ঢাকা, শুক্রবার 24 March 2017, ১০ চৈত্র ১৪২৩, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ  করেছিলাম পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে ------মসলেম উদ্দিন

 

পাবনা সংবাদদাতা : গতকাল বৃহস্পতিবার মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ পাবনা জেলা শাখা কর্তৃক আয়োজিত পাবনার স্থানীয় এক হোটেলে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ পাবনা জেলা শাখার সভাপতি বীরমুক্তি যোদ্ধা মোঃ নাছির উদ্দিন, প্রধান অতিথির আলোচনায় জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন বলেন, লাখ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। দরিদ্রতা কমছে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান বীরত্বকে কলংকিত করার ষড়যন্ত্রও বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রশাসনের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেক্রেটারিরা পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেঁজে চাকরি বাড়িয়েছেন। সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচয় আসলে জানতে চায় ১নং না ২নং। মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংজ্ঞায়ীত করা হচ্ছে রাজাকার বলে, বন্ধ করা হচ্ছে ভাতা সুযোগ সুবিধা। করা হচ্ছে শ্রেণী বিন্যাস। তেলাপিয়া মাছের মত বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা, হাইকোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। রাজনৈতিক কিছু রাজনীতিবিদ মুক্তিযোদ্ধাদের ঘারে সওয়ার হয়ে ক্ষমতা আখড়ে রাখতে চায়। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রেও চলছে বিভাজন। যুদ্ধের সময় বিশেষ দলের লোক নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা করা হয় নাই। এতে যুক্ত হয়েছিল আপামর জনসাধারণ। আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে সংকীর্ণ মানসিকতা ত্যাগ করতে পারে নাই। মুক্তিযোদ্ধাদের অধিকার আদায়ে সাথী ভাইদের আরো সচেষ্ট হতে হবে। বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ। একারণেই ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তিতে পাকিস্তান হয়ে ৭১ সালের আজকের এই বাংলাদেশ। এখনকার সরকার মুসলিম সংস্কৃতি ধ্বংস করে দ্বিজাতির সংস্কৃতি চালু করছে। ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট বাজার হাট সকল ক্ষেত্রে ভারতীয় আধিপত্য কমিউনিস্টদের ন্যায় মসজিদের শহর ঢাকা এখন মূর্তির নগরে পরিণত করা হচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। আমাদেরকে আবার ভারতীয় শাসন শোষণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। ভারত আমাদের ফেন্সিডিল দিয়ে যুব সমাজ ধ্বংস করছে। সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যা করছে। গঙ্গা, তিস্তা, টিপাইমুখ বাঁধ দিয়ে আমার শ্যামল বাংলাদেশকে মরুভূমি বানাচ্ছে। ৯ মাসের লাখ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বীরের জাতির এ দেশে এখন সামরিক চুক্তি করতে চাচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা ভারতের সাথে কেন সামরিক চুক্তি করবো? কার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য? বার্মার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য? আমরা যুদ্ধ চাইনা। সামরিক চুক্তি এ দেশের জনগণ মানবে না। পাকিস্তানের আধিপত্য আমরা মানি নাই। ভারতের আধিপত্যও মানবো না। সামরিক চুক্তি না করলে জনগণ সরকারের পাশে থাকবে। নইলে আর একটি যুদ্ধ শুরু হবে। তিনি আরো বলেন আমাদের এই গরীব দেশে গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য সরকারকে আহ্বান জানাই। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন- পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার (সাবেক) বীরমুক্তি যোদ্ধা সামছুল আলম, বীরমুক্তি যোদ্ধা রমজান আলী, বীরমুক্তি যোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, বীরমুক্তি যোদ্ধা আইয়ুব আলী সহ প্রাং শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ