ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

এবারেও তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্র অন্ধকারে রাখছেন মমতাকে

 

রাজ্যশ্রী বকসী, কলকাতা : তিস্তা চুক্তি নিয়ে মুখ খুললেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই চুক্তি নিয়ে তাঁকে অন্ধকারে রাখা হয়েছে বলে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন তিনি। সাথে বলেন, “আমার কাছে রাজ্যের স্বার্থ আগে। তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভাবছি না।”

বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে তিস্তা চুক্তি সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই কথা বলেন। সাথে তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্রের তরফে আমার সঙ্গে কোনও রকম যোগাযোগ করা হয়নি। তাই, আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাই না। কেন্দ্রীয় সরকার নিজের মতো কাজ করছে। গোটা বিষয়টি না জেনে আমি মন্তব্য করতে পারি না।”

আগামী মাসে অতিথি হিসেবে ভারতে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখনই তিস্তা চুক্তি হতে পারে বলে খবর এখন নানা সূত্রের। আর ঠিক এই সময়েই ভিন্ন সুরে কথা বললেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে চাষাবাদের একটা বড় অংশই তিস্তার পানির উপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় উপিএ সরকারের আমলে প্রথম তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১১ সালে ঢাকা সফরে গিয়ে সেই চুক্তি সম্পাদন করার কথা থাকলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাননি বলে তা তখনকার মতো বাতিল হয়ে যায়। রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই তিস্তা চুক্তি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেছিলেন তখন মমতা। 

কেন্দ্রে সরকার বদলের পর ২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশ সফরে যান রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে সায় দেন তিনি। অবশ্য তখন তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গ তোলেননি তিনি। ২০১৭তে এবারও মুখ্যমন্ত্রী আগে থেকেই বলে দিয়েছেন, “মোদি সরকার আমাকে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে কিছু জানায়নি। আমার কাছে রাজ্যের স্বার্থ আগে।”

মমতা বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানান যে, “আমি শুনেছি ২৫ মে দু’দেশের মধ্যে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন হবে। এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। আমার কাছে কোনও তথ্যও নেই।”

সেইসঙ্গে এটাও তিনি জানিয়ে দেন, “আমি রাজ্যের স্বার্থের কথা আগে ভাবব। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। যতখানি পারব ততখানি ওদের সাহায্য করব। কিন্তু, রাজ্যের স্বার্থের কথাটা আমাকে ভাবতেই হবে।” 

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক খুব ভালো। নাহলে এত তাড়াতাড়ি ছিটমহল ইস্যুর সমাধান  হলো কী করে? ৬৬ বছর ধরে যে সমস্যার কেউ সমাধান করতে পারেনি। কিন্তু, এই ইস্যু নিয়ে আমাকে রাজ্যের স্বার্থের কথা ভাবতেই হবে।” 

রাজনৈতিক মহলের মতে বিজেপির সাথে বর্তমানে বেশ কিছুদিন ধরে চলা সঙ্ঘাতের জেরেই মমতার এই দ্বিচারিতা। তবে এতে আখেরে কিন্তু লোকশান সেই বাংলাদেশেরই। তিস্তার সঠিক পানিবণ্টন না হবার ফলে প্রতিনিয়ত যে সমস্যায় তাদের পড়তে হচ্ছে তার আদৌ কোন সুরাহা হয়ে উঠছে না। আর কোন সুরাহা কি হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগামী ভারত সফরে? বৃহস্পতিবার কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতামতে সেই প্রশ্ন চিহ্নই সামনে আসল আরও একবার!

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ