল করা হোক। কিন্তু আপনারা সেটা করছেন না, আর করবেনও না।

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, আপনারা আগুন নিয়ে খেলছেন।  আমি অত্যন্ত ভীত ও উদ্বিগ্ন। কোন দিকে সরকার আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমি স্পষ্টভাবে জানতে চাই, আপনাদের আসল লক্ষ্যটা কী? যদি জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে চান, তাহলে অবশ্যই সব রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকার অর্থেই প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করুন।

স্বাধীনতা দিবসের র‌্যালি শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাচিব।

সভায় বিএনপির ঢাকা মহানগর আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ২৬ মার্চ দুপুর ২টায় নয়া পল্টন থেকে বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণভাবে এই র‌্যালি শুরু হবে।

মির্জা আব্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাবেক সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, মহানগর নেতা আবদুস সালাম আজাদ, কাজী আবুল বাশার, ইউনুস মৃধা ও মুন্সি বজলুল বাসিত আনজু প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ