ঢাকা, মঙ্গলবার 28 March 2017, ১৪ চৈত্র ১৪২৩, ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৩৮ হিজরী
Online Edition

আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলন : কিছু সিদ্ধান্ত

গত সপ্তাহে দেশের বাইরে থাকার কারণে পাঠকদের সামনে হাজির হতে পারিনি বলে দুঃখিত। ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক সিকিউরিটি অফ মালয়েশিয়া (ইপসম), ঐ দেশের আমল ফাউন্ডেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর রিলিফ এন্ড ডেভেলপমেন্ট-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত The plight of the Rohingya : searchings for solutions শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং International Foundation for Relief and Development (IFRD)-এর দ্বিতীয় বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগদানের জন্য ১৪ই মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত মালয়েশিয়াতে ছিলাম। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পুত্রজায়ায় ম্যারিয়ট হোটেলে ১৪ থেকে ১৬ই মার্চ পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার এবং তাদের পুনর্বাসন সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ ও সুপারিশ প্রণয়নের জন্য এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্বের ৪৫টি দেশ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংক্রান্ত হাইকমিশন, ওআইসি এবং ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব মুসলিম স্কলারস-এর ২৪৩ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।
সম্মেলনটি কুরআন তেলাওয়াত ও মালয়েশিয়ান জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে ওয়াইএন রাজা দাতো ইদ্রিস বিন রাজা কামারুদ্দিন-এর সঞ্চালায় শুরু হয় এবং এতে আমল ফাউন্ডেশন ও আইএফআরডি’র সভাপতি হাজী হোসেইন বিন ইসমাঈল স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এতে যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নেতা তুনখিন, কালাধান প্রেস নেওটওয়ার্কের নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ তাহের ওরফে টিন শো (Tin Soe), জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত হাইকমিশনের প্রতিনিধি রিচার্ড টাউনি যথাক্রমে  ‘Rohingya, History and Reality’ : `Myanmar Pushing for racial requality in Myanmar’; ‘Challenges and way forward in handling Rohingya Refugees in Malysia; ওআইসি’র বিশেষ প্রতিনিধি তানশ্রী দাতুক শেরী সাইয়েদ হামিদ আলবার সাইয়েদ জাফর, ‘The Plight of Rohingya : OIC Perspective’ : আশিয়ানের দ্বাদশ মহাসচিব ড. মুরীন পিটচুয়ান ‘ASEAN Perspectives on the unresolved problems of Rohingyan : Stateless, Illegal Migrants and Human Trafficking’ : এবং বাংলাদেশের একটি মানবাধিকার ও বেসরকারি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধি ঠেংগারচর দ্বীপে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের সম্ভাব্যতা এবং মুসলিম স্কলারদের আন্তর্জাতিক ইউনিয়নের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল জনাব গাফফার আজিজ Islamophobia : Perception or reality শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
প্রত্যেকটি প্রবন্ধেই রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এবং বৌদ্ধ ভিক্ষু ও স্থানীয় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অত্যাচার-নির্যাতনের নির্মম কাহিনী তুলে ধরা হয় এবং তাদের তাৎক্ষণিক সাহায্য প্রদান, স্বল্প ও মধ্য মেয়াদী এবং স্থায়ী পুনর্বাসন ও নাগরিকত্ব প্রত্যার্পণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রবন্ধ উপস্থাপনের পর প্রশ্নোত্তর অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় এবং তারপর ব্রেকআউট সেশনের জন্য অংশগ্রহণকারীদের ৭টি দলে বিভক্ত করে দেয়া হয়। তারা আলাদা আলাদাভাবে রোহিঙ্গা মুসলমানদের সমস্যাবলী চিহ্নিত করে তার সমাধানের সুপারিশ পেশ করেন। এরপর তারা মূল অধিবেশনে সুপারিশমালা নিয়ে আলোচনা করেন। এই অধিবেশনে মালয়েশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচারকে বিশ্বের নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় বলে অভিহিত করেন এবং তাদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন। মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী মুসলিম দেশসমূহের নিস্ক্রিয়তার নিন্দা জানান। উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতোশেরি ড. আহমেদ জাহিদ হামিদি মুসলিম দেশসমূহের নিস্ক্রিয়তাকে কাপুরুষতার সাথে তুলনা করেন এবং বিশ্ববিজয়ী আলেকজান্ডারের উদ্ধৃতি দিয়ে তাদের জেগে উঠার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য যে, আলেকজান্ডার বলেছিলেন, ‘I am not afraid of an army of lions led by sheep but I am afraid of an army of sheep led by a lion.’ তিনি বিশ্বের শত শত কোটি মুসলমানের নিষ্ক্রিয়তার জন্য নেতৃত্বহীনতাকে দায়ী করেন এবং দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, সাহসী, ঈমানদার ও যোগ্য নেতৃত্ব পেলে এই মুসলমানরা জেগে উঠতে পারে এবং সেক্ষেত্রে মুসলিমবিরোধী শক্তি পালানোর জায়গা পাবে না।
উপস্থিত অভ্যাগত অতিথি এবং সম্মেলনে যোগদানকারী প্রতিনিধিবর্গ করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান। কোন কোন বক্তা জাতিসংঘ এবং ওআইসির নিষ্ক্রিয়তাকে রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেন। তাদের ভাষায় এই দুটি প্রতিষ্ঠান যদি সক্রিয় হতো এবং মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতো তাহলে কিছুতেই ঐ সরকার রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর অত্যাচার নিপীড়ন চালানো এবং তাদের পূর্ব পুরুষদের ভিটেমাটি থেকে তাদের উৎখাত করার সাহস পেত না। কোন কোন প্রতিনিধি এই প্রশ্নও তোলেন যে, বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠন করেছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের প্রেরণ করে শান্তিরক্ষার চেষ্টা করছে। তারা প্রশ্ন করেন, মিয়ানমারের সামরিক সরকার ও বেসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরীহ মুসলমানদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন চালিয়ে যে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের নিকৃষ্টতম উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তার প্রতিবিধানের জন্যে কেন জাতিসংঘ কোনো শান্তিরক্ষী বাহিনী সে দেশে প্রেরণ করেনি? তারা অং সান সু চি’র নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়েও প্রশ্নে তোলেন। তারা বলেন যে, তাকে মূলত মানবাধিকার রক্ষার একজন ধারক-বাহক হিসেবেই এই পুরস্কার দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ও তার দল ও সরকার ক্ষমতায় গিয়ে নিজ দেশে মানবাধিকারের বুকেই প্রথম লাথি মেরেছেন। এই প্রেক্ষিতে তার এই পুরস্কার প্রত্যাহার করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট নোবেল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। মিয়ানমারের শাসন ব্যবস্থা এবং দেশটির সরকারের অতীত ও বর্তমান আচরণ বিশ্লেষণ করে সম্মেলনের পক্ষ থেকে অভিমত প্রকাশ করা হয় যে, এই দেশটি তার স্বাধীনতার পর থেকে কখনো মানুষের গণতান্ত্রিক এবং মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেনি বরং এই অধিকারসমূহকে পদদলিত করার জন্য সর্বদা শাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করেছে। তার সামরিক বাহিনী মানুষকে নিরাপত্তা দেয়ার পরিবর্তে তা হরণও নস্যাৎ করেছে। দেশটির এই আচরণের জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জাতিসমূহের সংস্থা আশিয়ানের সদস্যপদ প্রথমত: তাদের দেয়া হয়নি এবং সদস্যপদ প্রাপ্তির জন্য তাদের আচরণ পরিবর্তনের শর্ত আরোপ করা হয়। তারা গণতান্ত্রিক ও মানুষের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতিশ্রুতি দেন এবং এই অবস্থায় তাদের সদস্য পদ মঞ্জুর করা হয়। সদস্যপদ প্রাপ্তির দীর্ঘদিন পরও তারা আসিয়ানের মূলনীতিগুলো বাস্তবায়ন করেনি। তা সত্ত্বেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কথা চিন্তা করে কয়েকটি দেশের অনুরোধে আসিয়ান তার অবস্থানে কৌশলগত পরিবর্তন আনে এবং তাকে সদস্যপদের পূর্র্ণ মর্যাদা প্রদান করে। দেশটি তার জাতীয় নীতিতে কিছু পরিবর্তনের আভাস দেয় এবং প্রথমবারের মতো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির সরকার গঠন করার পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু এখানেও দেশটির সামরিক বাহিনী মূল কর্তৃত্ব তাদের হাতে রেখে দেয়। তারা রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে তাদের অত্যাচারের প্রথম ও নিকৃষ্টতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন সবকিছু বিবেচনা করে সর্বমোট ৭০টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং এগুলোর মধ্য থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করার জন্য ১৪টি সিদ্ধান্ত বাছাই করে নেয়। এগুলো হচ্ছে নি¤œরূপ: 
(১) রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিশ্চিত করার জন্য এই সম্মেলন সারা বিশ্ব থেকে বাছাই করা কয়েকটি এনজিও নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমল ফাউন্ডেশন ও আইএফআরডি মালয়েশিয়ান সরকারের সহযোগিতায় সম্মেলনে এনজিওগুলোর মধ্য থেকে সক্রিয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করবে এবং গ্রুপ অবিলম্বে মিয়ানমার সফর করে তাদের কাজ শুরু করবে।
এ ব্যাপারে জাতিসংঘ উদ্বাস্তু সংক্রান্ত হাইকমিশন এবং ওআইসি’র সহযোগিতাও নিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠান দু’টি ওয়ার্কিং গ্রুপে তাদের প্রতিনিধিও মনোনয়ন  দেবে।
২। যে সমস্ত দেশে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু রয়েছেন জাতিসংঘের উদ্বাস্তু সংক্রান্ত হাইকমিশনার তাদের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবেন।
৩। পত্র-পত্রিকা ও অন্যান্য গণমাধ্যমের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যাটি বিশ্ব জনমতের নিকট তুলে ধরা হবে।
৪। রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সরকারের অত্যাচার অবিচার এবং তাদের মানবিক বিপর্যয়কে ভিত্তি করে একটি তথ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হবে।
৫। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হবে।
৬। এই সম্মেলন রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বিশেষ করে তাদের দুর্দশা লাঘবের লক্ষ্যে আসিয়ানভুক্ত দেশসমূহের তৎপরতা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে নীতি ও আচরণ পরিবর্তনের জন্য মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
৭। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী যাতে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তাদের নির্যাতনমূলক কার্যক্রম বন্ধ করে তার জন্য আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে তাদের সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো বিশেষ করে তারা যাতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সাথে কার্যকর যোগাযোগ রক্ষা করে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।
৮। এই সম্মেলন মানবপাচার বন্ধের লক্ষ্যে আসিয়ান দেশসমূহকে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করার জন্যও অনুরোধ করছে।
৯। রাষ্ট্রহীনতা, নৈরাজ্য এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকার অস্বীকারসহ রোহিঙ্গাদের ব্যাপকহারে দেশ ত্যাগের মূল কারণসমূহের প্রতি এই সম্মেলন আসন্ন বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের দৃৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
১০। উদ্বাস্তু ও মুহাজিরদের স্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরির খসড়া প্রণয়নকালে রোহিঙ্গাদের দুর্দশাকে সামনে রাখার জন্যও এই সম্মেলন বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদের (Word health assembly) প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।
১১। এই সম্মেলন প্রাথমিকভাবে ও আইসি দেশসমূহের অর্থায়নে রোহিঙ্গাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিশেষ একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করছে।
১২। এই সম্মেলন মনে করে যে, রোহিঙ্গারা অত্যন্ত নির্যাতিত এবং অর্থনৈতিভাবে পর্যুদস্ত। তাদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তাদের জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা সৃষ্টি করা দরকার। এ ব্যাপারে মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ এবং এ সব দেশের বেসরকারি সংস্থাসমূহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
১৩। এই সম্মেলন প্রতিভাবান রোহিঙ্গা ছাত্রদের লেখা পড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক বৃত্তির ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।
১৪। এই সম্মেলন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ত্রাণসামগ্রী বহন ও বিতরণ এবং ত্রাণ কর্মীেিদর সেই দেশে আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা বিধানের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ