ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

দলীয় লোককে সিইসি করায় নির্বাচনকালীন  নিরপেক্ষ সরকার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : প্রায় বছর দুয়েক আগে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানে একটি অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন রূপরেখা দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। বহুল বিতর্কিত একতরফা দশম সংসদে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বৈধতার বিষয়ে এক মামলায় আদালত একটি পর্যবেক্ষণে এই রূপরেখা দেন। নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে দুটি ফর্মুলা ছাড়াও হাইকোর্ট আরও কিছু প্রস্তাব রেখেছে। হাইকোর্ট বলেছেন, একটি মুক্ত, ন্যায্য ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই, দেশের সব রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, নির্বাচনের পূর্বে একটি নির্বাচন-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করা ও নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখা। তখন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যবেক্ষণ এ কথাই প্রমাণ করে যে দেশে রাজনৈতিক সংকট রয়েছে এবং এর সমাধান প্রয়োজন। তবে নির্বাচনের সময় যতই এগিয়ে আসছে ততই নির্বাচনকালীন সরকারের দাবিতে স্বোচ্চার হচ্ছে বিরোধী জোট। একইভাবে বিদেশীরাও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছে। এছাড়া দলীয় লোককে সিইসি করায় নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে খুব শিগগির ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একটি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা তুলে ধরা হবে বলে জানা গেছে। 

সূত্র মতে, হাইকোর্টের এই ফর্মুলা নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ বেশ সমালোচনা করেছে। তবে একটি কথা পরিষ্কার হয়েছে যে, কোনো ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হাইকোর্টের এই মনোভাবকে সামনে রেখে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ফর্মুলা বের করতে হবে। যে নির্বাচন হবে নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং ভয়ভীতিহীন। যেখানে নির্বিঘেœ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে আবারো আলোচনায় আসছে ১৯৯৬ সালের পর টানা তিনটি নির্বাচনের বিষয়টি। যে নির্বাচনগুলো সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। যদিও ২০০৬ সালের সরকার ও নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, হাইকোর্টের এই ফর্মুলা প্রমাণ করে দিচ্ছে, নির্বাচনকালীন সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ, দলীয় প্রভাবমুক্ত। 

সূত্র মতে, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠানের দাবিতে আন্দোলন করছে ২০ দলীয়জোটসহ ক্ষমতার বাইরে থাকা অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দেশে বিদেশে এই দাবির প্রতি সমর্থন এখনো অব্যাহ আছে। যদিও সরকার বলছে, সংবিধান অনুয়ায়ী আগামী নির্বাচন হবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যে সংবিধানের কথা আজ তারা বলছেন, সেটি তারাই তৈরী করেছেন। আদালতের একটি রায়কে কেন্দ্র করে তারা দ্রুত সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই দাবিতে আ’লীগ দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছে। ১৭৩ দিন হরতাল পালন করেছে। অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। বাসে গান পাউডার দিয়ে মানুষ মেরেছে। কিন্তু যখনই তারা বুঝতে পেরেছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না, তখনই আদালতের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করেছে। অথচ আদালতের রায়ে আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন করার কথা বলা ছিল। 

সূত্র মতে, ১৯৯৬ সালে দীর্ঘ আন্দোলনের পর সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি যোগ করা হয়। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আ’লীগ ২৫ বছর পর ক্ষমতায় আসে। ১৯৯৬ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে বিতর্ক ছিল। তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নানা কথা হয়েছে। তারপরও সবাই সে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং ফলাফলও মেনে নিয়েছে। ২০০১ সালে প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমানের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেয় ৪ দলীয় জোটসহ সবাই। সেবারও তত্ত্বাধায়ক সরকারের প্রধানের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়। এসব বিতর্কের পরও ৪ দলীয় জোট তাকে এবং প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন কমিশনকে মেনে নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনের দিন আ’লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হচ্ছে। সেই নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় ৪ দলীয় জোট। ২০০৬ সালেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আ’লীগ। তাদের অভিযোগ, তখনকার অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এম এ হাসান বিএনপি সমর্থক। তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। অথচ, ২০০১ সালে তখনকার প্রধান বিচারপতি হাবিবুর রহমান আ’লীগ সমর্থক বলে অভিযোগ থাকলেও সেটি মেনে নির্বাচনে যায় ৪ দলীয় জোট। 

জানা গেছে, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে অনড় অবস্থানে নেই বিএনপিসহ বিরোধী জোট। তারা চাইছেন, যে নামেই হোক না কেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অবশ্যই একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকতে হবে। যারা হবেন দলীয় প্রভাবমুক্ত। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার’ পদ্ধতির বিষয়ে নতুন করে রূপরেখা দেবে দলটি। তবে সেই সরকারের প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যে তারা মানবেন না সেটি এরইমধ্যে জোটের শীর্ষ নেতারা পরিষ্কার করে বলে দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকারের ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার দাবি থাকতে পারে তাদের রূপরেখায়। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও দলের ‘থিংকট্যাংক’ হিসেবে পরিচিত আইনজীবী নেতারা এই রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন। দলের বাইরে থাকা কয়েকজন সংবিধান বিশেষজ্ঞ, দেশী-বিদেশী শুভাকাক্সক্ষী এমনকি জোটের শরিকদেরও পরামর্শ নিচ্ছেন রূপরেখা প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। সম্ভাব্য এই রূপরেখা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে, সবার অংশগ্রহণে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। শুধু আগামী নির্বাচন নয়, ভবিষ্যতে কিভাবে একটি বিতর্কমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠন করা যায় সে ব্যাপারেও দলটির পক্ষ থেকে রূপরেখাও দেয়া হবে। 

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এ নিয়ে আমরা কাজ করছি। দল হিসেবে আমরা আমাদের অবস্থান জাতির কাছে স্পষ্ট করব। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতার বদলে বিশ্বাস করেন তারা। তবে সেই নির্বাচন সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। এমন একটি নির্বাচনের জন্যই একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের প্রত্যাশা ছিল দেশবাসীর। কিন্তু দুর্ভাগ্য একজন বিতর্কিত লোককে সিইসি করার মধ্য দিয়ে জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, দলীয় আনুগত্য রয়েছে এমন একজন লোককে সিইসি করায় এখন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার জন্য সহায়ক সরকার প্রয়োজন। আমরা এ সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দেব এবং প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানাব।

দলের স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে বলে বিএনপি ও দেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আরেকটি বিভ্রান্তি হচ্ছে নির্বাচনে না গেলে নিবন্ধন বাতিল হবে তাই নিবন্ধন বাঁচাতে বিএনপি নির্বাচনে যাবে। কিন্তু বিএনপি মনে করে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষ ও বিদেশী বন্ধুদের নিয়ম রক্ষার নির্বাচন বলে ধোঁকা দিয়েছেন। নির্বাচনের নামে নাটক করেছেন। কথা রাখেননি। তাই একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন বাংলাদেশে আর হবে না। বরং খালেদা জিয়া শিগগিরই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে রূপরেখা দেবেন। আর সেই রূপরেখা মোতাবেক নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠা করেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে।

সূত্র মতে, বিএনপির ও তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট গত কয়েক বছর ধরে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। দলটির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া এতদিনের এ ধরনের অনড় দাবি থেকে কিছুটা সরে এসেছেন তা তার বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি বলব না, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হতে হবে। যে নামেই হোক, একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। সব দলও তখন নির্বাচনে অংশ নেবে।’

সম্ভাব্য এই রূপরেখায় কী থাকছে, জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট একজন জানান, সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, প্রশাসন ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষকরণ এবং নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আর নির্বাচনের সময় সরকারপ্রধান কে থাকবেন, সরকারে কারা থাকবেন এ নিয়ে বহুমত রয়েছে। সব মতের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকারের ফর্মুলা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংসদে বর্তমানে প্রতিনিধিত্বকারী দলের পরিবর্তে বিগত সময়ে যারা সরকার বা বিরোধী দলে ছিলেন এমন সব দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে যা রূপরেখায় উল্লেখ থাকবে। এরপর এ ইস্যুতে জনমত তৈরিতে মাঠে নামবে দলটি। বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, গোলটেবিল বৈঠকে তাদের দাবি তুলে ধরা হবে। দেশের সুশীল সমাজের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে মতবিনিময় করা হতে পারে। বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি রাজধানীতে বড় সমাবেশেরও চিন্তাভাবনা রয়েছে দলটির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীনরা যাতে তাদের আবারও নির্বাচনের বাইরে রাখতে না পারে সেদিকেও দৃষ্টি রাখা হচ্ছে। দলটির নেতারা মনে করেন, বর্তমান বাস্তবতায় সংবিধান পরিবর্তন করে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া কঠিন। এর চেয়ে বর্তমান সংবিধানের ভেতর থেকে কিভাবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা গঠন করা যায় সেদিকেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। তারা এ লক্ষ্যে সংবিধানের সার্বিক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে পঞ্চদশ সংশোধনীতে কি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। ওই সংশোধনীর আলোকে কিভাবে সর্বজন গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা যায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র জানায়, বর্তমান সংবিধানে নির্বাচনকালীন বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপারে সমঝোতায় আসার পক্ষে অনেক সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে ছোটখাটো সংশোধনী এনে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব। সব দলকে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সংবিধানের কিছু সংশোধনীরও সুপারিশ করবে বিএনপি। পাশাপাশি বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা দেয়ার ওপর জোর দেয়া হবে। কিভাবে স্বাধীন কমিশন গঠন করা যায় সেই ব্যাপারেও একটি রূপরেখা দেয়া হবে। 

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপে বসতে চায় বিএনপি। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলের পক্ষ থেকে একটি চিঠি দেয়া হবে। এটি ডাকে বা বাহকের মাধ্যমে নয়, একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে পৌঁছে দেবে- এমন পরিকল্পনা রয়েছে। দলটির প্রস্তাবিত ‘নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার’ এর রূপরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পর এ চিঠি দেয়া হতে পারে। সংলাপে বসার আহ্বান জানানো ওই চিঠির সঙ্গে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখার প্রস্তাবটিও প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হবে বলে বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান সংবিধানের কোথাও নির্বাচনকালীন সরকার বলতে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। এ অবস্থায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনই নির্বাচন হবে। সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের ফের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা খুব বেশি। বর্তমান প্রশাসনও নিজেদের স্বার্থেই চাইবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। বিএনপিকে বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচন করার পক্ষেও আছে ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। তারা মনে করেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তাই আগামী নির্বাচন ইস্যুতে এবার সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের চিন্তাভাবনা করছে দলটি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কিছু ছাড় দিতেও প্রস্তুত তারা।

সূত্র জানায়, নির্বাচনের সময় সরকারপ্রধান কে থাকবেন, সরকারে কারা থাকবেন এ নিয়ে বহুমত রয়েছে। সব মতের সমন্বয়ে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সরকারের ফর্মুলা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রূপরেখার প্রাথমিক খসড়ায় এখন পর্যন্ত যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- নির্বাচনকালীন ওই সহায়ক সরকারের মেয়াদ হবে তিন মাস। তখন সংসদ বহাল থাকতে পারে। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে না রাখার পক্ষেই আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতির অধীন মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন দল বিশেষ করে নিবন্ধিত দল থেকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রীদের নিয়োগ দেয়া হতে পারে। ‘সর্বদলীয়’ সরকারের আদলে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন হতে পারে। দলটির থিংকট্যাংকের প্রাথমিক ভাবনায় আরও আছে, তিন মাসের এই সহায়ক সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী ছুটিতে থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী স্বপদে বহাল থেকে ছুটিতে থাকার মাধ্যমে নির্বাচন প্রভাবিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হবে। 

জানা গেছে, নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে দুই রাজনৈতিক দলের অবস্থান পরস্পরবিরোধী। একদিকে আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই নির্বাচন হবে। অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, দলীয় সরকারের অধীনে দলটি নির্বাচনে যাবে না। কোন পদ্ধতির সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে বিতর্ক জিইয়ে রেখেই দুই দল ও তাদের জোটভুক্ত দলগুলো ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ