ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

সভাপতি জয়নুল আবেদীন  সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন

 

স্টাফ রিপোর্টার : সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য (নীল) প্যানেল নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে। এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতি-সম্পাদকসহ আটটি পদে জয়লাভ করেছে নীল প্যানেলে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (সাদা) প্যানেলে একটি সহসভাপতিসহ ছয়টি পদে জয় লাভ করেছে।

নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন, সহ-সভাপতি পদে উম্মে কুলসুম বেগম রেখা, সহ-সম্পাদক পদে শামীমা সুলতানা (দীপ্তি) জয়ী হন। এ ছাড়া সদস্যপদে জয়ী হয়েছেন-শেখ তাহসিন আলী, মোহাম্মদ হাসিবুর রহমান, আয়েশা আক্তার, মৌসুমী আক্তার।

অন্যদিকে সাদা প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদে মো.অজি উল্লাহ, সহ-সম্পাদক পদে মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ পদে রফিকুল ইসলাম হিরু, সদস্যপদে-মো.হাবিবুর রহমান হাবিব, এ বি এম নূরে আলম উজ্জ্বল ও কুমার দেবুল দে জয়ী হন।

নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বিজয়ী জয়নুল আবেদীন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা। এনিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার সভাপতি নির্বাচিত হলেন। এরআগে তিনি সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক ও সহ-সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। সভাপতি পদে জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ১৯২৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেলের আবদুল মতিন খসরু এমপি পেয়েছেন ১৮৯৫ ভোট। 

সভাপতি পদে এ নিয়ে দুইবার পরাজিত আবদুল মতিন খসরু আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আইন সম্পাদক। ২০১৪-২০১৫ মেয়াদের সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনেও সভাপতি পদে আবদুল মতিন খসরু পরাজিত হয়েছিলেন নীল প্যানেলের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে। তিনি ১৯৯৬-২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমানের বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান।

সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন নীল প্যানেলের ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এই নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো সম্পাদক নির্বাচিত হলেন তিনি। মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের বর্তমান মেয়াদের নির্বাচিত সদস্য। মাহবুব উদ্দিন খোকন পেয়েছেন ১৯১৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ সমর্থিত রবিউল আলম বুদু পেয়েছেন ১৮৪৬ ভোট। রবিউল আলম বুদু বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ সুপ্রিম কোর্ট শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। তিনি এ নিয়ে তিনবার সম্পাদক পদে পরাজিত হলেন। ২০১৪-২০১৫ মেয়াদের নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হন। 

সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাদা প্যানেলের মো. অজি উল্লাহ (২৩৪৮) ও নীল প্যানেলের উম্মে কুলসুম বেগম রেখা (১৯৮০)। কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হয়েছেন সাদা প্যানেলের রফিকুল ইসলাম হিরু। তিনি পেয়েছেন ২১২৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নীল প্যানেলের এ বি এম রফিকুল ইসলাম তালুকদার রাজা পেয়েছেন ১৭৬১ ভোট।

সহ-সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নীল প্যানেলের শামীমা সুলতানা দিপ্তী (২০৫৩) ও সাদা প্যানেলের মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (১৯০৭)।

এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন-সাদা প্যানেলের মো.হাবিবুর রহমান হাবিব (২২৪২), নীল প্যানেলের শেখ তাহসিন আলী (২২১০), নীল প্যানেলের মুহাম্মদ হাসিবুর রহমান (২১১৮), নীল প্যানেলের আয়েশা আক্তার (২১১৬), সাদা প্যানেলের এ বি এম নুরে আলম উজ্জল (২০৮৪), নীল প্যানেলের মৌসুমি আক্তার (২০৪৬) ও সাদা প্যানেলের কুমার দেবুল দে (১৮৫২)।

গত বুধ ও বৃহস্পতিবার দুদিনব্যাপী সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলে। মাঝে এক ঘন্টার বিরতি ছিল। গত বহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে রাত ৮টার পর ভোট গণনা শুরু হয়। নির্বাচনে মোট পাঁচ হাজার ৮০ ভোটারের মধ্যে তিন হাজার ৯২৮ জন ভোট দিয়েছেন।

গতকাল সকাল ৭টার দিকে নির্বাচন পরিচালনা উপ কমিটির আহবায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ ওয়াই মশিহুজ্জামান নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন।

ফল ঘোষণার পর জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সভাপতি পদে জয়ী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, এই বিজয়ের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূচনা হবে। আইনের শাসন বাস্তবায়নের সামনের এক বছর আমরা সকলকে নিয়ে এগিয়ে যাব। জাতীয়তাবাদী শক্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যে পরিষদ সৃষ্টি করে দিয়েছেন তার জয় হলো। বিচার বিভাগের ওপর যাতে কেউ হস্তক্ষেপ করতে না পারে সে ব্যাপারে ভূমিকা রাখবো। কারণ আইনজীবী সমিতির দায়িত্ব হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। 

নবনির্বাচিত সম্পাদক এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাব। বিচারব্যবস্থায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি। এ বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের এ লড়াই আরো ত্বরান্বিত হবে। জাতীয় নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয়, তাহলে আমি মনে করি বিএনপি বিজয় লাভ করবে।

প্রসঙ্গত গত বছর (২০১৬-২০১৭) মেয়াদে সুপ্রিম কোর্ট বারের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে সভাপতিসহ আটটি পদে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীরা জয়ী হন। অন্যদিকে সম্পাদকসহ ছয়টিতে জয়ী হন বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা।

গত ২৩ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা বার এসোসিয়েশনের ২০১৭-১৮ কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচনেও বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত নীল প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। সভাপতি পদে মো.খোরশেদ আলম ও সাধারণ সম্পাদক পদে আজিজুল ইসলাম খান বাচ্চু সহ ২৭টি পদের মধ্যে ২১টি পদেই বিজয়ী হয়েছে নীল প্যানেল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ