ঢাকা, শুক্রবার 24 March 2017, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি  নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করতে হবে

 

স্টাফ রিপোর্টার: সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন বিএফইউজে ও ডিইউজে’র নেতৃবৃন্দ। আর যদি তাদের বাদ দিয়ে কোনো দলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয় তাহলে সাংবাদিক সমাজ মেনে নিবে না। 

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে এ বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। 

বিএফইউজে’র সভাপতি শওকত মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রুহুল আমিন গাজী, বিএফইউজের মহাসচিব এম. আবদুল্লাহ, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, বিএফইউজে’র সহকারী মহাসচিব মোদাব্বের হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান শাহীন, দফতর সম্পাদক আবু ইবুসুফ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, যুগ্ম সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী, ডিইউজে’র যুগ্ম সম্পাদক শাহীন হাসনাত, ডিইউজে’র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী আসফার, ডিইউজের সহ-সভাপতি খুরশিদ আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন,  সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা, সাংবাদিক নেতা নূরুল আমীন রোকন, আসাদুজ্জামান আসাদ, জাকির হোসেন, জসিম মেহেদী, এম সাখাওয়াত হোসেন মুকুল, সাখাওয়াত হোসেন ইবনে মঈন চৌধুরী, ডি.এম. আমিরুল ইসলাম অমর, বোরহান উদ্দিন প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। 

শওকত মাহমুদ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের জন্য দাবি জানিয়ে আসছি। এখন পর্যন্ত সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। এই সরকারের আমলে অনেক সাংবাদিক নির্যাতন করা হয়েছে। সাগর-রুনীসহ অনেকে খুনও হয়েছে। অথচ এই সরকারের আমলে আজ পর্যন্ত একটি সাংবাদিক হত্যারও বিচার হয়নি। কোনো সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনারও বিচার হয়নি। ভবিষ্যতে সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা হবে বলেও জানান শওকত মাহমুদ।

দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা থাকে না এমন মন্তব্য করে শওকত মাহমুদ বলেন, অবিলম্বে সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দিন। সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করুন। অবিলম্বে সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করুন। তা নাহলে সাংবাদিক সমাজ কোনো দিন আপনাদের ক্ষমা করবে না।  

তিনি আরো বলেন, যদি সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয় তাহলে কোনো কথা নেই। আর যদি শুধুমাত্র কয়েকজন দলীয় প্রতিনিধির মাধ্যমে ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয় তাহলে সাংবাদিক সমাজ তা মেনে নিবে না। শওকত মাহমুদ বলেন, তথ্যমন্ত্রী ইনু নিজেই একজন জঙ্গি। একদিন আদালতের কাঠগড়ায় ইনুকে দাঁড়াতে হবে। 

রুহুল আমিন গাজী বলেন, দেশের কোনো মানুষ আজ নিরাপদে নেই। সাংবাদিকরা আজ নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। যতদিন গণতন্ত্র রক্ষা না হবে ততদিন সাংবাদিক ও গণমাধ্যম স্বাধীন হবে না। আজ কেউ সত্য কথা বলতে পারছে না। বললেই তাকে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গণমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে। শত শত সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখছে। অসংখ্য মিডিয়া বন্ধ করে হাজার হাজার সাংবাদিককে বেকার করে রেখেছে।

তিনি আরো বলেন, বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া, সাগর-রুনীসহ সকল সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার করা এবং অবিলম্বে সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠন করা না হলে আমাদের আন্দোলন চলছে এবং যতদিন দাবি আদায় না হবে ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। 

এম আবদুল্লাহ বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। আমাদের এসব দাবি পুরোনো।  এখনো সাগর-রুনী হত্যার বিচার হয়নি। এ খুনের ঘটনায় ২ জনের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তারা কারা। তাদের বিচার করুন। 

তিান বলেন, নবম ওয়েজবোর্ড গঠন নিয়ে সরকার তালবাহানা করছে। অবিলম্বে সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধি নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানাচ্ছি। কোনো দলবাজি ওয়েজবোর্ড সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না। এসময় তিনি সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবি জানান।  

জাহাঙ্গীর আলম প্রধান বলেন, সাগর-রুনীসহ অসংখ্য সাংবাদিক খুন ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ পর্যন্ত একটি সাংবাদিক হত্যা নির্যাতনের বিচার এই বাংলার মাটিতে হয়নি। একটির পর একটি সংবাদ মাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এতে হাজার হাজার সাংবাদিক বেকার হয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে। তিনি অবিলম্বে সকল সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনের দাবি জানান। 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ