ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

পাবনায় দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম

 

পাবনা সংবাদদাতা : দেশের অন্যতম বৃহৎ মোকাম পাবনার বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে চালের দাম। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। মিল মালিক ও কৃষি বিভাগের দাবি, অসাধু মজুমদাররা ধান মজুদ করে রাখায় বেড়েছে চালের দাম। মিল মালিকদের সূত্রে জানাযায় পাবনার ঈশ্বরদীতে ছোট-বড় মিলিয়ে চালকল রয়েছে প্রায় ৭০০। এখানকার উৎপাদিত চাল বাজারজাত করা হয় রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে। কৃষকের গোলায় মজুত ধান শেষের পথে উল্লেখ করে মিল মালিকরা বলছেন, এখন তাদের বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে মজুদদারদের কাছ থেকে। আর তাতে প্রভাব পড়ছে চালের ওপর ফলে বেশ কদিন ধরে বাড়ছে চালের দাম। চালের এই অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছে নি¤œ আয়ের ভোক্তারা। সদর উপজেলা রামচন্দ্রপুর গ্রামের জাকির হোসেন খোকন এই প্রতিনিধিকে বলেন আগে যে চালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৮ টাকা, তা এখন কিনতে হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৫ টাকায়। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ফলে বিকল্প ভাবছেন তারা। মিয়িাপাড়া গ্রামের দিনমজুর শরিয়াত হোসেন এই প্রতিনিধিকে বলেন এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী। এখন আবার চাউলের দাম বেড়েই চলছে। দিনের রুজিতে চাল কিনতে প্রভাব পড়ছে পাবনার খুচরা বাজারে চাল ব্যবসায়ী মালিক বিশ্বাস পাবনা এই প্রতিনিধিকে বলেন, চিকন ও মোটা চালের অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের বিকিকিনি কমে গেছে। চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ধানের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছেন ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম রিংকু। তার ভাষ্য, ধানের দাম বাড়ছে প্রতিদিন। বেশি দামে ধান কিনে তা ভাঙিয়ে বাজারজাত করার কারণে চালের দামও বেড়ে যাচ্ছে। ঈশ্বরদী চাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও খায়রুল এগ্রো ফুড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী খায়রুল ইসলাম, বলেন কৃষকের গোলায় মজুদ রাখা ধান প্রায় শেষের দিকে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ধান মজুদ করে রাখায় ধানের বাজার বেড়েছে। কৃত্রিম এই সংকট নিরসনে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন মিলে ও বাজারে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তারা। তবে মজুদদারদের কারসাজির পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের কোনো নজরদারি না থাকায় চালের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন কনজ্যুমার অ্যার্সোসয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) পাবনা জেলা শাখা সভাপতি এ বি এম ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, অসাধু মজুদদারদের ধান মজুদ করায় চালের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ব্যাপারে বাজারে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

চালের বাজার সহনশীল রাখতে খাদ্য বিভাগের খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম নিয়মিত চালু রাখার দাবি জানান ভোক্তারা। পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক বিভূতিভূষণ সরকার বলেন, কিছু মজুদদার ধান মজুদ করে রাখায় বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়, এতে ধানের দাম বেড়ে গেলে চালের মূল্যও বৃদ্ধি পায়। বিভূতিভূষণ সরকার এই প্রতিনিধিকে জানান, পাবনা জেলার ৯টি উপজেলায় ৫৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ধান চাষ হয়। জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হয় এখানকার চাল ও ধান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ