ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

প্রবাসীদের মূল্যায়ন করা হয় না

Remittance ইংরেজি শব্দটির বাংলা হলো টাকা ইত্যাদি দূরবর্তী স্থানে প্রেরণ অর্থাৎ sending of money etc to a distance. অন্যভাবে বলা যায় অর্থ প্রেরণ বা প্রেরিত অর্থই হলো Remittance. প্রবাসীদের আয়কে জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয় GNP (Gross National Product) এ সরাসরি। এটাই আমাদের দেশের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বিবেচিত। ১১ মার্চ ২০১৭ খ্রিঃ তারিখের দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার ১নং পৃষ্ঠায় ‘‘ঘুষ নেই তো সনদ নেই’ শিরোনামে ইউসুফ সোহেল লিখেছেন ‘দেশের অর্থনীতির ভীতকে শক্ত অবস্থায় গড়ে দিয়েছে রেমিট্যান্স। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের শ্রমঘাম...।’ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক ড. মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, ১৫ বিলিয়ন ডলার বৈধভাবে আসে। এর বাইরে হাতে হাতে আসে প্রায় ২০ শতাংশ। সব মিলিয়ে অভিবাসীরা গত বছর প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। সে হিসাবে গার্মেন্টস খাতের চেয়েও এ খাতে আয় অনেক বেশি। তিনি বলেন এক কোটি লোক দেশের বাইরে থাকেন।
তারা দেশে থাকলে খাবার, পোশাক, আবাসনের জোগান দিতে হতো।  এতে বেকারত্ব বাড়ত তাই অভিবাসনের একটা ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে সমাজে। গত ১৬ মার্চ ২০১৭ খ্রি: তারিখে ‘দৈনিক নয়াদিগন্ত’ পত্রিকার ১৬ নং পৃষ্ঠায় শিরোনাম করা হয়েছে ‘২২ হাজার বাংলাদেশীর ফ্রি ভিসা বাতিল বাহরাইনে’। মাসিক মাত্র ১০ দিনার ট্যাক্স না দেয়ার জের, অবহেলা আর কাকে বলে? উক্ত তারিখের নয়াদিগন্ত পত্রিকার ১৬ পৃষ্ঠায়ই ‘জ্বালানী মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিতে পুলিশের বেধরক লাঠিচার্জ’ এবং ‘গ্যাস রপ্তানীর চুক্তিতে ১৮ মার্চ দেশব্যাপী প্রতিবাদ দিবস’ শিরোনাম এসেছে।
দেশের প্রায় এক কোটি প্রবাসীর Remittance দেশের অর্থনীতিতে শক্তি যুগাচ্ছে। অথচ দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সেই সকল প্রবাসীদের অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক মূল্যায়ন না করে বরং অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৬৯টি মিশন কর্মরত রয়েছে। বাংলাদেশ হতে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমশক্তির ৭০ শতাংশই প্রেরিত হচ্ছে-এটা মুসলিম দেশের ভ্রাতৃত্বের টানেই বেশী হয়েছে। Remittance এর বড় উৎস বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প কঠিন সঙ্কটময় সময় পার করছে। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া BGMEA দেশের সংস্থাটি হাতির ঝিলের পার্শ্বের বহুতন ভবন সরিয়ে নেয়ার কোর্ট নির্দেশ পেয়ে হতাশায় ভোগছে। বার্ষিক ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী তৈরি পোশাক শিল্প ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি হতে GSP সুবিধাবঞ্চিত। বাংলাদেশের উজ্জ্বল সম্ভবাবনায় চামড়া শিল্পও ধ্বংসের প্রায় দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। হাজারীবাগ থেকে টেনারীগুলো টেনে-হেচড়ে সাভার শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকারের সাথে বিটিএ-এর টানাপুড়েনের কারণে এবং কোর্টের বেঁধে দেয়া সময় ও জরিমানা গুনতে তারাও হতাশাগ্রস্থ। এখান থেকে Remittance আশা করা যায় না। গত ১৬ মার্চ ২০১৭ খ্রি: তারিখে নয়াদিগন্তের ১নং পৃষ্ঠায় শিরোনাম করা হয়েছে-‘ধলেশ্বরী ও খাচ্ছে ট্যানারী বর্জ্য;-সাভারে গড়ে উঠেছে আরেক হাজারীবাগ। পানিতে মিশছে রাসায়নিক বর্জ্য”।
পাট, চা ও পর্যটন শিল্প খুবই ঝুঁকিতে রয়েছে। আর গ্যাস তো উধাও হয়েই যাচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশে Remittance পাবে কোথা থেকে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ কর্তৃক লিখিত ‘দক্ষিণ এশিয়া উন্নয়নের সঙ্কট- বাংলাদেশ প্রেক্ষিত’ বইয়ের ৭নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘ব্রিটিশরা ভারত বর্ষের শাসনে তাদের উপনিবেশিক অভিযাত্রায় সফলকাম হয়েছে হিন্দু অভিজাত শ্রেণির সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতার মাধ্যমে.....।’ লিখাটি পড়ে দাদার কাছ থেকে শুনা ছোটবেলার স্মৃতি কথাটি মনে পড়ে গেল। তিনি বলেছিলেন হিন্দু জমিদারেরা তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে নতুন বিয়ের কোনো পালকি গেলে পালকিটি আটকিয়ে নতুন বউকে জমিদারের বাড়িতে ২/৩ দিন রেখে দিত। এটাই যেন হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে Remittance নিয়ে। উক্ত বইটির ৩১ পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন ‘ভারতে বি.জে.পি এবং হিন্দু মৌলবাদ একটি প্রবল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে নিয়েছে।’
বইটির ৪৩নং পৃষ্ঠায় তিনি লিখেছেন ‘......ভারতের সঙ্গে অবাধ বাণিজ্যের চুক্তির ভিত্তিতে ভুটানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পুরোপুরিভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল।.......।’ বইটির ১৪৩ পৃষ্ঠায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৭২ সালের মে মাসে বাংলাদেশ –ভারত তিনটি ঋণচুক্তি এবং একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে।” উক্ত বইয়ের ১৪৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে, ভারতীয় সৈন্যদলের বিদায় অভিষেকে প্রদত্ত এক ভাষণে মুজিব বলেন যে, ‘তারা বাংলাদেশের জনগণের ভালবাসা বুকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’ ১২ মার্চ ১৯৭২। এখন এই ভালবাসার মূল্য দিতে হবে কি আমাদের দেশের জনগণের অর্জিত Remittance দিয়ে? হিন্দু জমিদার কর্তৃক পালকি আটকিয়ে নতুন বধূু ২/৩ দিন নিজ বাড়িতে রেখে দেয়ার মতো কি হতে যাচ্ছে আমাদের Remittance- এর দশা?
রিজার্ভ চুরির পর ভারত ঘুরে এসে ড. আতিউর বিদায় নিলেন। সহাস্যবদনে তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানালেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। ঘটনাটি দেখে চিত্রা কাব্যগ্রন্থের ‘দুই বিঘা জমি” কবিতাটির শেষ চরণ দুটি মনে পড়ে গেল, ‘আমি শুনে হাসি আঁখি জলে ভাসি এই ছিল  মোর ঘটে/ তুমি মহারাজ সাধু হলে আজ আমি আজ চোর বটে।’
জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ কর্তৃক লিখিত বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিমুখ বইয়ের ১৫০ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাংক (WB)) আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF), এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) এর কার্যক্রম পর্যালোচনা করে দেখি কিভাবে এই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ বহুজাতিক সংস্থাসমূহের স্বার্থ এবং ভারতীয় বৃহৎ পুঁজির স্বার্থ একসূত্রে বাঁধা।........২০০৪ সালের দিকে জনমতের চাপে প্রধানমন্ত্রী (খালেদা জিয়া) ও বিরোধী দলীয় নেত্রী (শেখ হাসিন) গ্যাস রফতানির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করবার পর দিনই বাংলাদেশে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বিরক্তি ও হুকুমের সুরে বলেন যে, বাংলাদেশকে অবশ্যই ভারতে গ্যাস রফতানি করতে হবে। এরপর থেকে বিশ্বব্যাংক (WB) এর সপক্ষে ‘গবেষণা রিপোর্ট দেয়া শুরু করেছে। ভারতে বর্তমান বৈদেশিক বিনিয়োগের ধরণ জি-৭ ভুক্ত দেশসমূহের বৃহৎ পুঁজির সঙ্গে মার্কিন জালে বেষ্টিত।’
নিৎসি বলেছেন-‘পৃথিবীটা সুন্দর কিন্তু একটাই তার রোগ সেটা হলো মানুষ।’ মানুষের রোগ নিরাময়ের জন্য আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন মহানবী (সাঃ) এর কাছে প্রেরণ করেছেন মহাগ্রন্থ আল কোরআন। বাংলাদেশের ৯০% মুসলমান আল কোরআনের অনুসারী হলে এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব।
-আবু মুনির

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ