ঢাকা, শনিবার 25 March 2017, ১১ চৈত্র ১৪২৩, ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

বছরজুড়ে বই পড়ার জন্য পুরস্কার পেল  খুলনার সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী

 

খুলনা অফিস : ‘আলোকিত মানুষ চাই’ এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে বই পড়ে নিজেদের আলোকিত করার প্রত্যয় যাদের বুকে তেমন সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণায় গতকাল শুক্রবার সকাল থেকেই মুখর ছিল খুলনার সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। মুখে হাসি, চোখে আত্মবিশ্বাস আর হৃদয় ভরা আলো। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই পড়া কর্মসূচির সদস্য তারা। সারা বছর বই পড়েছে। তারপর মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সেই মূল্যায়নে সাফল্যের জন্য আজ তাদের পুরস্কৃত করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন।

শুক্রবার সকাল নয়টায় এই পুরস্কার বিতরণ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। এই উৎসবে খুলনা মহানগরীর ৪১টি স্কুলের তিন হাজার ৫৪৩ জন শিক্ষার্থীকে দুই পর্বে পুরস্কার দেয়া হয়। সরকারি ল্যাবরেটরী হাই স্কুলের পুরস্কার বিজয়ী ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেজাবিন আজমীর পায়েল বলে ‘আমি বই পড়ি নিজের আনন্দের জন্য’। আজকের পুরস্কার পেয়ে এই আনন্দ বহুগুণে বেড়ে গেছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন আমাদের অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করবে। মিসেস শ্যামলী আক্তার অভিভাবক হিসেবে এসেছিলেন শিরোমণি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রীর সাথে। স্কুলের টেক্সটবইয়ের চাপেই যখন অনেক শিক্ষার্থী এবং বাবা-মা’রা উদ্বিগ্ন সেখানে নিজের সন্তানকে অন্যান্য বই পড়তে দেয়ার ফলে তাদের পড়ালেখায় কী রকম প্রভাব পড়েছিল এই প্রশ্ন করায় তিনি বলেন-‘বইপড়া অব্যশ্যই একটি ভাল অভ্যাস। স্কুলের পড়ালেখার পাশাপাশি বই না পড়লে ছাত্রছাত্রীরা অনেক পিছিয়ে থাকবে। এখন সৃজনশীল পদ্ধতির ফলে স্কুলের পাঠ্যবইয়ের বাইরে পড়ার অভ্যাস না থাকলে ছাত্রছাত্ররীরা কিছুই বুঝবেনা, লিখতেও পারবে না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই বইপড়ার উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া উচিত।

উৎসবে অতিথিদের মধ্যে যাঁরা উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব খায়রুল আলম সবুজ, খুলনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. ফারুক হোসেন, খুলনা জেলার জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান, যুগ্ম সচিব ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, উপসচিব মো. নজরুল ইসলাম, খুলনার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রুহুল আমীন, সরকারি করোনেশন মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা লায়লা আরজুমান, গ্রামীণফোনের খুলনা সার্কেলের প্রধান মানব সম্পদ কর্মকর্তা মো. রায়হান জহির টুটুল এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক ও উপসচিব শরিফ মো. মাসুদ। 

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে খুলনা মহানগরীর ৪১টি স্কুলের প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের গল্প শুনে তাঁদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা বইপড়ার বিষয়ে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শরিফ মো. মাসুদ স্বাগত বক্তব্যে পুরো বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচি সফলভাবে পরিচালনায় সহায়তা করায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সংগঠক ও পৃষ্ঠপোষকদের ধন্যবাদ জানান। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এই পথ চলায় সকলের সহযোগিতা উত্তরোত্তর আরো প্রসারিত হবে এবং আগামী বছর এই বইপড়া কর্মসূচির সদস্য সংখ্যা আরো উন্নীত হবার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির ডেপুটি টিম লিডার প্রোগ্রাম মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।

উল্লেখ্য, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় সারাদেশে প্রায় ২ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বইপড়া কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর স্কুলসমূহের বিজয়ী ছাত্রছাত্রীকে বর্ণাঢ্য উৎসব মুখর পরিবেশে পুরস্কার প্রদান করা হয়। পাঁচটি মহানগরীর বাইরে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরস্কার স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক আয়োজনের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ