ঢাকা, শুক্রবার 24 March 2017, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে হাফেজ্জী  হুজুর ও মুফতি আমীমুল ইহসানের নাম বাদ  না দিলে সারা দেশে আন্দোলন

 

 

স্টাফ রিপোর্টার: ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটির শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে উপমহাদেশের সর্বজন শ্রদ্ধেয় বুযুর্গ হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ.-এর নাম বাদ না দিলে এবং সড়কের নামফলকে তাদের নাম পুনঃসংযোগ না করলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে। 

গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি আদায়ে আগামী ৩১ মার্চ রাজধানী বায়তুল মুকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশসহ ৭ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচি হচ্ছে, সারা দেশে ব্যাপক গণসংযোগ। জেলা ও বিভাগীয় শহরে ওলামা ও সুধি সমাবেশ। জাতীয় ওলামা ও সুধি সমাবেশ। সিটি কর্পোরেশন ঘেরাও, মানববন্ধন। প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি পেশ। এসব কর্মসূচির তারিখ পর্যায়ক্রমে ঘোষণা করা হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, হাফেজ্জী হুজুর এবং মুফতি আমীমুল ইহসান রহ. এর বিরুদ্ধে মুনতাসীর মামুন ও শাহরিয়ার কবিরের দায়ের করা রিটের মাধ্যমে গোটা আলেমসমাজ, মসজিদ, মাদরাসা ও ইসলামী জনতাকে স্বাধীনতা বিরোধী ও রাজাকার অপবাদ দিয়ে সম্মানহানি করার ষড়যন্ত্র চলছে। অবিলম্বে স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকা থেকে এ দুই বুযুর্গের নাম বাদ দিয়ে সড়কের নাম পুনর্বহাল করা না হলে রক্ত দিয়ে হলেও দেশের জনগণ এ ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে।

‘ইসলামী ঐতিহ্য সংরক্ষণ কমিটি’র আহ্বায়ক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীরে শরীয়ত মাওলানা ক্বারী শাহ আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হুজুরের সভাপতিত্বে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দৈনিক ইনকিলাবের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- কওমী মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নূর হুসাইন কাসেমী, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, জামিয়া মুহাম্মদিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা আবুল কালাম, মুফতী মিজানুর রহমান সাঈদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দীন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর আমীর মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় ইমাম সমাজের সভাপতি হাফেজ মাওলানা কারী আবুল হুসাইন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব শেখ গোলাম আসগর, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মাজেদ আতহারী, মাওলানা মুজীবুর রহমান হামিদী, মাওলানা ফয়জুল করীম কাসেমী, মাওলানা মূসা বিন ইজহার, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা সানাউল্লাহ, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা সাঈদুর রহমান, মাওলানা সুলতান মহিউদ্দীন, মাওলানা আকরাম হুসাইন প্রমুখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমীরে শরীয়ত হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রহ. বাংলাদেশের অবিসংবাদিত বুজুর্গ, সমকালীন রাজধানীর প্রবীণতম আলেম যিনি চল্লিশের দশক থেকে ঢাকায় ইসলামপ্রচার, ধর্মীয় শিক্ষা ও আদর্শের প্রসার, সমাজসেবা, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শন ইত্যাদির মধ্য দিয়ে নিজেকে অকল্পনীয় উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেন। 

তারা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে হাফেজ্জী হুজুরের ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। যুদ্ধ চলাকালীন তিনি তাঁর অনুসারী আলেম-উলামা ও জনগণকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, এ সংগ্রাম জালিমদের বিরুদ্ধে মাজলুমদের সংগ্রাম। তোমরা মাজলুমদের পক্ষ হয়ে জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। তাঁর এ ঘোষণার পর দেশের হাজার হাজার আলেম-উলামা ও তার অনুসারীগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। এমতাবস্থায় স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকায় হাফেজ্জী হুজুরের নাম দেখে তাঁর সকল ছাত্র-ভক্ত ও গুণগ্রাহীগণ সীমাহীন বিস্মিত ও চরমভাবে ব্যথিত। দেশবাসীও হতবাক। অন্যদিকে মুফতি আমীমুল ইহসান মুজাদ্দেদী বরকতী রহ. এদেশের একজন প্রথিতযশা ইসলাম বিশেষজ্ঞ বুজুর্গ আলেম। তিনি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের প্রথম খতীব ছিলেন। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে তার কোন নেতিবাচক ভূমিকা কল্পনাও করা যায় না। তিনি ছিলেন রাজধানী ঢাকার সর্বজনমান্য মনীষী আলেম। কতিপয় নাস্তিকের প্ররোচনায় এ মহান বুযুর্গদের নাম স্বাধীনতা বিরোধীদের তালিকাভুক্ত করা হলে দেশের জনগণ চক্রান্ত কারীদের রুখে দাঁড়াবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, যুগশ্রেষ্ঠ বুজুর্গ মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুরের নামে রাজধানীতে কোন সড়কের নামকরণের দাবি বা চেষ্টা তার স্বজন ও ভক্তদের পক্ষ থেকে কখনোই করা হয়নি। সরকার ও সিটি কর্পোরেশন স্বপ্রণোদিত হয়ে তার নামে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ভবনের সম্মুখস্থ সড়কটির নাম ‘মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর সড়ক’ রাখেন। বিশেষ করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দলীয় মেয়র হানিফ ও বঙ্গবন্ধুকন্যার অনুমোদনেই এ নামকরণ হয়। দীর্ঘদিন তাদের নাম বহাল থাকার পর, মূল রিটে এ নাম না থাকা সত্ত্বেও সম্পূরক আবেদনে হাফেজ্জী হুজুরের নাম কে বা কারা কি উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করলেন এবং এমন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত কার্যকর করলেন তা জাতির কাছে একটি জিজ্ঞাসা হয়েই থাকবে। উচ্চ আদালতও কিসের ভিত্তিতে তাঁর নামে সড়কের নামকরণ সঠিক হয়নি বিবেচনা করে সেটি বাতিল করে নামটি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন সেটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট নয়। নেতৃবৃন্দ এ অস্বাভাবিক বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। রাষ্ট্র, সরকার ও বিচার বিভাগকে একজন প্রাতঃস্মরণীয় মনীষীর অন্যায় মানহানী এবং এর মাধ্যমে তাঁর ভক্ত, লাখো কোটি মানুষের অনুভূতিতে আঘাতের ঘটনার প্রতি সুদৃষ্টি দানের আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ