ঢাকা, শুক্রবার 24 March 2017, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পুলিশ প্রতিবেদনের আগে  জামিন শুনানি নয়

 

স্টাফ রিপোর্টার : তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের মামলায় ‘পুলিশ প্রতিবেদন’ দেয়ার আগে আসামীর জামিন আবেদনের শুনানি সাইবার ট্রাইব্যুনাল শুনতে পারবে না বলে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এই আদেশের অনুলিপি দেশের সকল জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

তথ্য প্রযুক্তি আইনের এক মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দেয়ার আগে আসামীর জামিনের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করায় ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় মাগুরার জেলা ও দায়রা জজকে সর্তক করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এন এম বশিরউল্লাহ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। একইসঙ্গে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার আসামী আহমেদ সবুজকে জামিন দিয়েছেন তারা।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও আইনজীবী আমিমুল এহসান জোবায়ের। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জমান কবির।

ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মনিরুজ্জামান কবির জানানন, দুই বিচারকের ব্যাখ্যা আদালত সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রায়ের কপি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের জেলা জজ, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, মুখ্য মহানগর হাকিম, এবং ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালের কাছে পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

তিনি বলেন, এ রায়ের ফলে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে করা মামলায় পুলিশ প্রতিবেদন দেয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানি হবে। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে সন্তুষ্ট না হলে দায়রা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। আর পুলিশ প্রতিবেদন দিলে এটি ঢাকা সাইবার ট্রাইব্যুনালে শুনানি হবে। 

গত ১৩ মার্চ তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলার এক আসামীর জামিন আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ না করায় মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ শেখ মফিজুর রহমান এবং জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুল ইসলামের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে হাইকোর্ট। গত ২২ মার্চ হাইকোর্টে নিজ নিজ লিখিত ব্যাখ্যা দাখিল করেন।

জানা যায়, ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্টকে কেন্দ্র করে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মাগুরার মোহাম্মপুর থানার আহমেদ সবুজ নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়। এই মামলায় মাগুরার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে আদালত তা নাকচ করেন। পরে মাগুরার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন আহমেদ সবুজ। কিন্তু দায়রা জজ আদালত একই বছরের ১৭ নবেম্বর এই মামলা শুনানিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে জামিন আবেদন করলে ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন আহমেদ সবুজের আইনজীবী।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ